ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে চলতি রোপা আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় মাঠ জুড়ে এখন রোপা আমন চারার সবুজ সমারোহ। তবে মধ্যনগর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় এখনও সবুজ সমারোহের ঢেউ লাগেনি। ঐ উপজেলার নিম্ন অঞ্চল রোপা আমন মৌসুমে পানিতে টূইটুম্বুর রয়েছে। এছাড়া এখন জেলার মাঠ জুড়ে সবুজের ঢেউ। আবার কোথাও মাঠের বুক ভরে আসছে থোঁকা থোঁকা সোনালী মাখা ধান শীষ। আমন ধান চাষ মূলত: রোদ ও বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। যেমন চাষাবাদ করার সময় বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হয়, তেমনি জমির চারা থেকে শীষ গজিয়ে ওঠার সময়ে রোদের প্রহরও গুনতে হয়। কারণ জমিতে অতিরিক্ত আদ্রতা জমা হলে রোপন চারা গাছ থেকে শীষ গজিয়ে উঠতে পারে না। শীষ গজিয়ে ওঠার সময় চারা জমির আদ্রতা শুকিয়ে দিতে হয়। বিশেষ করে রবি মৌসুমের ফসল অনেটাই ভরসা রোদ-বৃষ্টির ওপর। এর মধ্যে একটি অনিয়ম দেখা দিলে কৃষক- কৃষাণী চাষাবাদ নিয়ে দূ:শ্চিন্তায় পড়েন। চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি দেখা দিলে কৃষকদের কপালে অনেকটা চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছিলো। এতে চাষাবাদ কাজ বিলল্বে শুরু করতে হয়। পরে আবহাওয়া অনুকুলে আসলে কৃষি যোদ্ধারা মাঠে নেমে পড়েন। এবার আমন মৌসুমে জেলার কৃষকরা সব রকম বিপর্যয় কাটিয়ে ভালো ফলন উৎপাদিত করছেন। এই উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে এখন কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত তারা। গত বছরের চেয়ে এবার ডিজেল রায়সায়নিক সারের দাম বেশি। গত বছর জমি বিঘা প্রতি ছিলো ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। চলতি বছর বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ পাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে।এতে কৃষিকদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যমতে সুনামগঞ্জে চলতি রোপা আমন মৌসুমে জেলার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৮২ হাজার ৬শত ৬০ হেক্টর ছিলো। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক সমুজ আলী বলেন, রোপা আমন ধান মৌসুমের শুরুর দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় জমি একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছিল কৃষি কাজ করতে পারছিলাম না। চারা গুলো একেবারে শুকিয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। সেচ পাস্প দিয়ে পানি দিয়ে চারাগাছ সতেজ রাখা হয়। পরে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষক শাহিন মিয়া, মনসুর আলী, সোন মিয়া, সহ একাধিক কৃষক বলেন, রোপা-আমন ধান চাষে, খড়া, বন্যা, পোকার আক্রমন ও বিভিন্ন রোগবালী সহ একাধিক বিপর্যয় মোকাবেলা করে আমাদের ফসল উৎপাদন করতে হয়। তবে এই বিপর্যয় সময়ে আমরা কৃষি বিভাগের পরার্মশ সহযোগিতা আশানুরুপ পাচ্ছি না। দোয়ারা বাজার উপজেলার কৃষক আলী আহমদ বলেন, ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। তেলের দামটা কিছুটা কমিয়ে দিলে কৃষকের উপকার হবে। নতুবা আমরা চাষ করে লাভবান হতে পারব না।’ সরকার এ বিষয়ে একটু নজর দিলে কৃষক কৃষাণী পরিবার উপকৃত হবে। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.ওমর ফারুক জানান,গত বছরের চেয়ে এবার রোপা আমন ধান আবাদ বেশী হয়েছে। যাতে আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকে সে চেষ্টা করবে সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের সব সময় কৃষকদের কে পরামর্শ দিচ্ছে ধান ক্ষেতে কোনো রোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে এবং চারা রোপনের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করতে। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার ও ধান চারা গাছের জমিতে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমে না থাকে, সে বিষয়েও কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত আদ্রতা ধান চাষের জন্য ইতিবাচক নয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

