ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

বাঁকখালী নদীতে বৈঠার ছন্দে ফিরল হারানো ঐতিহ্য, নৌকাবাইচে উৎসবের আমেজ রামুতে

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি ধরে রাখতে কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তঃগ্রাম ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বৃহত্তর রামুর অফিসের চর এলাকায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে আটটি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় কৃষক শ্রমিক সমবায় সমিতিকে হারিয়ে ভাই ভাই খেলোয়াড় একাদশ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ‘মারো মারো’ ধ্বনি, বৈঠার ছন্দ আর প্রতিযোগীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে বাঁকখালী নদীর দুই পাড়। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজক ও স্থানীয়দের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আনন্দের প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন করে এমন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহম্মদ মাহিন চৌধুরী বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। আমাদের পূর্বপুরুষেরা নিয়মিত এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন। পূর্বপুরুষদের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই আবারও নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রামু সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, একসময় এ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হারিয়ে গিয়েছিল। তা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় অফিসের চরবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কায়েস বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের লোকসংস্কৃতির প্রতীক। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এ উদ্যোগ।
আগামী বছর বৃহত্তর অফিসের চরবাসীর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রত্যাশা করছি। স্থানীয়রা জানান, নানা কারণে কয়েক বছর ধরে বৃহত্তর রামুর অফিসের চর এলাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন বন্ধ ছিল। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবার আবারও এ আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার ফাইনাল ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী বছর থেকে আরও বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এতে রামুর প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। নিয়মিত এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য ও গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

বাঁকখালী নদীতে বৈঠার ছন্দে ফিরল হারানো ঐতিহ্য, নৌকাবাইচে উৎসবের আমেজ রামুতে

আপডেট সময় ১১:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি ধরে রাখতে কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তঃগ্রাম ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বৃহত্তর রামুর অফিসের চর এলাকায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে আটটি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় কৃষক শ্রমিক সমবায় সমিতিকে হারিয়ে ভাই ভাই খেলোয়াড় একাদশ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ‘মারো মারো’ ধ্বনি, বৈঠার ছন্দ আর প্রতিযোগীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে বাঁকখালী নদীর দুই পাড়। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজক ও স্থানীয়দের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আনন্দের প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন করে এমন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহম্মদ মাহিন চৌধুরী বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। আমাদের পূর্বপুরুষেরা নিয়মিত এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন। পূর্বপুরুষদের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই আবারও নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রামু সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, একসময় এ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হারিয়ে গিয়েছিল। তা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় অফিসের চরবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কায়েস বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের লোকসংস্কৃতির প্রতীক। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এ উদ্যোগ।
আগামী বছর বৃহত্তর অফিসের চরবাসীর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রত্যাশা করছি। স্থানীয়রা জানান, নানা কারণে কয়েক বছর ধরে বৃহত্তর রামুর অফিসের চর এলাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন বন্ধ ছিল। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবার আবারও এ আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার ফাইনাল ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী বছর থেকে আরও বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এতে রামুর প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। নিয়মিত এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য ও গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।