ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে Logo গ্রাম আদালতে বাড়ছে অভিযোগ স্বল্প খরচে ন্যায় বিচার পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ Logo ধর্মীয় ভিত্তিতে হিন্দু মুসলিম আলাদা করা যাবে না- আলি আসগার লবি Logo সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন Logo শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা Logo বগুড়ায় মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ এর ক্রাউন সিমেন্ট রিটেইল মিট প্রোগ্রাম ও বার্ষিক পুনর্মিলনী Logo বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনাধিন সম্পূর্ণ প্লাষ্টিক দুষণমুক্ত পার্কটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দশনার্র্থীদের আগমণ ভ্রমণপ্রেমীদের নিরিবিলি পর্যটনস্পট হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে Logo দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও Logo নানা আয়োজনে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo বালিয়াকান্দিতে অনির্বাণ স্মার্ট একাডেমীর উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান

ঝামেলা ছাড়া ছোট মাছ পরিষ্কার করবেন যেভাবে

ছোট মাছ খেতে ভালোবাসেন, কিন্তু আঁশ পরিষ্কার করার ঝামেলায় কিনতে চান না? পুঁটি,মলা, কাঁচকি কিংবা চাঁদা মাছের আঁশ ছাড়াতে গিয়ে অনেকেরই সময় লেগে যায়। তার ওপর মাছ ধরতে গিয়ে কাঁটা ফোটার ভয় তো রয়েছেই!
একেকটি মাছ ধরে আঁশ ছাড়াতে ছাড়াতে কখন যে অনেকটা সময় চলে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। তবে কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে এই কাজ অনেকটাই সহজ হতে পারে। ঘরে থাকা কয়েকটি উপকরণ আর সঠিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ছোট মাছ পরিষ্কারের ঝামেলা কমানো যায়।
ভিনিগার ও আটা দিয়ে আঁশ ছাড়ানো
বাজার থেকে কিনে আনা মাছ ভিনিগার আর পানির মিশ্রণে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে আঁশ নরম হয়ে যাবে। এরপর ছুরি দিয়ে মাছের পিঠে ঘষলেই সব আঁশ উঠে আসবে। মাছের উপর সামান্য আটা ছড়িয়ে নিতে পারেন। এতে মাছ হাত থেকে পিছলে যাবে না। সেই সঙ্গে আঁশ ছাড়ানোও সহজ হবে। মাছ পরিষ্কারের পর নিরাপদ পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
লবণ মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন
ছোট মাছ পরিষ্কারের আগে অল্প সময় লবণ মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে মাছের আঁশ নরম হয়ে যায়, সহজে বেরিয়ে আসে। ছুরি সবসময় লেজ থেকে মাথার দিকে চালিয়ে আঁশ ছাড়াতে হয়। আঁশ ছাড়াতে ১০ ইঞ্চির ছুরি ব্যবহার করুন। এই ছুরি অনেক বেশি ধারালো হয়। মাছের আঁশ ছাড়ানোর সময় লেজের দিক থেকে মাথার দিকে না ঘষে, আঁশ যেদিকে উঠে আসে তার বিপরীত দিকে আলতো করে ঘষুন।
স্টিলের চামচ দিয়ে আঁশ ছাড়ানো
