সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মরাচেলা নদীর ‘নওশাদের বাগান’ এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত চলছে অবৈধ ড্রেজার ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেইভ মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন। ইজারা বা বৈধ কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালী একটি চক্রের এই বেআইনি কর্মকান্ডের কারণে নদীপাড়ের ফসলি জমি ও স্থায়ী অবকাঠামো তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। একই সাথে নিষিদ্ধ মেশিনের বিকট শব্দে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অবৈধ উত্তোলন বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা সদরের পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ মোছাদ্দেক আলী। অভিযোগে কুমারধানী বাবন গাঁওয়ের নওশাদ মিয়া(৬০), মাহমুদ আলী(৩২), দুধু মিয়া ও নাসির মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে দিন-রাত সমানতালে ড্রেজার চলায় নদীর তলদেশ ফাঁপা হয়ে গেছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ধসে পড়ছে এবং যেকোনো সময় বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেশিনের ঘড়ঘড় শব্দে রাতে একটু ঘুমানোর উপায় নেই। বিশেষ করে ঘরের শিশু আর বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ছাওয়াল-পাওয়ালরা শব্দের চিল্লাচিল্লিতে পড়াশোনা করতে পারছে না। প্রভাবশালীরা লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে এই কাজ করায় আমরা প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছি না। এভাবে চললে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে ভেসে যাবে। আরেক ভুক্তভোগী কৃষক জানান, আমাদের চাষের জমিগুলো নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীর পাড় ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা সপরিবারে নিঃস্ব হয়ে যাব। অভিযোগকারী মোঃ মোছাদ্দেক আলী বলেন, আইন অমান্য করে প্রাকৃতির পরিবেশ ও সরকারের মূল্যবাদ খনিজ সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ কথা বলতে পারে না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং জনস্বার্থে আমি এই আইনি আবেদন করেছি। আবেদনে মরাচেলা নদীর উক্ত এলাকায় দ্রুত টাস্কফোর্স বা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ যন্ত্রপাতি জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ ও ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন’ অনুযায়ী মামলা দায়েরের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (টঘঙ), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবরও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, মরাচেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এই ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
সংবাদ শিরোনাম
সুনামগঞ্জের মরাচেলা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন তীব্র ভাঙন ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
-
আল হেলাল সুনামগঞ্জ - আপডেট সময় ০৮:২৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- 6
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


























