ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে Logo গ্রাম আদালতে বাড়ছে অভিযোগ স্বল্প খরচে ন্যায় বিচার পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ Logo ধর্মীয় ভিত্তিতে হিন্দু মুসলিম আলাদা করা যাবে না- আলি আসগার লবি Logo সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন Logo শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা Logo বগুড়ায় মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ এর ক্রাউন সিমেন্ট রিটেইল মিট প্রোগ্রাম ও বার্ষিক পুনর্মিলনী Logo বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনাধিন সম্পূর্ণ প্লাষ্টিক দুষণমুক্ত পার্কটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দশনার্র্থীদের আগমণ ভ্রমণপ্রেমীদের নিরিবিলি পর্যটনস্পট হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে Logo দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও Logo নানা আয়োজনে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo বালিয়াকান্দিতে অনির্বাণ স্মার্ট একাডেমীর উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান

দায়িত্ব এড়াতে বাথরুমে গিয়ে বসে থাকায় বাড়ছে দাম্পত্যে অশান্তি

বাথরুমে যাওয়ার নাম করে দরজা বন্ধ। হাতে মোবাইল, তারপর একের পর এক রিলস, ভিডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রলিং। এদিকে রান্না, ঘর গোছানো, সন্তানের দেখাশোনা কিংবা অন্য জরুরি কাজের চাপে সঙ্গী প্রায় দিশেহারা। অথচ বাথরুম থেকে বের হওয়ার নামই নেই! অনেকের কাছে এটি নিছক ব্যক্তিগত অভ্যাস হলেও দাম্পত্য সম্পর্কে তৈরি করতে পারে বিরক্তি, ক্ষোভ আর দূরত্ব।
সামাজিক মাধ্যমে এমন আচরণ নিয়েই আলোচনায় এসেছে নতুন একটি শব্দ-‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ । কিন্তু বাথরুমে দীর্ঘ সময় কাটানো কীভাবে হয়ে উঠতে পারে দাম্পত্যের অশান্তির কারণ?
‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ কথাটি দিয়ে সাধারণত এমন পরিস্থিতি বোঝানো হচ্ছে, যেখানে কেউ শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ঘরের কাজ বা পারিবারিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন। বিশেষ করে সঙ্গী যখন রান্না, সন্তানের যতœ কিংবা ঘর সামলানোর মতো কাজে ব্যস্ত, তখন অন্যজন দীর্ঘ সময় বাথরুমে কাটালে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এ নিয়ে আলোচনায় অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। তাদের অভিযোগ, ঘরের কোনো কাজের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এলেই সঙ্গীর বাথরুমে যাওয়ার তাড়া পড়ে। কখনো পেটের সমস্যা, কখনো দীর্ঘ সময় বাথরুমের প্রয়োজনের কথা বলা হয়। আর সেই ফাঁকে মোবাইল ফোনে চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রলিং।
সম্পর্কের ভারসাম্য প্রশ্নে
একটি সংসার চালাতে শুধু অর্থ উপার্জনই নয়, ঘরের কাজ, সন্তানের দেখাশোনা এবং পরিবারের নানা দায়িত্বও ভাগ করে নিতে হয়। কিন্তু একজন যদি নিয়মিত কাজের সময় অনুপস্থিত থাকেন, অন্যজনের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
