ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে Logo গ্রাম আদালতে বাড়ছে অভিযোগ স্বল্প খরচে ন্যায় বিচার পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ Logo ধর্মীয় ভিত্তিতে হিন্দু মুসলিম আলাদা করা যাবে না- আলি আসগার লবি Logo সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন Logo শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা Logo বগুড়ায় মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ এর ক্রাউন সিমেন্ট রিটেইল মিট প্রোগ্রাম ও বার্ষিক পুনর্মিলনী Logo বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনাধিন সম্পূর্ণ প্লাষ্টিক দুষণমুক্ত পার্কটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দশনার্র্থীদের আগমণ ভ্রমণপ্রেমীদের নিরিবিলি পর্যটনস্পট হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে Logo দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও Logo নানা আয়োজনে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo বালিয়াকান্দিতে অনির্বাণ স্মার্ট একাডেমীর উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জনতারহাট ও সাকোরপাড় সড়কের উপর নির্মিত ব্রিজটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দূর্যোগ ব্যনস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকায় নির্মিত ভাঙা ব্রিজটি, হাজারো মানুষের অন্তহীন দূর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্স ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের উপছে পড়া বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে সেটি ডেবে যায়। এখন বর্ষাকালে কলার ভেলায় বা ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে শিক্ষার্থীরা। শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে হেঁটে ব্রিজের অংশ পাড়ি দিতে হয়। ফলে এই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষায় কমে যায় স্কুলের উপস্থিতি। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর রোগীর স্বজনরা পরেছেন চরম বিপাকে।জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমা খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে আমরা স্কুলে যেতে ভয় পাই। অনেকে এসময় স্কুলে যায় না। বোতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ব্রিজের ওপারে চাষবাস করতে গিয়ে সমস্যায় পরি। অনেক ঘুরে যেতে হয়। ধান-পাট কাটার পর নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। যারা ছোটখাটো ব্যবসা-পাতি করেন তারাও ভোগান্তির মধ্যে পরেছেন।দলন গ্রামের গৃহিনী মনজিলা বেগম জানান, ব্রিজটার জন্য আমরা হাহাকার করি। আমার স্বামী অটোচালায় কিন্তু এই পথে যেতে পারে না। একজন অসুস্থ্য হলে তাকে কষ্ট করে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়। মেম্বার চেয়ারম্যানরা ভোটের সময় এসে অনেক কথা বলে যায় কিন্তু ব্রিজটার কাজ আর হয় না। খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রিজের এপাড়ে-ওপাড়ে ৪টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। শিশু শিক্ষার্থীদের খুবই কষ্ট হয় চলাচল করতে। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান এই শিক্ষকসহ এলাকাবাসী।জনাব আলী নামে স্থানীয় একজন সচেতন যুবক বলেন, এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দলন, বোতলা, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, তেলিপাড়া, পানাতিপাড়া ও বটতলা এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের চরম কষ্ট হয়েছে। এছাড়াও খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়, মুসল্লীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং বুড়াবুড়ি হাইস্কুলে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে তাদেরকে অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও কোন সমাধান হচ্ছে না।বিষয়টি নিয়ে জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজির রহমান খোঁজখবর নিয়ে এই প্রতিনিধিকে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সাকোয়ারপাড় ব্রিজটি আগামি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশাকরি আগামি বছর ব্রিজটি পূননির্মাণ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

আপডেট সময় ১২:০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জনতারহাট ও সাকোরপাড় সড়কের উপর নির্মিত ব্রিজটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দূর্যোগ ব্যনস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকায় নির্মিত ভাঙা ব্রিজটি, হাজারো মানুষের অন্তহীন দূর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্স ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের উপছে পড়া বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে সেটি ডেবে যায়। এখন বর্ষাকালে কলার ভেলায় বা ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে শিক্ষার্থীরা। শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে হেঁটে ব্রিজের অংশ পাড়ি দিতে হয়। ফলে এই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষায় কমে যায় স্কুলের উপস্থিতি। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর রোগীর স্বজনরা পরেছেন চরম বিপাকে।জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমা খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে আমরা স্কুলে যেতে ভয় পাই। অনেকে এসময় স্কুলে যায় না। বোতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ব্রিজের ওপারে চাষবাস করতে গিয়ে সমস্যায় পরি। অনেক ঘুরে যেতে হয়। ধান-পাট কাটার পর নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। যারা ছোটখাটো ব্যবসা-পাতি করেন তারাও ভোগান্তির মধ্যে পরেছেন।দলন গ্রামের গৃহিনী মনজিলা বেগম জানান, ব্রিজটার জন্য আমরা হাহাকার করি। আমার স্বামী অটোচালায় কিন্তু এই পথে যেতে পারে না। একজন অসুস্থ্য হলে তাকে কষ্ট করে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়। মেম্বার চেয়ারম্যানরা ভোটের সময় এসে অনেক কথা বলে যায় কিন্তু ব্রিজটার কাজ আর হয় না। খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রিজের এপাড়ে-ওপাড়ে ৪টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। শিশু শিক্ষার্থীদের খুবই কষ্ট হয় চলাচল করতে। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান এই শিক্ষকসহ এলাকাবাসী।জনাব আলী নামে স্থানীয় একজন সচেতন যুবক বলেন, এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দলন, বোতলা, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, তেলিপাড়া, পানাতিপাড়া ও বটতলা এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের চরম কষ্ট হয়েছে। এছাড়াও খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়, মুসল্লীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং বুড়াবুড়ি হাইস্কুলে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে তাদেরকে অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও কোন সমাধান হচ্ছে না।বিষয়টি নিয়ে জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজির রহমান খোঁজখবর নিয়ে এই প্রতিনিধিকে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সাকোয়ারপাড় ব্রিজটি আগামি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশাকরি আগামি বছর ব্রিজটি পূননির্মাণ করা সম্ভব হবে।