অন্ধকারে গোসলের এই কৌশল মন শান্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে। ছবি: এআইয়ের সহায়তায় বানানোসারাদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, মোবাইলের স্ক্রিন আর নানা চিন্তার ভিড়ে নিজের জন্য একটু শান্ত সময় বের করাই যেন কঠিন। অথচ মানসিক প্রশান্তি পেতে সব সময় আলাদা করে সময় বের করা সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতায় দৈনন্দিন গোসলের অভিজ্ঞতাকেই আরও আরামদায়ক করে তোলার একটি নতুন ট্রেন্ড আলোচনায় এসেছে। নাম ‘ডার্ক শাওয়ারিং’।‘ডার্ক শাওয়ারিং-এর মানে হলো সম্পূর্ণ অন্ধকারে গোসল করা। আপনি যখন গোসল করবেন তখন সেখানে কোনো আলো থাকবে না। অন্ধকারে শরীরের ইন্দ্রিয়গুলো গভীরভাবে কাজ করে। যার ফলে গোসলের অভিজ্ঞতা হয় আরও গভীর, মনোযোগী ও প্রশান্তিদায়ক।এই পদ্ধতিকে অনেকেই মানসিক স্বস্তি এবং স্ট্রেস কমানোর একটি সহজ উপায় হিসেবে দেখছেন।ডার্ক শাওয়ারিং কী এবং কেন জনপ্রিয়?ডার্ক শাওয়ারিং বলতে সাধারণত কম আলো বা অন্ধকার পরিবেশে গোসল করাকে বোঝায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভ্যাসকে মানসিক প্রশান্তি, আরাম এবং নিজের অনুভূতির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।এর মূল ধারণা হলো, গোসলের সময় বাইরের উদ্দীপনা কমিয়ে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়া। একে অনেকটা মাইন্ডফুলনেস বা সচেতন মনোযোগের অনুশীলনের সঙ্গে তুলনা করা যায়।ডার্ক শাওয়ারিংয়ের উপকারিতানিজের অনুভূতিতে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগগোসলের সময় চোখে দেখা দৃশ্য কম থাকলে কেউ কেউ পানির শব্দ, ত্বকে পানির স্পর্শ এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। এতে দৈনন্দিন চিন্তা থেকে মন সরিয়ে বর্তমান মুহূর্তে থাকা সহজ হতে পারে। এতে গোসলের অভিজ্ঞতা হয় অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।মানসিক প্রশান্তির অনুভূতিঅনেকের কাছে কম আলোয় থাকা আরামদায়ক। গোসলের সময় উজ্জ্বল আলো ও ফোনের ব্যবহার এড়িয়ে চললে এটি একটি শান্ত বিরতি হয়ে উঠতে পারে। ধীরে শ্বাস নেওয়া এবং পানির শব্দে মনোযোগ দেওয়ার মতো অভ্যাসও আরাম পেতে সাহায্য করে। ফলে মন শান্ত হয়, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমে। ধীরে ধীরে শরীর ও মন দুটোই আরাম পায়।পানির তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন এবং ত্বকে পানির প্রবাহ শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে। এর ফলে শরীর সতেজ থাকে এবং পেশির টান কমে।মস্তিষ্কের অতিরিক্ত চাপ কমায়চারপাশের আলো, শব্দ, স্ক্রিন ও নানা দৃশ্যগত তথ্য আমাদের মনোযোগে প্রভাব ফেলে। গোসলের সময় এসব উদ্দীপনা কমিয়ে দিলে বাইরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক দূরে থাকা যায়। মনোযোগ যখন পানির শব্দ, স্পর্শ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে থাকে, তখন প্রতিদিনের চিন্তা থেকে বিরতি নেওয়া সহজ হতে পারে। এ কারণেই অনেকে ডার্ক শাওয়ারিংকে নিজের যতœ নেওয়ার একটি অভ্যাস হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।কীভাবে করবেন ডার্ক শাওয়ারিং?গোসলের আগে বাথরুমের উজ্জ্বল আলো কমিয়ে দিন। চাইলে মৃদু আলো ব্যবহার করতে পারেন, যাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহজে দেখা যায়। তোয়ালে, সাবান ও শ্যাম্পু হাতের কাছে রাখুন, যেন অন্ধকারে সেগুলো খুঁজতে গিয়ে অসুবিধা না হয়।গোসলের সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখুন। পানির শব্দ, শরীরে পানির স্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন।কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন, তবে অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন। সুগন্ধি ব্যবহার করতে চাইলে এমন পণ্য বেছে নিন, যাতে আপনার অ্যালার্জি বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি নেই।তাড়াহুড়া না করে স্বাভাবিক গতিতে গোসল করুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন এবং কয়েক মিনিটের জন্য অন্য চিন্তা থেকে মন সরানোর চেষ্টা করুন। পুরো অভিজ্ঞতাকে দিনের ব্যস্ততা থেকে নিজের জন্য নেওয়া একটি ছোট বিরতি হিসেবে দেখুন।অন্ধকারে গোসলের আগে যে সতর্কতা জরুরিসম্পূর্ণ অন্ধকারে বাথরুমে গোসল করলে পিছলে পড়ে যাওয়া, কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগা কিংবা গরম পানির তাপমাত্রা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তার জন্য মৃদু আলো রাখা ভালো। যাদের ভারসাম্যজনিত সমস্যা, দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা বা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে গোসল না করাই উচিত।দিনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য কয়েক মিনিট সময় রাখাও আত্মযতেœর অংশ। আর সেই সময় যদি গোসলের মতো পরিচিত একটি কাজের মধ্যেই পাওয়া যায়, তাহলে অভ্যাসটি দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত করা সহজ হতে পারে।সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ, হেলথলাইন
সংবাদ শিরোনাম
মানসিক চাপ কমাতে ডার্ক শাওয়ারিং
-
আইটি ডেস্ক: - আপডেট সময় ১২:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- 7
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























