ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ৫ম সভা Logo জনতা ব্যাংক পিএলসি’র নতুন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মো: ইকবাল হোসেন খাঁ Logo ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল-এর কমলাপুর ভবন উদ্বোধন Logo আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী Logo নগরকান্দায় হামলাকারীদের বিচার ও শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার শান্তির দাবিতে মানববন্ধন Logo কোনো চাঁদাবাজ আর দখলবাজ বেতাগীতে থাকতে পারবে না-চিফ হুইপ Logo দুই বছরেই জেলা সেরা, বিভাগে তৃতীয় লালমোহনের সোনালী ব্যাংক Logo মিরসরাইয়ে শেষ হলো বই পড়া উৎসব Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ Logo তাড়াশে অবৈধ পুকুর খনন, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

টুপটুপ রিসোর্টে আগুণ ১০ পর্যটক নিহত

সন্তান হারানোর ‍আর্তনাদ ‍এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রিসোর্টের ভেতর থেকে পুড়ে যাওয়া ১০টি মরদেহ উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। 

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকা-ে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ ভেতর থেকে বের করা হয়েছে। আগুনে পুড়ে মরদেহগুলো ঝলসে গেছে।
গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ারটেক সংলগ্ন রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকা- ঘটে। আগুন লাগার পর বিকেল ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রিসোর্টের ভেতর থেকে পুড়ে যাওয়া ১০টি মরদেহ উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ আলম জানান, ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকা-ে নিহত ১০ পর্যটকের দগ্ধ মরদেহ শনিবার দুপুর ৩টার দিকে রিসোর্ট থেকে বের করা হয়েছে। মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া রিসোর্টের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তার মধ্যে তিনজনের মরদেহ ওয়াশরুম থেকে বের করা হয়।
উখিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ স্বজনকে হারানোর শোক কীভাবে সইবেন নুর আলম: স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে কক্সবাজারে রেখে কর্মস্থল চুয়াডাঙ্গায় ফিরেছিলেন নুর আলম। কথা ছিল শনিবার (১৭ অক্টোবর) অন্যরা সবাই একসঙ্গে ফিরবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে প্রাণ হারিয়েছেন তার স্ত্রী, সাত বছরের সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন। প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নুর আলম।
নুর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় টানা আট বছর ধরে বসবাস করছেন। তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) কক্সবাজারে বেড়াতে যান নুর আলমের স্ত্রী ফারিহা কবির, তাদের সাত বছরের সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ, ফারিহার তিন বোন ও এক ভাই।
তবে অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার তাদের সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন নুর আলম। শনিবার সকালে অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে তিনি আবার আজ ঢাকায় ছুটে যান।
মোবাইলফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুর আলম বলেন, শনিবার তাদের কক্সবাজার থেকে ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে রিসোর্টে আগুন লেগেছে, তা তিনি জানেন না। আগুনে আটকা পড়ে স্ত্রী, সন্তানসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে শোকের কারণে তিনি আর কথা বলতে পারছিলেন না।
তিনি জানান, তার স্ত্রী ফারিহা কবির অসুস্থ ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অন্যের সহায়তা নিতে হতো তাকে। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন, যাতে তার দেখাশোনা করতে সুবিধা হয়। কিন্তু সেই ভ্রমণই পরিবারের জন্য এমন মর্মান্তিক পরিণতি বয়ে আনবে, তা কল্পনাও করেননি তারা।
নুর আলমের সাত বছরের সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। যে বয়সে স্কুল, খেলাধুলা আর পরিবারের সান্নিধ্যে দিন কাটানোর কথা, সেই বয়সেই আগুন কেড়ে নিল তার প্রাণ।
গতকাল শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত। এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাদের কক্ষটি তালাবদ্ধ। আট বছর ধরে যে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন, সেই বাড়িটি এখন তাদের অনুপস্থিতিতে নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ জানান, নুর আলম আট বছর ধরে তার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তারা খুবই ভালো মানুষ। অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে নুর আলম ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ৫ম সভা

টুপটুপ রিসোর্টে আগুণ ১০ পর্যটক নিহত

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকা-ে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ ভেতর থেকে বের করা হয়েছে। আগুনে পুড়ে মরদেহগুলো ঝলসে গেছে।
গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ারটেক সংলগ্ন রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকা- ঘটে। আগুন লাগার পর বিকেল ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রিসোর্টের ভেতর থেকে পুড়ে যাওয়া ১০টি মরদেহ উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ আলম জানান, ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকা-ে নিহত ১০ পর্যটকের দগ্ধ মরদেহ শনিবার দুপুর ৩টার দিকে রিসোর্ট থেকে বের করা হয়েছে। মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া রিসোর্টের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তার মধ্যে তিনজনের মরদেহ ওয়াশরুম থেকে বের করা হয়।
উখিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ স্বজনকে হারানোর শোক কীভাবে সইবেন নুর আলম: স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে কক্সবাজারে রেখে কর্মস্থল চুয়াডাঙ্গায় ফিরেছিলেন নুর আলম। কথা ছিল শনিবার (১৭ অক্টোবর) অন্যরা সবাই একসঙ্গে ফিরবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে প্রাণ হারিয়েছেন তার স্ত্রী, সাত বছরের সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন। প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নুর আলম।
নুর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় টানা আট বছর ধরে বসবাস করছেন। তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) কক্সবাজারে বেড়াতে যান নুর আলমের স্ত্রী ফারিহা কবির, তাদের সাত বছরের সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ, ফারিহার তিন বোন ও এক ভাই।
তবে অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার তাদের সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন নুর আলম। শনিবার সকালে অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে তিনি আবার আজ ঢাকায় ছুটে যান।
মোবাইলফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুর আলম বলেন, শনিবার তাদের কক্সবাজার থেকে ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে রিসোর্টে আগুন লেগেছে, তা তিনি জানেন না। আগুনে আটকা পড়ে স্ত্রী, সন্তানসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে শোকের কারণে তিনি আর কথা বলতে পারছিলেন না।
তিনি জানান, তার স্ত্রী ফারিহা কবির অসুস্থ ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অন্যের সহায়তা নিতে হতো তাকে। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন, যাতে তার দেখাশোনা করতে সুবিধা হয়। কিন্তু সেই ভ্রমণই পরিবারের জন্য এমন মর্মান্তিক পরিণতি বয়ে আনবে, তা কল্পনাও করেননি তারা।
নুর আলমের সাত বছরের সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। যে বয়সে স্কুল, খেলাধুলা আর পরিবারের সান্নিধ্যে দিন কাটানোর কথা, সেই বয়সেই আগুন কেড়ে নিল তার প্রাণ।
গতকাল শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত। এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাদের কক্ষটি তালাবদ্ধ। আট বছর ধরে যে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন, সেই বাড়িটি এখন তাদের অনুপস্থিতিতে নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ জানান, নুর আলম আট বছর ধরে তার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তারা খুবই ভালো মানুষ। অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে নুর আলম ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।