সমস্যাটি শুধু কাজের পরিমাণে সীমাবদ্ধ থাকে না। যে সঙ্গী একা সব সামলাচ্ছেন, তার মনে হতে পারে, তার পরিশ্রমের কোনও মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তির আচরণকে তিনি অসম্মান বা অবহেলা হিসেবেও দেখতে পারেন। এভাবে ছোট একটি অভ্যাস থেকে জমতে পারে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।
আবার অনেকের কাছে বাথরুম হয়ে ওঠে দিনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ কিংবা পারিবারিক কথাকাটাকাটি থেকে সাময়িক দূরে থাকার জায়গা। নিজের জন্য কিছুটা সময় চাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই সময় পাওয়ার জন্য সঙ্গীকে একা সব দায়িত্ব সামলাতে বাধ্য করলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
কমোডে বসে ফোন ঘাঁটাঘাঁটি, শরীরেরও ক্ষতি
দীর্ঘ সময় শৌচাগারে বসে মোবাইল ব্যবহার করার অভ্যাস শুধু সম্পর্কের সমস্যা নয়, শারীরিক অস্বস্তির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘক্ষণ কমোডে বসে থাকা এবং অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ করার অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এতে অর্শ বা পাইলসের সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা আগে থেকে থাকা উপসর্গ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ফোনে মনোযোগ থাকলে অনেকেই খেয়াল করেন না, কতক্ষণ ধরে বসে আছেন। ফলে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও অকারণে সময় কাটতে থাকে। তাই শৌচাগারে ফোন নিয়ে না যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন শেষ হলে উঠে আসাই ভালো। নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্যথা বা রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অশান্তি এড়াতে যা করবেন
দাম্পত্যে ব্যক্তিগত সময়ের প্রয়োজন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই জরুরি পারস্পরিক সহযোগিতা। কাজের চাপ বেশি থাকলে বা কিছুক্ষণ একা থাকতে ইচ্ছা করলে সঙ্গীকে সরাসরি তা জানানো যেতে পারে। এতে অজুহাত তৈরি করার প্রয়োজন হয় না, ভুল বোঝাবুঝিও কমে।
একই সঙ্গে ঘরের কাজ ও সন্তানের দায়িত্ব কে কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে স্পষ্ট বোঝাপড়া থাকা দরকার। একজনের বিশ্রামের প্রয়োজন হলে অন্যজন সহযোগিতা করবেন, আবার দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে পরস্পরের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ সমাজমাধ্যমে আলোচিত একটি শব্দ হলেও এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে সম্পর্কের পরিচিত একটি সমস্যা-দায়িত্ব ভাগ করে না নেওয়া। বাথরুমে কিছুটা সময় কাটানো নিজে কোনও অপরাধ নয়।
কিন্তু সেই সময় যদি বারবার সঙ্গীর ওপর কাজের চাপ বাড়ায়, তবে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। কারণ সুস্থ দাম্পত্যে ব্যক্তিগত পরিসরের পাশাপাশি প্রয়োজন সমান দায়িত্ববোধ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান।
সূত্র: মেড ইন্ডিয়া, মিডিয়াম ও অন্যান্য