অনেকেই কয়েন বা ঝিনুকের খোল দিয়ে আঁশ ছাড়ান। এতেও কিন্তু অনেক দ্রুত আঁশ ছাড়ানো যায়। মাছের আঁশ ছাড়াতেস্টিলের চামচ অথবা বাটি ব্যবহার করুন। মাছের লেজের দিক শক্ত করে ধরে মাথার দিকে চামচের ধার দিয়ে ঘষলে এক সেকেন্ডেই সব আঁশ উঠে আসবে। তবে এগুলো থেকে হাত কেটে যাওয়া বা ক্ষতিকর উপাদান মাছের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে।
চালের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে পরিষ্কার
পুঁটি মাছের আঁশ ঝটপট পরিষ্কার করা যায়। একসঙ্গে বেশি করে চাল বা আঁটা কিনলে বড় প্লাস্টিকের বস্তায় দেওয়া হয়। এই বস্তার একদিকে মাছগুলো রাখুন, বস্তার অন্যদিকটা মুড়িয়ে সেটা দিয়ে মাছগুলো ঘষে নিন। দেখবেন, সব আঁশ নিমেষে উঠে আসবে। আঁশ ছাড়ানোর পর মাছগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
প্লাস্টিকের ঝুড়িতে মলা মাছ পরিষ্কার
ছোট মলা মাছ পরিষ্কার করার সময় ছিদ্রযুক্ত পরিষ্কার ঝুড়ি কাজে লাগতে পারে। মাছগুলো ঝুড়িতে নিয়ে আলতোভাবে নাড়াচাড়া করুন, যাতে আলগা আঁশ ঝরে পড়ে। তবে ঝুড়ির ছিদ্রে মাছ আটকে গেলে জোর করে টানবেন না। এরপর পরিষ্কার পানিতে মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
চাঁদা মাছ পরিষ্কার করা
চাঁদা মাছের আঁশ ছাড়াতে উপযুক্ত মাছ পরিষ্কারের কাঁচি ব্যবহার করা যায়। আঁশ আলতোভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে পাখনা ও লেজ প্রয়োজনমতো ছেঁটে নিন। পেটের অংশ পরিষ্কার করার সময় সাবধানে কাটুন, যাতে ভেতরের নাড়িভুঁড়ি ছড়িয়ে না পড়ে। কাজ শেষে মাছ পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। কাঁচি ব্যবহারের সময় আঙুল যেন ধারালো অংশের সামনে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ছাই দিয়ে ট্যাংরা মাছ পরিষ্কার
ট্যারা পরিষ্কার করতে ছাই ব্যবহার করুন। ডুমুরের পাতা দিয়ে ঘষলেও ট্যাংরা মাছের কালো চামড়া পরিষ্কার হয়ে সাদা হয়ে যায়। পাটাতে ঘষলেও গায়ের চামড়া পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু এতে সময় লাগে। কারণ, একটা একটা করে মাছ পরিষ্কার করতে হয়। কাজেই ভরসা রাখুন ছাইয়ে। সব ট্যাংরা মাছ এক জায়গায় রেখে ভালো করে ছাই মাখিয়ে নিন। এবার মাটিতে ঘষে নিলেই মাছের গায়ের কালো আবরণ সহজে উঠে যাবে।
চাল ধোয়া পানিতে কাঁচকি মাছ ভেজানো
চাল ধোয়া পানি দিয়ে কাঁচকি মাছের আঁশ বার করা যায়। চাল ধোয়া পানিতে কাঁচকি মাছ ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে মাছের আঁশ ও গন্ধ দূর হয় এবং মাছের গায়ে লেগে থাকা ময়লা সহজেই নরম হয়ে বেরিয়ে আসে। এরপর সাধারণ পানিতে মাছগুলো আরও দু’বার পানি পাল্টে পাল্টে ধুয়ে নিন। মাছ ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ছোট মাছ পরিষ্কারের সময় হাতের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকে অগ্রাধিকার দিন। মাছের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করুন, পরিষ্কারের পর হাত ও ব্যবহৃত সরঞ্জাম ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি খাবারও নিরাপদ রাখা সহজ হবে। সূত্র: নিউজ এইটটিন

