কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নলবিলা বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পাহাড় ও গাছপালা কেটে বাড়িঘর এবং মুরগির খামার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনভূমির ভেতরে ইতোমধ্যে প্রায় সাতটি পাকা, সেমিপাকা ও টিনের ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব কর্মকা-ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বনবিট কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহাবসহ বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মচারীরা অবগত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, নলবিলা বনবিটের বার আউলিয়ানগর ও কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। বার আউলিয়ানগর এলাকায় লাল মিয়ার ছেলে মামুন(৩০) প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া বানিয়ারছড়ায় আলাউদ্দিনের ফার্নিচারের দোকানের ডান পাশের ইটের রাস্তা দিয়ে ব্রিজের খাল পার হয়ে বাম দিকে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসলামনগরের পূর্ব পাশে আড়াইল্লাহ ঘোনা এলাকায় মহিউদ্দিন ড্রাইভার পাহাড়ের মাটি কেটে স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকার মেইন রাস্তার পাশে বোখারী মাদ্রাসার গেটের পূর্ব দিকে খলিলের ঘোনার রাস্তা সংলগ্ন স্থানে একটি সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বার আউলিয়ানগর আল-আমিন পাড়া এলাকায় নুরু সওদাগরের ছেলে হেলাল ড্রাইভার(৪৫) স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একই এলাকার জামাল হোসেন কাঠের ব্রিজ পার হয়ে মোড়ের কাছে ছাদযুক্ত পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইসলামনগরের বোখারী মাদ্রাসার গেট পার হয়ে কাছরারটাল নামক রাস্তার পাশে পাহাড় কেটে মুরগির খামার নির্মাণকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনবিট কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহাব ও সংশ্লিষ্ট এফজি আনিসের যোগসাজশে সেখানে খামার নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তার নজরে আনা হলে বনবিট কর্মকর্তা ও এফজি আনিস সার্ভেয়ার নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে ৫০ ফুট জায়গা বাদ দিয়ে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। এ সময় সার্ভেয়ারকেও ৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষায়, বনভূমি দখলের ক্ষেত্রে এভাবেই একটি অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনবিট কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহাব উৎকোচের বিনিময়ে সংরক্ষিত বনভূমিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছেন। কেউ অভিযোগ জানালে তিনি তা গুরুত্ব দেন না। এমনকি বনবিটের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর আচরণ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয়দের আরও দাবি, যোগদানের পর গত ছয় মাসে বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটার ঘটনায় কার্যকর অভিযান বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির খুবই কম। তাঁদের প্রশ্ন, সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় ও দখলের ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নীরব? তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নলবিলা বনবিট কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহাব। তিনি বলেন, ‘আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করে বিভিন্ন স্থানে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। স্থানীয়রা আমার বিরুদ্ধে অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ তুলে ষড়যন্ত্র করছেন।
সংবাদ শিরোনাম
পাহাড় কেটে সাতটি স্থাপনা, চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বাড়িঘর ও মুরগির খামার নির্মাণের অভিযোগ
-
অলি উল্লাহ রনি (স্টাফ রিপোর্টার) কক্সবাজার - আপডেট সময় ০২:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- 3
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