আপডেট সময় ০১:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে চলতি রোপা আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় মাঠ জুড়ে এখন রোপা আমন চারার সবুজ সমারোহ। তবে মধ্যনগর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় এখনও সবুজ সমারোহের ঢেউ লাগেনি। ঐ উপজেলার নিম্ন অঞ্চল রোপা আমন মৌসুমে পানিতে টূইটুম্বুর রয়েছে। এছাড়া এখন জেলার মাঠ জুড়ে সবুজের ঢেউ। আবার কোথাও মাঠের বুক ভরে আসছে থোঁকা থোঁকা সোনালী মাখা ধান শীষ। আমন ধান চাষ মূলত: রোদ ও বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। যেমন চাষাবাদ করার সময় বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হয়, তেমনি জমির চারা থেকে শীষ গজিয়ে ওঠার সময়ে রোদের প্রহরও গুনতে হয়। কারণ জমিতে অতিরিক্ত আদ্রতা জমা হলে রোপন চারা গাছ থেকে শীষ গজিয়ে উঠতে পারে না। শীষ গজিয়ে ওঠার সময় চারা জমির আদ্রতা শুকিয়ে দিতে হয়। বিশেষ করে রবি মৌসুমের ফসল অনেটাই ভরসা রোদ-বৃষ্টির ওপর। এর মধ্যে একটি অনিয়ম দেখা দিলে কৃষক- কৃষাণী চাষাবাদ নিয়ে দূ:শ্চিন্তায় পড়েন। চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি দেখা দিলে কৃষকদের কপালে অনেকটা চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছিলো। এতে চাষাবাদ কাজ বিলল্বে শুরু করতে হয়। পরে আবহাওয়া অনুকুলে আসলে কৃষি যোদ্ধারা মাঠে নেমে পড়েন। এবার আমন মৌসুমে জেলার কৃষকরা সব রকম বিপর্যয় কাটিয়ে ভালো ফলন উৎপাদিত করছেন। এই উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে এখন কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত তারা। গত বছরের চেয়ে এবার ডিজেল রায়সায়নিক সারের দাম বেশি। গত বছর জমি বিঘা প্রতি ছিলো ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। চলতি বছর বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ পাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে।এতে কৃষিকদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যমতে সুনামগঞ্জে চলতি রোপা আমন মৌসুমে জেলার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৮২ হাজার ৬শত ৬০ হেক্টর ছিলো। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক সমুজ আলী বলেন, রোপা আমন ধান মৌসুমের শুরুর দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় জমি একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছিল কৃষি কাজ করতে পারছিলাম না। চারা গুলো একেবারে শুকিয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। সেচ পাস্প দিয়ে পানি দিয়ে চারাগাছ সতেজ রাখা হয়। পরে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষক শাহিন মিয়া, মনসুর আলী, সোন মিয়া, সহ একাধিক কৃষক বলেন, রোপা-আমন ধান চাষে, খড়া, বন্যা, পোকার আক্রমন ও বিভিন্ন রোগবালী সহ একাধিক বিপর্যয় মোকাবেলা করে আমাদের ফসল উৎপাদন করতে হয়। তবে এই বিপর্যয় সময়ে আমরা কৃষি বিভাগের পরার্মশ সহযোগিতা আশানুরুপ পাচ্ছি না। দোয়ারা বাজার উপজেলার কৃষক আলী আহমদ বলেন, ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। তেলের দামটা কিছুটা কমিয়ে দিলে কৃষকের উপকার হবে। নতুবা আমরা চাষ করে লাভবান হতে পারব না।’ সরকার এ বিষয়ে একটু নজর দিলে কৃষক কৃষাণী পরিবার উপকৃত হবে। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.ওমর ফারুক জানান,গত বছরের চেয়ে এবার রোপা আমন ধান আবাদ বেশী হয়েছে। যাতে আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকে সে চেষ্টা করবে সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের সব সময় কৃষকদের কে পরামর্শ দিচ্ছে ধান ক্ষেতে কোনো রোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে এবং চারা রোপনের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করতে। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার ও ধান চারা গাছের জমিতে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমে না থাকে, সে বিষয়েও কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত আদ্রতা ধান চাষের জন্য ইতিবাচক নয়।