প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ ও বাউল কামাল পাশার গীতকথা নিয়ে রাজধানী ঢাকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে গান গাইলেন দৈনিক খবরপত্র প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের পল্লীগীতি শিল্পী আল হেলাল। এ প্রসঙ্গে আল হেলাল বলেন, কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনেই নয় বরং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তৃতায়ও ভাটির জনপদের বিখ্যাত বাউলকবি কামাল পাশার দেশাত্ববোধক গানের কথা আলোচিত হয়েছে। এগুলো নিছক কোন মাতাপুত্রের বক্তব্যই নয় বরং এসব কথা ও বক্তৃতার মধ্যে নিহিত রয়েছে মা মাটি মানব ও দেশপ্রেমের মূলকথা এবং একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর কষ্ট ও যন্ত্রনার কথা। যেকথা কখনও ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমি বারবার সেই মূল্যবান বক্তব্যগুলো আমার হৃদয়ের গহীন কোনে সযতেœ লালন করে চলি। এবং গর্ব অনুভব করি এই কথাগুলো তো আমাদের ভাটির জনপদের চারনকবি বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) সাহেবের গানের কথা ও বাক্য বলে। তিনি বলেন, বাউল কামাল পাশার সেই বিখ্যাত গান, “বাতি ছাড়া এ রংমহল ঘর রুশনেআলা হয়না। আজকে বাদশাহ কালকে ফকির সমানে দিন যায়না। তুমি সব দিয়ে যার সব কেড়ে নাও তাতো প্রাণে সয়না। তোমরা দিলকি দয়া হয়না”এই গানটির মূল রচয়িতা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কামাল উদ্দিন সাহেবের রচিত একটি সৃষ্টিতত্ত্ব গান। যে গানটি তিনি সর্বপ্রথম ১৯২৬-৪৭ পর্যন্ত বৃটিশ শাসিত আসাম প্রদেশের ২য় কাউন্সিল অব ষ্টেটে নির্বাচিত মুসলিম প্রতিনিধি (আসাম প্রাদেশিক পরিষদের উচ্চকক্ষের সদস্য) খান বাহাদুর গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর দিল্লী,কলকাতা ও শিলং শহরে অবস্থানকালে উক্ত এমপির রাজনৈতিক সহকারী পিতা মরমী কবি আজিম উদ্দিন ওরফে টিয়ার বাপের সাথে সেখানে স্বশরীরে অবস্থানকালে তৎকালীন ভারতবর্ষে গীত করেছেন। আল হেলাল বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোষানলে থাকাবস্থায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বগর্বে স্বমহিমায় বলেছিলেন, “মনে রাখবেন, সব দিন সমান যায় না”। অর্থাৎ ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল (কেউ কেউ এটি প্রকাশনার তারিখ হিসেবে ১৭ এপ্রিলও উল্লেখ করেন) ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। আল হেলাল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে ফিরে বিএনপি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমান পূর্বাচলের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট) আয়োজিত এক ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় তাঁর প্রথম জনসভা ও বক্তব্য প্রদান করেন। সেই ভাষণে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, “আমরা দেশের শান্তি চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।” তাঁর এই “আমরা দেশের শান্তি চাই” বক্তব্য এবং সামগ্রিক ভাষণে তারেক রহমান দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন। তারেক রহমানের প্রায় ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণটি বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতি পুনর্গঠনের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য হয়। “আমরা দেশের শান্তি চাই” কথাটি তারেক রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে পরপর ৩ বার উচ্চারণ করেছিলেন.২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই বাক্যটি পরপর তিনবার বলেন। তিনি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই।” তিনি মূলত দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেই কথাটি পরপর তিনবার জোর দিয়ে উচ্চারণ করেছিলেন। তবে তারেক রহমানের এ বক্তব্য ও বাক্যটি সুনামগঞ্জের বাউলকবির রচিত একটি দেশাত্ববোধক গানেও রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার ৫ প্রধান লোককবির মধ্যমনি গানের স¤্রাট বাউলকবি কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) তাঁর রচিত ৩ অন্তরার গানে ৩ বার এবং গানটির মুখপদে ২ বার মোট ৫ বার বাক্যটি গেয়েছেন। মূল গানটি হচ্ছে, “এক পিতা এক মায়ের সন্তান, আমরা ভাই ভাই। দেশের শান্তি চাইরে,আমরা বিশ্বের শান্তি চাই। বিশ্বের শান্তি চাইরে আমরা,দেশের শান্তি চাই।। (১) একটাই আমাদের পৃথিবী,এক আল্লাহ আমাদের দাবী। ওরে সব নবী আমাদের নবী,বিভিন্নতা নাই। (২) হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীস্টান,তাতে নাই কোন ব্যবধান। সবে চাই দেশেরী কল্যাণ, দেশেরী ভালাই। (৩) কেউ করোনা বিভিন্নতা,আমরা হই স্বাধীন জনতা। বাউল কামালে কয় শুন কথা,সবারে জানাই।। আল হেলাল বলেন, বাউল কামাল পাশার সুযোগ্য শিষ্য বাউল সাহেব উদ্দিন গত ১৯/১১/২০১৩ইং সুনামগঞ্জের আমল গ্রহনকারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৭ পৃষ্টার একটি হলফনামা সম্পাদন করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক আদালত-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মোছাঃ বিলকিছ আক্তার এর কাছে দাখিলকৃত ২২৫নং হলফনামার ৪ পৃষ্টায় তিনি উল্লেখ করেন, “এলাকার নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে রাজধানীর পিজি হাসপাতালে তাঁকে (বাউল কামাল পাশা) চিকিৎসাসেবা দেন”। আল হেলাল বলেন, বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত হলফনামায় শুধুমাত্র ঐ ১৮টি শব্দ এবং একটি বাক্য লিপিবদ্ধ থাকার কারণে আক্রোশান্বিত তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার একাধারে ৯বার প্রস্তাবনা পাঠানোর পরও বাউলকবি কামাল পাশা কে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেনি। তিনি বলেন,বাউল কামাল পাশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপরও গান লিখেছেন। আমার বিশ্বাস তারেক রহমানের সরকার তাঁকে একটি রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করে এই মহান কবিকে উপযুক্ত মূল্যায়ন করবেন,সেদিন বেশি দূরে নয়। উল্লেখ্য দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাবেক বার্তা সম্পাদক মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোঃ আলমগীর গনির সভাপতি ও মহাসচিব মঞ্জুর হোসেনের পরিচালনায় সংস্থার গৌরবৌজ্জল ৪৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সারাদেশের সংবাদকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহনে শনিবার ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সমাবেশ -২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের পরে “দেশের শান্তি চাই” জনপ্রিয় দেশাত্ববোধক গানটি পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী আল হেলাল।
সংবাদ শিরোনাম
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ ও বাউল কামালের গীতকথা নিয়ে গান গাইলেন খবরপত্র প্রতিনিধি আল হেলাল
-
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৮:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- 0
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















