ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না Logo পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টিতে আ. লীগের উসকানি রয়েছে: রিজভী Logo ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ:প্রধানমন্ত্রী Logo কারাগারে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা Logo মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা ও সততাই আইনজীবীর প্রধান শক্তি : আইনমন্ত্রী Logo আজ ৭ নভেম্বর: বাংলাদেশের নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার দিন Logo রোনালদোকে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন জেসুস Logo চার্জিং কেবলের মাথায় এমন খাঁজ কাটা থাকে কেন? Logo শীতে ব্যায়ামের আগে পানীয় নির্বাচনে যা জানা জরুরি Logo ‘ভাঙা বুদ্ধিজীবী’ ঋত্বিক ঘটকের জানা-অজানা অধ্যায়

চার্জিং কেবলের মাথায় এমন খাঁজ কাটা থাকে কেন?

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ১০:৪২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • 3

স্মার্টফোনের চার্জিং কেবল হাতে নিলে অনেকেই খেয়াল করেছেন, কানেক্টরের ঠিক পেছনে ছোট ছোট খাঁজ বা রাবারের মতো বাড়তি অংশ থাকে। দেখতে সাধারণ নকশা মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কারণ। কেবলের এই অংশটি তারকে দ্রুত নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বারবার ব্যবহার করার সময় কানেক্টরের গোড়ায় যে চাপ পড়ে, তা সামলাতেই তৈরি করা হয় এই বিশেষ কাঠামো।
কেবলের মাথায় খাঁজ থাকে কেন?
কেবলের যে অংশটি চার্জারের পোর্ট বা স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেটিকে বলা হয় কানেক্টর। কানেক্টরের ঠিক পেছনে থাকা খাঁজযুক্ত বা নমনীয় অংশটির নাম স্ট্রেইন রিলিফ। এর প্রধান কাজ হলো কেবলের ওপর অতিরিক্ত টান ও বাঁকানোর চাপ কমানো।
চার্জ দেওয়ার সময় অনেকেই ফোন হাতে ব্যবহার করেন। কখনো কেবল টেনে খুলে ফেলেন, আবার কখনো ফোনের পাশে কেবলটি ভাঁজ হয়ে থাকে। এসব কারণে কানেক্টরের গোড়ায় বারবার চাপ পড়ে। এই জায়গায় থাকা স্ট্রেইন রিলিফ কেবলকে ধীরে ধীরে বাঁকতে সাহায্য করে। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত চাপ জমে তারের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবাহী তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
খাঁজ না থাকলে কী সমস্যা হতে পারে?
কেবলের কানেক্টরের সঙ্গে তারের সংযোগস্থল তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল। এই অংশে যথাযথ সুরক্ষা না থাকলে বারবার বাঁকানোর ফলে বাইরের আবরণে ফাটল ধরতে পারে। পরে ভেতরের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চার্জিংয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কখনো কেবল নড়াচড়া করলে চার্জ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আবার কখনো একেবারেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
তবে শুধু খাঁজ না থাকলেই কোনো কেবল খারাপ এমন নয়। কেবলের উপাদান, ভেতরের তারের মান, নির্মাণপ্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক নকশাও এর স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে। ভালো মানের কেবল খাঁজযুক্ত অংশ ছাড়াও অন্য ধরনের স্ট্রেইন রিলিফ ব্যবহার করতে পারে।
কেবল কেনার সময় কী দেখবেন?
নতুন চার্জিং কেবল কেনার সময় কানেক্টরের গোড়ার অংশটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। অংশটি যেন যথেষ্ট নমনীয় হয় এবং তারের সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত থাকে। খুব পাতলা বা সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো প্লাস্টিকের অংশ থাকলে সেটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। পাশাপাশি কেবলের সামগ্রিক নির্মাণমান, ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতা এবং ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা জরুরি।
কেবলের আয়ু বাড়াতে ব্যবহার করবেন যেভাবে
কেবল ভালো মানের হলেও ভুল ব্যবহারে দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই কয়েকটি অভ্যাস বদলালেই এর স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব।
চার্জার খুলতে কখনো তার ধরে টান দেবেন না; কানেক্টরের শক্ত অংশ ধরে খুলুন।
ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় কেবল অতিরিক্ত বাঁকিয়ে রাখবেন না।
কেবল পেঁচিয়ে রাখার সময় খুব শক্ত করে বাঁধবেন না।
দরজা, চেয়ার বা ভারী জিনিসের নিচে কেবল চাপা পড়তে দেবেন না।
কেবলের বাইরের আবরণ ফেটে গেলে বা ভেতরের তার দেখা গেলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।
কেবলে খাঁজ না থাকলে কী করবেন?
যেসব কেবলে আলাদা স্ট্রেইন রিলিফ নেই, সেগুলোর জন্য বাজারে সিলিকন বা প্লাস্টিকের তৈরি কেবল প্রোটেক্টর পাওয়া যায়। এগুলো কানেক্টরের পেছনের অংশে লাগিয়ে অতিরিক্ত বাঁকানোর চাপ কিছুটা কমানো যায়। তবে প্রোটেক্টর লাগালেই কেবল নতুনের মতো মজবুত হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কেবলের বদলে নতুন ও মানসম্মত কেবল ব্যবহার করাই নিরাপদ।
অর্থাৎ, চার্জিং কেবলের মাথার ছোট্ট খাঁজগুলো শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। সঠিকভাবে তৈরি হলে এগুলো কেবলের দুর্বল সংযোগস্থলকে সুরক্ষা দিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে সাহায্য করে। তাই কেবল কেনার সময় এই ছোট অংশটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না

