ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

গঙ্গাচড়ায় বৈরী আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

বৈরী আবহাওয়া ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা; কোথাও কোথাও মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। শনিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চার্জ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে রোববার সকালে উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন শত শত শিক্ষার্থী। অনেককে রাস্তায় দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। উপায় না পেয়ে কেউ দৌড়ে, আবার কেউ মোটরসাইকেল আরোহীদের সাহায্য নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অল্পসংখ্যক যে যানবাহন চলাচল করছিল, সেগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ভ্যানে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন আকাশ মেঘাছন্ন ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে কোথাও অন্ধকার আবার কোথাও মোমবাতির আলোতে পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী রিমু আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে ঠিকমতো লিখতে কষ্ট হয়েছে। বড়বিল ইউনিয়নের বটের তল এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সাবিবুর রহমান বলেন, রাতে বিদ্যুৎ ছিল না, সকালে আবার যানবাহন না পেয়ে খুব কষ্ট করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মঞ্জুরা, কবিতা, জয়মালাসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী। তারা জানান, হাতে সময় নিয়ে বের হলেও যানবাহনের অভাব ও বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষও একই দুর্ভোগে পড়েন। যানবাহনের সংকটে অনেককে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি রোববার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময় বজ্রপাত ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্র জানায়, রোববার ১২ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় রংপুরে ১৩০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এবিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, শনিবার রাতে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লোকজন কাজ করছেন। দ্রুত মেরামত করে লাইন চালু করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

গঙ্গাচড়ায় বৈরী আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৪:২১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বৈরী আবহাওয়া ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা; কোথাও কোথাও মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। শনিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চার্জ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে রোববার সকালে উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন শত শত শিক্ষার্থী। অনেককে রাস্তায় দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। উপায় না পেয়ে কেউ দৌড়ে, আবার কেউ মোটরসাইকেল আরোহীদের সাহায্য নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অল্পসংখ্যক যে যানবাহন চলাচল করছিল, সেগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ভ্যানে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন আকাশ মেঘাছন্ন ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে কোথাও অন্ধকার আবার কোথাও মোমবাতির আলোতে পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী রিমু আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে ঠিকমতো লিখতে কষ্ট হয়েছে। বড়বিল ইউনিয়নের বটের তল এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সাবিবুর রহমান বলেন, রাতে বিদ্যুৎ ছিল না, সকালে আবার যানবাহন না পেয়ে খুব কষ্ট করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মঞ্জুরা, কবিতা, জয়মালাসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী। তারা জানান, হাতে সময় নিয়ে বের হলেও যানবাহনের অভাব ও বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষও একই দুর্ভোগে পড়েন। যানবাহনের সংকটে অনেককে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি রোববার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময় বজ্রপাত ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্র জানায়, রোববার ১২ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় রংপুরে ১৩০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এবিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, শনিবার রাতে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লোকজন কাজ করছেন। দ্রুত মেরামত করে লাইন চালু করা হবে।