ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা Logo সতবিন্দর এবং হরজিৎ: ভারতকে না জানিয়েই যাদের শিরচ্ছেদ করে সউদী Logo একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: বিরোধীদলীয় নেতা Logo বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন হুমায়ুন Logo লক্ষ্মীপূজা আজ Logo শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, থাকছে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ Logo বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর Logo নতুন কোচ মাকেতার ক্লাসে মুশফিক-মুমিনুল-শান্তরা Logo কার্যকর এআই তৈরিতে মনোযোগ মাইক্রোসফটেরমাইক্রোসফট

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চলমান ইরান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিভিন্ন তেল শোধনাগার, স্থাপনা এবং সাগরে চলাচলকারী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে ছড়িয়ে পড়া তেল নিঃসরণ বা ‘অয়েল স্পিল’ এখন মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘সেন্টিনেল-২’ (Sentinel-2) মিশনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের আস্তরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের কেশম ও লাভান দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে লাভান দ্বীপের হামলাকে পরিবেশগত একটি বড় জরুরি অবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছে ডাচ শান্তি গবেষণা সংস্থা ‘প্যাক্স’ (PAX)।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ দূষণের ফলে পারস্য উপসাগরের অনন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্রবাল প্রাচীর (Coral Reefs) এবং সামুদ্রিক প্রাণীরা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি কচ্ছপ ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত শিদ্বারা দ্বীপের সংরক্ষিত এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে তেলের এই বিষাক্ত আস্তরণ। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রাও মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, সংঘাতের মাত্রা তীব্র হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনাগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনরুদ্ধার কাজ অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের নিয়ম অনুযায়ী যুদ্ধজনিত কারণে সৃষ্ট এমন পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বা পরিষ্কার করার ব্যয় মেটানোর বিধান না থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ পরিবেশগত উদ্যোগ বা ইকোলজিক্যাল ইউনিয়ন গঠন না করা হলে এই অঞ্চল এক অপূরণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। সোর্স: সিএনএন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৮:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

চলমান ইরান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিভিন্ন তেল শোধনাগার, স্থাপনা এবং সাগরে চলাচলকারী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে ছড়িয়ে পড়া তেল নিঃসরণ বা ‘অয়েল স্পিল’ এখন মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘সেন্টিনেল-২’ (Sentinel-2) মিশনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের আস্তরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের কেশম ও লাভান দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে লাভান দ্বীপের হামলাকে পরিবেশগত একটি বড় জরুরি অবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছে ডাচ শান্তি গবেষণা সংস্থা ‘প্যাক্স’ (PAX)।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ দূষণের ফলে পারস্য উপসাগরের অনন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্রবাল প্রাচীর (Coral Reefs) এবং সামুদ্রিক প্রাণীরা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি কচ্ছপ ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত শিদ্বারা দ্বীপের সংরক্ষিত এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে তেলের এই বিষাক্ত আস্তরণ। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রাও মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, সংঘাতের মাত্রা তীব্র হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনাগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনরুদ্ধার কাজ অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের নিয়ম অনুযায়ী যুদ্ধজনিত কারণে সৃষ্ট এমন পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বা পরিষ্কার করার ব্যয় মেটানোর বিধান না থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ পরিবেশগত উদ্যোগ বা ইকোলজিক্যাল ইউনিয়ন গঠন না করা হলে এই অঞ্চল এক অপূরণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। সোর্স: সিএনএন।