ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে Logo গ্রাম আদালতে বাড়ছে অভিযোগ স্বল্প খরচে ন্যায় বিচার পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ Logo ধর্মীয় ভিত্তিতে হিন্দু মুসলিম আলাদা করা যাবে না- আলি আসগার লবি Logo সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন Logo শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা Logo বগুড়ায় মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ এর ক্রাউন সিমেন্ট রিটেইল মিট প্রোগ্রাম ও বার্ষিক পুনর্মিলনী Logo বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনাধিন সম্পূর্ণ প্লাষ্টিক দুষণমুক্ত পার্কটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দশনার্র্থীদের আগমণ ভ্রমণপ্রেমীদের নিরিবিলি পর্যটনস্পট হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে Logo দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও Logo নানা আয়োজনে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo বালিয়াকান্দিতে অনির্বাণ স্মার্ট একাডেমীর উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান

দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৭ নম্বর মাতুভূঞা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা ও দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির একাধিক নেতার প্রার্থিতার আগ্রহকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার হিসাব-নিকাশ চলছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও আলোচনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, মাতুভূঞা ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৮ হাজার ২৬২ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৫৫৬ এবং নারী ভোটার ৮ হাজার ৭০৬ জন। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই ইউনিয়নের ভোটারদের সমর্থন আদায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মাতুভূঞা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল নুসরী। তিনি এর আগে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও মাতুভূঞা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং অতীতে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্যদিকে, তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময় তিনি হামলার শিকার হন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ফেনীতে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা। তাঁর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে এবং তিনবার কারাবরণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তরুণদের একটি অংশের মধ্যে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন মাতুভূঞা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল হক নকুও। তিনি ২০১১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গরুর গাড়ি প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাতুভূঞা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী পলাশের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার উইজার দল কেন্দ্রীয় সংসদের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে তিনি বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য জহিরুল কাইয়ুম রাহাতও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি মাতুভূঞা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতি। তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বেকের বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন চৌধুরী ডালিমের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি মাতুভূঞার পরিচিত চৌধুরী পরিবারের সন্তান। তাঁর চাচা রহিম উল্ল্যা চৌধুরী পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন এবং বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরী সাবেক গ্রাম সরকারপ্রধান ছিলেন। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারিছ আহমেদ পেয়ার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য নুরুল আফসার এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক শাকের হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে প্রায় ২৭টি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর পক্ষের সূত্রে দাবি করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের শ্যালক আবুল হাসনাত বাহারের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও মাতুভূঞা ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন খাজুর নামও আলোচনায় এসেছে। তবে বয়সের কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির বাইরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে তৎপরতা রয়েছে। ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল আমিন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাতুভূঞা ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নূরুল করিম সিপাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, খেলাফত মজলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জেএসডি) অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। খেলাফত মজলিশের ফেনী জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (জয়েন্ট সেক্রেটারি) মো. আজিজ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তাঁদের দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত জানান, দাগনভূঞা উপজেলার সব ইউনিয়নে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে এখনো কোনো ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জেএসডির পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব আলোচনাকে চূড়ান্ত প্রার্থিতা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাতুভূঞা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, দলীয় মনোনয়ন, সাংগঠনিক অবস্থান, তৃণমূলের সমর্থন এবং ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখানোয় দলটির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একক প্রার্থী দিতে পারলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এতে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের প্রভাব ঠেকানো এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে প্রশাসন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখবেÑএমন প্রত্যাশা তাঁদের। দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুল উদ্দিন বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনবান্ধব, সৎ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির পাশাপাশি দলীয় স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দলের জন্য ত্যাগ ও শ্রমকে মূল্যায়ন করা হবে। সব মিলিয়ে, মাতুভূঞা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ও তৎপরতা বাড়লেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা, দলীয় মনোনয়ন এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, চেয়ারম্যান পদে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং নির্বাচনী মাঠের সমীকরণ কোন দিকে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও

আপডেট সময় ১১:৫২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৭ নম্বর মাতুভূঞা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা ও দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির একাধিক নেতার প্রার্থিতার আগ্রহকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার হিসাব-নিকাশ চলছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও আলোচনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, মাতুভূঞা ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৮ হাজার ২৬২ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৫৫৬ এবং নারী ভোটার ৮ হাজার ৭০৬ জন। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই ইউনিয়নের ভোটারদের সমর্থন আদায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মাতুভূঞা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল নুসরী। তিনি এর আগে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও মাতুভূঞা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং অতীতে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্যদিকে, তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময় তিনি হামলার শিকার হন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ফেনীতে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা। তাঁর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে এবং তিনবার কারাবরণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তরুণদের একটি অংশের মধ্যে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন মাতুভূঞা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল হক নকুও। তিনি ২০১১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গরুর গাড়ি প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাতুভূঞা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী পলাশের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার উইজার দল কেন্দ্রীয় সংসদের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে তিনি বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য জহিরুল কাইয়ুম রাহাতও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি মাতুভূঞা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতি। তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বেকের বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন চৌধুরী ডালিমের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি মাতুভূঞার পরিচিত চৌধুরী পরিবারের সন্তান। তাঁর চাচা রহিম উল্ল্যা চৌধুরী পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন এবং বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরী সাবেক গ্রাম সরকারপ্রধান ছিলেন। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারিছ আহমেদ পেয়ার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য নুরুল আফসার এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক শাকের হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে প্রায় ২৭টি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর পক্ষের সূত্রে দাবি করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের শ্যালক আবুল হাসনাত বাহারের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও মাতুভূঞা ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন খাজুর নামও আলোচনায় এসেছে। তবে বয়সের কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির বাইরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে তৎপরতা রয়েছে। ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল আমিন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাতুভূঞা ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নূরুল করিম সিপাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, খেলাফত মজলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জেএসডি) অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। খেলাফত মজলিশের ফেনী জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (জয়েন্ট সেক্রেটারি) মো. আজিজ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তাঁদের দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত জানান, দাগনভূঞা উপজেলার সব ইউনিয়নে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে এখনো কোনো ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জেএসডির পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব আলোচনাকে চূড়ান্ত প্রার্থিতা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাতুভূঞা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, দলীয় মনোনয়ন, সাংগঠনিক অবস্থান, তৃণমূলের সমর্থন এবং ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখানোয় দলটির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একক প্রার্থী দিতে পারলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এতে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের প্রভাব ঠেকানো এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে প্রশাসন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখবেÑএমন প্রত্যাশা তাঁদের। দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুল উদ্দিন বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনবান্ধব, সৎ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির পাশাপাশি দলীয় স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দলের জন্য ত্যাগ ও শ্রমকে মূল্যায়ন করা হবে। সব মিলিয়ে, মাতুভূঞা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ও তৎপরতা বাড়লেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা, দলীয় মনোনয়ন এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, চেয়ারম্যান পদে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং নির্বাচনী মাঠের সমীকরণ কোন দিকে যাচ্ছে।