চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক (আতিয়ার পাড়া সড়ক দিয়ে যাওয়া) জামছড়ি খালের ওপর নির্মিত জামছড়ি সেতুটি ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে গেছে। সেতুর একটু অংশে দেবে গেছে এবং পিলারের নিচে মাটি সরে গেছে। সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের আতিয়ারপাড়া, বাইয়ারপাড়া, নাছির মোহাম্মদ পাড়া, পদ্মাশীখিল, মজিদারপাড়া, মহাজন মসজিদে যাতায়াত ও ওয়াহেদের পাড়া সহ পার্বত্য বান্দরবানের টংকাবতী ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ার প্রায় ৩০ হাজারের অধিক মানুষের যাতায়াত করে থাকে। বিশেষ করে প্রায় ৮টির অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীও এ সেতু পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুল, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। স্থানীয় এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য এ সেতু দিয়েই বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করে থাকে। এ সেতুর একটি অংশে দেবে যাওয়ায়, পিলারের নিচে মাটি সরে যাওয়ার কারণে সেতু দিয়ে আতংকে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারি ও বিভিন্ন যান চলাচলকারীদের। হঠাৎ যদি সেতুটির দেবে যাওয়ায় ভেঙে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ সেতুর বিকল্প হিসেবে এলাকার মানুষের প্রায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে উপজেলাসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াত করতে হবে। উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে এলজিইডি ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই জামছড়ি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সচেতন জনসাধারণের মতে, জামছড়ি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দেবে যাওয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক। এই ধরণের অবকাঠামোগত ত্রুটি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। সিএনজি চালক আবুল কাসেম বলেন, যাত্রীদের নিয়ে এ সেতু দিয়ে পারাপারে আতংকে থাকি কখন যে দেবে যাওয়া অংশটি ভেঙে পড়ে যায়। আমরা দ্রুত এটির সমাধান আশা করছি। এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দিন বলেন, এ সেতুটি আমাদের এলাকায় আসার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেতুটি ভেঙে গেলে আমাদের বিকল্প রাস্তায় যেতে অনেক দূরে গিয়ে যাতায়াত করতে হবে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে দেবে যাওয়া অংশটি সংস্কার কিংবা সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে। জামেউল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবদুল গফুর বলেন, এ সেতু দিয়ে মাদ্রাসায় চলাচল করি। সেতুটি ইতিমধ্যে দেবে গেছে, নিচে পিলারের মাটি সরে গেছে। আমাদের এ সেতুটি দ্রুত সংস্কার করা উচিত। চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন বলেন, সেতুটি অনেক বেশি পুরোনো। এ সেতুটি দ্রুত সময়ে সংস্কারের জরুরি। সেতুটির একটি অংশে দেবে গেছে। পিলারের নিচে মাটি সরে গেছে।যাতায়াতে এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত আতংকে থাকে। সেতুটি দেবে যাওয়ার বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।
সংবাদ শিরোনাম
চরম্বায় জামছড়ি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দেবে গেছে: জনদুর্ভোগ
-
আতাউর রহমান মাসুদ (লোহাগাড়া) চট্টগ্রাম - আপডেট সময় ০৪:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- 200
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















