ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে Logo গ্রাম আদালতে বাড়ছে অভিযোগ স্বল্প খরচে ন্যায় বিচার পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ Logo ধর্মীয় ভিত্তিতে হিন্দু মুসলিম আলাদা করা যাবে না- আলি আসগার লবি Logo সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন Logo শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা Logo বগুড়ায় মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ এর ক্রাউন সিমেন্ট রিটেইল মিট প্রোগ্রাম ও বার্ষিক পুনর্মিলনী Logo বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনাধিন সম্পূর্ণ প্লাষ্টিক দুষণমুক্ত পার্কটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দশনার্র্থীদের আগমণ ভ্রমণপ্রেমীদের নিরিবিলি পর্যটনস্পট হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে Logo দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও Logo নানা আয়োজনে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo বালিয়াকান্দিতে অনির্বাণ স্মার্ট একাডেমীর উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান

শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা

মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছুটছেন হামিদুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মেয়ে ঝর্ণা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট নন। এ অবস্থায় মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার আনসার রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন হামিদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়ি থেকে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী অপু মিয়া প্রতিবেশীকে ফোন করে মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের বাবা হামিদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অপু মিয়াকে বিয়ে করেন ঝর্ণা। বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ির আশপাশের এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি। অপু তাকওয়া পরিবহনের মিনিবাস চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানতেন হামিদুল। অভিযুক্ত অপু মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দড়িছড়িয়াকোনা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। ঝর্ণা হত্যার ঘটনায় বাবা হামিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় গত ১১ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। হামিদুল ইসলামের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তিনি দৃশ্যমান কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছেন না। মেয়েকে হারানোর শোকের পাশাপাশি বিচার না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাঁকে আরও হতাশ করে তুলেছে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। হামিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; চান শুধু মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার। তাঁর দাবি, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মামলার তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকা-ের অভিযোগে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা

আপডেট সময় ১১:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছুটছেন হামিদুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মেয়ে ঝর্ণা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট নন। এ অবস্থায় মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার আনসার রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন হামিদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়ি থেকে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী অপু মিয়া প্রতিবেশীকে ফোন করে মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের বাবা হামিদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অপু মিয়াকে বিয়ে করেন ঝর্ণা। বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ির আশপাশের এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি। অপু তাকওয়া পরিবহনের মিনিবাস চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানতেন হামিদুল। অভিযুক্ত অপু মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দড়িছড়িয়াকোনা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। ঝর্ণা হত্যার ঘটনায় বাবা হামিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় গত ১১ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। হামিদুল ইসলামের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তিনি দৃশ্যমান কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছেন না। মেয়েকে হারানোর শোকের পাশাপাশি বিচার না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাঁকে আরও হতাশ করে তুলেছে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। হামিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; চান শুধু মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার। তাঁর দাবি, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মামলার তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকা-ের অভিযোগে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।