ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

মিরসরাইয়ে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে তাক লাগিয়েছে উদ্যোক্তা সোহেল

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিশেষ জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন দক্ষিণ অলিনগর গ্রামে এই নতুন জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি উদ্যোক্তা সোহেল। প্রচলিত ধানের তুলনায় এ বিশেষ জাতের কালো চালের বাজার সম্ভাবনা বেশি দেখছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। নতুন এই ধান চাষ করে বেশ আশাবাদী উদ্যোক্তা ও স্থানীয় কৃষকরাও। উচ্চ ফলনশীল এই ব্ল্যাক রাইস চাষ সারাদেশে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। সরেজমিন দেখা গেছে, করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের উদ্যোক্তা গিয়াস উদ্দিন সোহেল তাঁর ৪.৮ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই কালো ধান চাষ করেছেন। নতুন এ ধানের চাষাবাদ, ফলন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা যাচাই করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষিবিদদের মতে, ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান থাকায় এর চালের রং কালো বা গাঢ় বেগুনি হয়ে থাকে। এতে সাধারণ চালের তুলনায় প্রচুর ফাইবারসহ নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাজারে এ চালের চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বেশি। তবে এর বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য স্থানীয় চাহিদা তৈরি এবং শক্তিশালী বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। উদ্যোক্তা গিয়াস উদ্দিন সোহেল জানান, প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক রাইচ জাতের ধান চাষ করি। প্রচলিত অন্য ধানের তুলনায় এখানে ফলন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ, অথচ উৎপাদন খরচ সাধারণ ধানের মতোই রয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় ধানগুলো এবার চাল হিসেবে বিক্রি না করে সম্পূর্ণটাই আগামী মৌসুমের জন্য বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করবো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাইয়ে প্রথমবারের মতো কালো ধান চাষ করা কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে। ফলন, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার সম্ভাবনা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধান চাষ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কালো ধান চাষের খরচ অন্যান্য প্রচলিত ধানের মতোই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন চেইন শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কালো চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই ধান চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আশা জাগাচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

মিরসরাইয়ে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে তাক লাগিয়েছে উদ্যোক্তা সোহেল

আপডেট সময় ০৮:৩৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিশেষ জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন দক্ষিণ অলিনগর গ্রামে এই নতুন জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি উদ্যোক্তা সোহেল। প্রচলিত ধানের তুলনায় এ বিশেষ জাতের কালো চালের বাজার সম্ভাবনা বেশি দেখছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। নতুন এই ধান চাষ করে বেশ আশাবাদী উদ্যোক্তা ও স্থানীয় কৃষকরাও। উচ্চ ফলনশীল এই ব্ল্যাক রাইস চাষ সারাদেশে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। সরেজমিন দেখা গেছে, করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের উদ্যোক্তা গিয়াস উদ্দিন সোহেল তাঁর ৪.৮ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই কালো ধান চাষ করেছেন। নতুন এ ধানের চাষাবাদ, ফলন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা যাচাই করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষিবিদদের মতে, ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান থাকায় এর চালের রং কালো বা গাঢ় বেগুনি হয়ে থাকে। এতে সাধারণ চালের তুলনায় প্রচুর ফাইবারসহ নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাজারে এ চালের চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বেশি। তবে এর বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য স্থানীয় চাহিদা তৈরি এবং শক্তিশালী বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। উদ্যোক্তা গিয়াস উদ্দিন সোহেল জানান, প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক রাইচ জাতের ধান চাষ করি। প্রচলিত অন্য ধানের তুলনায় এখানে ফলন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ, অথচ উৎপাদন খরচ সাধারণ ধানের মতোই রয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় ধানগুলো এবার চাল হিসেবে বিক্রি না করে সম্পূর্ণটাই আগামী মৌসুমের জন্য বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করবো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাইয়ে প্রথমবারের মতো কালো ধান চাষ করা কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে। ফলন, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার সম্ভাবনা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধান চাষ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কালো ধান চাষের খরচ অন্যান্য প্রচলিত ধানের মতোই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন চেইন শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কালো চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই ধান চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আশা জাগাচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।