জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নেওয়ায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ফরাসি প্রশাসন। সম্ভাব্য নতুন দাঙ্গা ও নৈরাজ্য এড়াতে প্রধান শহরগুলোতে সকল ধরনের বিক্ষোভ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতের নানা সংকটের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। প্রথমে ছাত্র আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি পরবর্তীতে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ব্যাপক রূপ নেয়। তবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আড়ালে সুযোগসন্ধানী ও উগ্র গোষ্ঠী প্যারিস, মার্সেই, লিয়ন ও লিমোজের মতো প্রধান শহরগুলোতে দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১,৮০০ এর অধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে নতুন করে বড় ধরনের অশান্তির আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে। প্যারিসের কেন্দ্রস্থল, ঐতিহাসিক এলিসি প্যালেস, সংসদ ভবন এবং প্রধান রেলস্টেশনগুলোর আশপাশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দোকানমালিক ও ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে তাদের শোরুম ও শপগুলোর সামনে ব্যারিকেড বসাতে শুরু করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের দাবি শোনার পথ খোলা থাকলেও সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে, ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানিয়েছে যে আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে।
সংবাদ শিরোনাম
ফ্রান্সের প্রধান শহরগুলোতে সমাবেশ নিষিদ্ধ, গ্রেফতার প্রায় ১৮০০
-
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৪১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- 5
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ






















