ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী Logo নগরকান্দায় হামলাকারীদের বিচার ও শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার শান্তির দাবিতে মানববন্ধন Logo কোনো চাঁদাবাজ আর দখলবাজ বেতাগীতে থাকতে পারবে না-চিফ হুইপ Logo দুই বছরেই জেলা সেরা, বিভাগে তৃতীয় লালমোহনের সোনালী ব্যাংক Logo মিরসরাইয়ে শেষ হলো বই পড়া উৎসব Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ Logo তাড়াশে অবৈধ পুকুর খনন, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন Logo কালীগঞ্জে কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগ জনক হারে বাড়ছে Logo বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ Logo গলাচিপায় এলজিইডি এর আয়োজনে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক কর্মশালা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রোববার শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন করেন। ছবি: পিআইডি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, সংবিধান প্রত্যেক ধর্মের মানুষকে যে অধিকার দিয়েছে, তা রক্ষা করতে হবে। কোনো নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
গতকাল রোববার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা চাই এই দেশের সংবিধান প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষকে যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার রক্ষা হোক। এ দেশের নাগরিকগণ যে ধর্মেরই হোক না কেন, তারা তাদের অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত সচেতনভাবে কাজ করবেন এবং কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব আছে। এটা হাজার বছর ধরে গড়ে উঠেছে, একদিনে নয়, দুই দিনে নয়। হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা সেই আত্মার বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য আমরা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই— যেখানে আমরা শান্তিতে থাকব, সুখে থাকব। যে বাংলাদেশে আমাদের ধর্মে ধর্মে কোনো বিভেদ থাকবে না। সকলে তাদের ধর্ম নিশ্চিন্তে পালন করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের কিছু মানুষ বিভিন্ন সময়ে কখনো রাজনৈতিক কারণে, কখনো ব্যক্তিগত কারণে, কখনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এ বন্ধন ভেঙে বিভাজন সৃষ্টি করেছে, যেটা কখনোই কারো কাছে কাম্য নয়।
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমরা অনেক বড় সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি। সেই লড়াই-সংগ্রামটা ছিল এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য, যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। আমরা সেই ব্যবস্থাটাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন তরুণদের হাতে। তাদেরকে এমন একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে— যেন সেখানে কূপমণ্ডূকতা না আসে, কুসংস্কার না আসে, ধর্মের নামে ধর্মান্ধবিজনতা না আসে এবং কোনো ধরনের উগ্রতার সৃষ্টি না হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের সকলের। এখানে আমরা কখনোই এমন কোনো শক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব না, যে শক্তি আমাদের সত্যকে ধ্বংস করবে, আমাদের আত্মাকে ধ্বংস করবে, আমাদের চেতনাকে ধ্বংস করবে, আমাদের কৃষ্টিকে ধ্বংস করবে।
যেকোনো পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তখনই রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে যায়, যখন রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়।
এ সময় দুর্গাপূজা নিয়ে নিজের অতীত স্মৃতি স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার ছাত্রজীবনে আমি দুর্গাপূজা মণ্ডপে গিয়েছি, নাটক করেছি, আবৃত্তি করেছি।
তিনি আরো বলেন, এবারের পূজায় এখন পর্যন্ত আমি যেটা দেখছি যে, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সারাদেশে এই পূজা উদযাপিত হচ্ছে এবং এটাই আমরা চাই।
সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উদযাপন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, সভার সভাপতি ও রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় ০৭:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, সংবিধান প্রত্যেক ধর্মের মানুষকে যে অধিকার দিয়েছে, তা রক্ষা করতে হবে। কোনো নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
গতকাল রোববার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা চাই এই দেশের সংবিধান প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষকে যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার রক্ষা হোক। এ দেশের নাগরিকগণ যে ধর্মেরই হোক না কেন, তারা তাদের অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত সচেতনভাবে কাজ করবেন এবং কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব আছে। এটা হাজার বছর ধরে গড়ে উঠেছে, একদিনে নয়, দুই দিনে নয়। হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা সেই আত্মার বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য আমরা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই— যেখানে আমরা শান্তিতে থাকব, সুখে থাকব। যে বাংলাদেশে আমাদের ধর্মে ধর্মে কোনো বিভেদ থাকবে না। সকলে তাদের ধর্ম নিশ্চিন্তে পালন করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের কিছু মানুষ বিভিন্ন সময়ে কখনো রাজনৈতিক কারণে, কখনো ব্যক্তিগত কারণে, কখনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এ বন্ধন ভেঙে বিভাজন সৃষ্টি করেছে, যেটা কখনোই কারো কাছে কাম্য নয়।
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমরা অনেক বড় সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি। সেই লড়াই-সংগ্রামটা ছিল এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য, যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। আমরা সেই ব্যবস্থাটাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন তরুণদের হাতে। তাদেরকে এমন একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে— যেন সেখানে কূপমণ্ডূকতা না আসে, কুসংস্কার না আসে, ধর্মের নামে ধর্মান্ধবিজনতা না আসে এবং কোনো ধরনের উগ্রতার সৃষ্টি না হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের সকলের। এখানে আমরা কখনোই এমন কোনো শক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব না, যে শক্তি আমাদের সত্যকে ধ্বংস করবে, আমাদের আত্মাকে ধ্বংস করবে, আমাদের চেতনাকে ধ্বংস করবে, আমাদের কৃষ্টিকে ধ্বংস করবে।
যেকোনো পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তখনই রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে যায়, যখন রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়।
এ সময় দুর্গাপূজা নিয়ে নিজের অতীত স্মৃতি স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার ছাত্রজীবনে আমি দুর্গাপূজা মণ্ডপে গিয়েছি, নাটক করেছি, আবৃত্তি করেছি।
তিনি আরো বলেন, এবারের পূজায় এখন পর্যন্ত আমি যেটা দেখছি যে, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সারাদেশে এই পূজা উদযাপিত হচ্ছে এবং এটাই আমরা চাই।
সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উদযাপন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, সভার সভাপতি ও রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বক্তব্য রাখেন।