অফিসে কাজের চাপ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব শেষ করার তাড়া, মিটিংয়ের ব্যস্ততায় কর্মজীবন এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং।এর মধ্যে কোনো সহকর্মী যদি কথায় কথায় বিরক্ত হন, সামান্য বিষয়েও রেগে যান কিংবা সবকিছুতেই নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তাহলে কর্মপরিবেশ আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। কখনো তার আচরণে কাজের মনোযোগ নষ্ট হয়, কখনো আবার অকারণেই মন খারাপ হয়ে যায়।২৭ অক্টোবর ক্র্যাঙ্কি কো-ওয়ার্কার্স ডে উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক, খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কীভাবে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করা যায়।শান্ত থেকে কথা বলুনখিটখিটে মেজাজের কারো সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের কণ্ঠস্বর ও শব্দচয়ন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বললেও পাল্টা চিৎকার করা বা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পরে আলোচনা করুন। শান্তভাবে কথা বললে ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারে এবং সমস্যার সমাধানে পৌঁছানো সহজ হয়।কথাবার্তা রাখুন কাজকেন্দ্রিকসহকর্মীর মেজাজ খারাপ থাকলে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা ব্যক্তিগত বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলতে পারেন। কাজের প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে জানান এবং দায়িত্ব, সময়সীমা ও প্রত্যাশা নিয়ে পরিষ্কার থাকুন। ই-মেইল বা লিখিত বার্তার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানালে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কাও কমে। তবে কাজের বাইরে স্বাভাবিক সৌজন্য বজায় রাখুন।ব্যক্তিগত সীমারেখা তৈরি করুনসহকর্মীর বিরক্তি সামলাতে গিয়ে নিজের মানসিক স্বস্তি বিসর্জন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বারবার অসম্মানজনকভাবে কথা বললে শান্তভাবে নিজের অবস্থান জানান। বলতে পারেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারি, তবে একটু শান্তভাবে আলোচনা করলে ভালো হয়।’ এতে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করার পাশাপাশি সমস্যার সমাধানের সুযোগও তৈরি হয়।অযথা তর্কে জড়াবেন নাকিছু মানুষ ছোটখাটো বিষয় নিয়েও দীর্ঘ তর্কে জড়িয়ে পড়তে পারেন। প্রতিটি মন্তব্যের জবাব দেওয়া বা নিজের অবস্থান বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করলে সময় ও মানসিক শক্তি দুটাই নষ্ট হতে পারে। কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা জরুরি, আর কোনটি এড়িয়ে যাওয়া যায়, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সমস্যা হলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও যুক্তি দিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরুন।সমস্যা থাকলে সরাসরি আলোচনা করুনকোনো সহকর্মীর আচরণ নিয়মিতভাবে আপনার কাজ ব্যাহত করলে উপযুক্ত সময়ে তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলুন। অভিযোগের সুরে কথা না বলে নির্দিষ্ট আচরণটি কীভাবে কাজের ওপর প্রভাব ফেলছে, তা ব্যাখ্যা করুন। যেমন, ‘মিটিংয়ের সময় বারবার বাধা পেলে আমার বক্তব্য শেষ করা কঠিন হয়।’ এতে ব্যক্তিকে আক্রমণ না করেও সমস্যাটি তুলে ধরা যায়।কখন সরে আসতে হবে, তা বুঝুনকখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা বুঝতে শেখাও জরুরি। সহকর্মীর রাগ বাড়তে থাকলে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হলে, তর্ক চালিয়ে না গিয়ে সাময়িকভাবে সরে আসুন। এতে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে। পরিস্থিতি শান্ত হলে পরে আবার আলোচনা করতে পারেন।নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিনঅন্যের আচরণ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে নিজের কাজেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বিরতি নিন, সহকর্মীদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ বজায় রাখুন এবং কাজের বাইরে নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন। অফিসের সব সমস্যার সমাধান নিজের হাতে নেই-এই বিষয়টি মনে রাখাও জরুরি।প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানসহকর্মীর আচরণ যদি নিয়মিত অপমান, হয়রানি, হুমকি বা কাজের পরিবেশ নষ্ট করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তাহলে বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না। ঘটনার তারিখ, সময় ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে ব্যবস্থাপক বা মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে কথা বলুন। পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখা শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব।কর্মক্ষেত্রে সবার স্বভাব এক রকম হবে না। কারো মেজাজ শান্ত, কারও আচরণ কিছুটা রুক্ষ। তাই সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে ধৈর্য, স্পষ্ট যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মান গুরুত্বপূর্ণ। তবে মানিয়ে চলার অর্থ অসম্মান সহ্য করা নয়। নিজের সীমারেখা বজায় রেখে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করলে খিটখিটে সহকর্মীর সঙ্গেও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।সূত্র: কানাডা সেফটি ট্রেনিং সেন্টার, বিজনেস ইনসাইডার, মিডিয়াম
সংবাদ শিরোনাম
খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয়
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- 7
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