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

ঝামেলা ছাড়া ছোট মাছ পরিষ্কার করবেন যেভাবে

আপডেট সময় ০৭:৫০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ছোট মাছ খেতে ভালোবাসেন, কিন্তু আঁশ পরিষ্কার করার ঝামেলায় কিনতে চান না? পুঁটি,মলা, কাঁচকি কিংবা চাঁদা মাছের আঁশ ছাড়াতে গিয়ে অনেকেরই সময় লেগে যায়। তার ওপর মাছ ধরতে গিয়ে কাঁটা ফোটার ভয় তো রয়েছেই!
একেকটি মাছ ধরে আঁশ ছাড়াতে ছাড়াতে কখন যে অনেকটা সময় চলে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। তবে কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে এই কাজ অনেকটাই সহজ হতে পারে। ঘরে থাকা কয়েকটি উপকরণ আর সঠিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ছোট মাছ পরিষ্কারের ঝামেলা কমানো যায়।
ভিনিগার ও আটা দিয়ে আঁশ ছাড়ানো
বাজার থেকে কিনে আনা মাছ ভিনিগার আর পানির মিশ্রণে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে আঁশ নরম হয়ে যাবে। এরপর ছুরি দিয়ে মাছের পিঠে ঘষলেই সব আঁশ উঠে আসবে। মাছের উপর সামান্য আটা ছড়িয়ে নিতে পারেন। এতে মাছ হাত থেকে পিছলে যাবে না। সেই সঙ্গে আঁশ ছাড়ানোও সহজ হবে। মাছ পরিষ্কারের পর নিরাপদ পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
লবণ মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন
ছোট মাছ পরিষ্কারের আগে অল্প সময় লবণ মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে মাছের আঁশ নরম হয়ে যায়, সহজে বেরিয়ে আসে। ছুরি সবসময় লেজ থেকে মাথার দিকে চালিয়ে আঁশ ছাড়াতে হয়। আঁশ ছাড়াতে ১০ ইঞ্চির ছুরি ব্যবহার করুন। এই ছুরি অনেক বেশি ধারালো হয়। মাছের আঁশ ছাড়ানোর সময় লেজের দিক থেকে মাথার দিকে না ঘষে, আঁশ যেদিকে উঠে আসে তার বিপরীত দিকে আলতো করে ঘষুন।
স্টিলের চামচ দিয়ে আঁশ ছাড়ানো
অনেকেই কয়েন বা ঝিনুকের খোল দিয়ে আঁশ ছাড়ান। এতেও কিন্তু অনেক দ্রুত আঁশ ছাড়ানো যায়। মাছের আঁশ ছাড়াতেস্টিলের চামচ অথবা বাটি ব্যবহার করুন। মাছের লেজের দিক শক্ত করে ধরে মাথার দিকে চামচের ধার দিয়ে ঘষলে এক সেকেন্ডেই সব আঁশ উঠে আসবে। তবে এগুলো থেকে হাত কেটে যাওয়া বা ক্ষতিকর উপাদান মাছের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে।
চালের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে পরিষ্কার
পুঁটি মাছের আঁশ ঝটপট পরিষ্কার করা যায়। একসঙ্গে বেশি করে চাল বা আঁটা কিনলে বড় প্লাস্টিকের বস্তায় দেওয়া হয়। এই বস্তার একদিকে মাছগুলো রাখুন, বস্তার অন্যদিকটা মুড়িয়ে সেটা দিয়ে মাছগুলো ঘষে নিন। দেখবেন, সব আঁশ নিমেষে উঠে আসবে। আঁশ ছাড়ানোর পর মাছগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
প্লাস্টিকের ঝুড়িতে মলা মাছ পরিষ্কার
ছোট মলা মাছ পরিষ্কার করার সময় ছিদ্রযুক্ত পরিষ্কার ঝুড়ি কাজে লাগতে পারে। মাছগুলো ঝুড়িতে নিয়ে আলতোভাবে নাড়াচাড়া করুন, যাতে আলগা আঁশ ঝরে পড়ে। তবে ঝুড়ির ছিদ্রে মাছ আটকে গেলে জোর করে টানবেন না। এরপর পরিষ্কার পানিতে মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
চাঁদা মাছ পরিষ্কার করা
চাঁদা মাছের আঁশ ছাড়াতে উপযুক্ত মাছ পরিষ্কারের কাঁচি ব্যবহার করা যায়। আঁশ আলতোভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে পাখনা ও লেজ প্রয়োজনমতো ছেঁটে নিন। পেটের অংশ পরিষ্কার করার সময় সাবধানে কাটুন, যাতে ভেতরের নাড়িভুঁড়ি ছড়িয়ে না পড়ে। কাজ শেষে মাছ পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। কাঁচি ব্যবহারের সময় আঙুল যেন ধারালো অংশের সামনে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ছাই দিয়ে ট্যাংরা মাছ পরিষ্কার
ট্যারা পরিষ্কার করতে ছাই ব্যবহার করুন। ডুমুরের পাতা দিয়ে ঘষলেও ট্যাংরা মাছের কালো চামড়া পরিষ্কার হয়ে সাদা হয়ে যায়। পাটাতে ঘষলেও গায়ের চামড়া পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু এতে সময় লাগে। কারণ, একটা একটা করে মাছ পরিষ্কার করতে হয়। কাজেই ভরসা রাখুন ছাইয়ে। সব ট্যাংরা মাছ এক জায়গায় রেখে ভালো করে ছাই মাখিয়ে নিন। এবার মাটিতে ঘষে নিলেই মাছের গায়ের কালো আবরণ সহজে উঠে যাবে।
চাল ধোয়া পানিতে কাঁচকি মাছ ভেজানো
চাল ধোয়া পানি দিয়ে কাঁচকি মাছের আঁশ বার করা যায়। চাল ধোয়া পানিতে কাঁচকি মাছ ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে মাছের আঁশ ও গন্ধ দূর হয় এবং মাছের গায়ে লেগে থাকা ময়লা সহজেই নরম হয়ে বেরিয়ে আসে। এরপর সাধারণ পানিতে মাছগুলো আরও দু’বার পানি পাল্টে পাল্টে ধুয়ে নিন। মাছ ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ছোট মাছ পরিষ্কারের সময় হাতের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকে অগ্রাধিকার দিন। মাছের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করুন, পরিষ্কারের পর হাত ও ব্যবহৃত সরঞ্জাম ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি খাবারও নিরাপদ রাখা সহজ হবে। সূত্র: নিউজ এইটটিন