ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী Logo নগরকান্দায় হামলাকারীদের বিচার ও শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার শান্তির দাবিতে মানববন্ধন Logo কোনো চাঁদাবাজ আর দখলবাজ বেতাগীতে থাকতে পারবে না-চিফ হুইপ Logo দুই বছরেই জেলা সেরা, বিভাগে তৃতীয় লালমোহনের সোনালী ব্যাংক Logo মিরসরাইয়ে শেষ হলো বই পড়া উৎসব Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ Logo তাড়াশে অবৈধ পুকুর খনন, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন Logo কালীগঞ্জে কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগ জনক হারে বাড়ছে Logo বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ Logo গলাচিপায় এলজিইডি এর আয়োজনে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক কর্মশালা

আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিনের জমানো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে মনোরম বাগান গড়ে তোলার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সফল প্রয়াসের পেছনে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) আমিনবাজারে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন: সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে কীভাবে জনকল্যাণে সুন্দর করে রূপান্তর করা যায়, আমিনবাজারের এই উদ্যোগ তার এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুই মাস আগেও এই এলাকার কী করুণ দশা ছিল, তা স্থানীয় বাসিন্দারা ভালো করেই জানেন। অথচ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে স্থানটি পুরোপুরি বদলে গেছে। চার কিলোমিটারের এই এলাকাটি এখন কেবল দেখতেই সুন্দর লাগছে না, বরং স্থানীয় মানুষের জন্য নির্মল বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও নবনির্মিত বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্থানটি মনোরম করে তোলা হলেও এটি রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব এখন এলাকাবাসীর। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ ও সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশের নানা সমস্যা দূর করে ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও সুন্দর বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া, মহাসড়কের পাশের কলকারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আশেপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো বণ্টন ও পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানান এবং এই সবুজ উদ্যোগকে চার কিলোমিটারের গ-ি পেরিয়ে আরও দূরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিসি ফরিদা খানমের এই পদক্ষেপ দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমিনবাজারের বদলে যাওয়ার পেছনের গল্প: গত প্রায় দুই দশক ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার অংশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলে বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল, যার উচ্চতা কোনো কোনো স্থানে ৩০ ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছিল। গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনামহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার সময় এই বিষাক্ত আবর্জনার স্তূপ ও অসহনীয় দুর্গন্ধ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বর্জ্য অপসারণ ও এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্জ্য সরানোর পর মাটি সুরক্ষায় প্যালিসেডিং করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন ও ১টি সার্ভিস শেড নির্মাণ করা হয়। ক্ষয়রোধে রোপণ করা হয় নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ নানা জাতের ঘাস। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই স্থানে মোট ৬,৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে (যার মধ্যে রয়েছে ১,০৫০টি নিমগাছ, ৩,৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম ও ৭০০টি রঙ্গন গাছ)। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা হিসেবে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার বায়ু টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে। রাতে চলাচলের সুবিধার্থে বসানো হয়েছে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধময় ভাগাড় সরিয়ে রূপান্তর প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার আমিনবাজার এখন একটি দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিনের জমানো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে মনোরম বাগান গড়ে তোলার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সফল প্রয়াসের পেছনে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) আমিনবাজারে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন: সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে কীভাবে জনকল্যাণে সুন্দর করে রূপান্তর করা যায়, আমিনবাজারের এই উদ্যোগ তার এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুই মাস আগেও এই এলাকার কী করুণ দশা ছিল, তা স্থানীয় বাসিন্দারা ভালো করেই জানেন। অথচ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে স্থানটি পুরোপুরি বদলে গেছে। চার কিলোমিটারের এই এলাকাটি এখন কেবল দেখতেই সুন্দর লাগছে না, বরং স্থানীয় মানুষের জন্য নির্মল বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও নবনির্মিত বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্থানটি মনোরম করে তোলা হলেও এটি রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব এখন এলাকাবাসীর। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ ও সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশের নানা সমস্যা দূর করে ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও সুন্দর বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া, মহাসড়কের পাশের কলকারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আশেপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো বণ্টন ও পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানান এবং এই সবুজ উদ্যোগকে চার কিলোমিটারের গ-ি পেরিয়ে আরও দূরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিসি ফরিদা খানমের এই পদক্ষেপ দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমিনবাজারের বদলে যাওয়ার পেছনের গল্প: গত প্রায় দুই দশক ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার অংশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলে বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল, যার উচ্চতা কোনো কোনো স্থানে ৩০ ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছিল। গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনামহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার সময় এই বিষাক্ত আবর্জনার স্তূপ ও অসহনীয় দুর্গন্ধ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বর্জ্য অপসারণ ও এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্জ্য সরানোর পর মাটি সুরক্ষায় প্যালিসেডিং করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন ও ১টি সার্ভিস শেড নির্মাণ করা হয়। ক্ষয়রোধে রোপণ করা হয় নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ নানা জাতের ঘাস। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই স্থানে মোট ৬,৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে (যার মধ্যে রয়েছে ১,০৫০টি নিমগাছ, ৩,৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম ও ৭০০টি রঙ্গন গাছ)। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা হিসেবে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার বায়ু টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে। রাতে চলাচলের সুবিধার্থে বসানো হয়েছে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধময় ভাগাড় সরিয়ে রূপান্তর প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার আমিনবাজার এখন একটি দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ এলাকায় পরিণত হয়েছে।