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

দায়িত্ব এড়াতে বাথরুমে গিয়ে বসে থাকায় বাড়ছে দাম্পত্যে অশান্তি

আপডেট সময় ০৬:২৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বাথরুমে যাওয়ার নাম করে দরজা বন্ধ। হাতে মোবাইল, তারপর একের পর এক রিলস, ভিডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রলিং। এদিকে রান্না, ঘর গোছানো, সন্তানের দেখাশোনা কিংবা অন্য জরুরি কাজের চাপে সঙ্গী প্রায় দিশেহারা। অথচ বাথরুম থেকে বের হওয়ার নামই নেই! অনেকের কাছে এটি নিছক ব্যক্তিগত অভ্যাস হলেও দাম্পত্য সম্পর্কে তৈরি করতে পারে বিরক্তি, ক্ষোভ আর দূরত্ব।
সামাজিক মাধ্যমে এমন আচরণ নিয়েই আলোচনায় এসেছে নতুন একটি শব্দ-‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ । কিন্তু বাথরুমে দীর্ঘ সময় কাটানো কীভাবে হয়ে উঠতে পারে দাম্পত্যের অশান্তির কারণ?
‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ কথাটি দিয়ে সাধারণত এমন পরিস্থিতি বোঝানো হচ্ছে, যেখানে কেউ শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ঘরের কাজ বা পারিবারিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন। বিশেষ করে সঙ্গী যখন রান্না, সন্তানের যতœ কিংবা ঘর সামলানোর মতো কাজে ব্যস্ত, তখন অন্যজন দীর্ঘ সময় বাথরুমে কাটালে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এ নিয়ে আলোচনায় অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। তাদের অভিযোগ, ঘরের কোনো কাজের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এলেই সঙ্গীর বাথরুমে যাওয়ার তাড়া পড়ে। কখনো পেটের সমস্যা, কখনো দীর্ঘ সময় বাথরুমের প্রয়োজনের কথা বলা হয়। আর সেই ফাঁকে মোবাইল ফোনে চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রলিং।
সম্পর্কের ভারসাম্য প্রশ্নে
একটি সংসার চালাতে শুধু অর্থ উপার্জনই নয়, ঘরের কাজ, সন্তানের দেখাশোনা এবং পরিবারের নানা দায়িত্বও ভাগ করে নিতে হয়। কিন্তু একজন যদি নিয়মিত কাজের সময় অনুপস্থিত থাকেন, অন্যজনের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
সমস্যাটি শুধু কাজের পরিমাণে সীমাবদ্ধ থাকে না। যে সঙ্গী একা সব সামলাচ্ছেন, তার মনে হতে পারে, তার পরিশ্রমের কোনও মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তির আচরণকে তিনি অসম্মান বা অবহেলা হিসেবেও দেখতে পারেন। এভাবে ছোট একটি অভ্যাস থেকে জমতে পারে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।
আবার অনেকের কাছে বাথরুম হয়ে ওঠে দিনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ কিংবা পারিবারিক কথাকাটাকাটি থেকে সাময়িক দূরে থাকার জায়গা। নিজের জন্য কিছুটা সময় চাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই সময় পাওয়ার জন্য সঙ্গীকে একা সব দায়িত্ব সামলাতে বাধ্য করলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
কমোডে বসে ফোন ঘাঁটাঘাঁটি, শরীরেরও ক্ষতি
দীর্ঘ সময় শৌচাগারে বসে মোবাইল ব্যবহার করার অভ্যাস শুধু সম্পর্কের সমস্যা নয়, শারীরিক অস্বস্তির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘক্ষণ কমোডে বসে থাকা এবং অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ করার অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এতে অর্শ বা পাইলসের সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা আগে থেকে থাকা উপসর্গ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ফোনে মনোযোগ থাকলে অনেকেই খেয়াল করেন না, কতক্ষণ ধরে বসে আছেন। ফলে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও অকারণে সময় কাটতে থাকে। তাই শৌচাগারে ফোন নিয়ে না যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন শেষ হলে উঠে আসাই ভালো। নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্যথা বা রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অশান্তি এড়াতে যা করবেন
দাম্পত্যে ব্যক্তিগত সময়ের প্রয়োজন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই জরুরি পারস্পরিক সহযোগিতা। কাজের চাপ বেশি থাকলে বা কিছুক্ষণ একা থাকতে ইচ্ছা করলে সঙ্গীকে সরাসরি তা জানানো যেতে পারে। এতে অজুহাত তৈরি করার প্রয়োজন হয় না, ভুল বোঝাবুঝিও কমে।
একই সঙ্গে ঘরের কাজ ও সন্তানের দায়িত্ব কে কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে স্পষ্ট বোঝাপড়া থাকা দরকার। একজনের বিশ্রামের প্রয়োজন হলে অন্যজন সহযোগিতা করবেন, আবার দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে পরস্পরের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ সমাজমাধ্যমে আলোচিত একটি শব্দ হলেও এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে সম্পর্কের পরিচিত একটি সমস্যা-দায়িত্ব ভাগ করে না নেওয়া। বাথরুমে কিছুটা সময় কাটানো নিজে কোনও অপরাধ নয়।
কিন্তু সেই সময় যদি বারবার সঙ্গীর ওপর কাজের চাপ বাড়ায়, তবে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। কারণ সুস্থ দাম্পত্যে ব্যক্তিগত পরিসরের পাশাপাশি প্রয়োজন সমান দায়িত্ববোধ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান।
সূত্র: মেড ইন্ডিয়া, মিডিয়াম ও অন্যান্য