চার্জিং কেবলের মাথায় এমন খাঁজ কাটা থাকে কেন?

আপডেট সময় ১০:৪২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

স্মার্টফোনের চার্জিং কেবল হাতে নিলে অনেকেই খেয়াল করেছেন, কানেক্টরের ঠিক পেছনে ছোট ছোট খাঁজ বা রাবারের মতো বাড়তি অংশ থাকে। দেখতে সাধারণ নকশা মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কারণ। কেবলের এই অংশটি তারকে দ্রুত নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বারবার ব্যবহার করার সময় কানেক্টরের গোড়ায় যে চাপ পড়ে, তা সামলাতেই তৈরি করা হয় এই বিশেষ কাঠামো।
কেবলের মাথায় খাঁজ থাকে কেন?
কেবলের যে অংশটি চার্জারের পোর্ট বা স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেটিকে বলা হয় কানেক্টর। কানেক্টরের ঠিক পেছনে থাকা খাঁজযুক্ত বা নমনীয় অংশটির নাম স্ট্রেইন রিলিফ। এর প্রধান কাজ হলো কেবলের ওপর অতিরিক্ত টান ও বাঁকানোর চাপ কমানো।
চার্জ দেওয়ার সময় অনেকেই ফোন হাতে ব্যবহার করেন। কখনো কেবল টেনে খুলে ফেলেন, আবার কখনো ফোনের পাশে কেবলটি ভাঁজ হয়ে থাকে। এসব কারণে কানেক্টরের গোড়ায় বারবার চাপ পড়ে। এই জায়গায় থাকা স্ট্রেইন রিলিফ কেবলকে ধীরে ধীরে বাঁকতে সাহায্য করে। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত চাপ জমে তারের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবাহী তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
খাঁজ না থাকলে কী সমস্যা হতে পারে?
কেবলের কানেক্টরের সঙ্গে তারের সংযোগস্থল তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল। এই অংশে যথাযথ সুরক্ষা না থাকলে বারবার বাঁকানোর ফলে বাইরের আবরণে ফাটল ধরতে পারে। পরে ভেতরের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চার্জিংয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কখনো কেবল নড়াচড়া করলে চার্জ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আবার কখনো একেবারেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
তবে শুধু খাঁজ না থাকলেই কোনো কেবল খারাপ এমন নয়। কেবলের উপাদান, ভেতরের তারের মান, নির্মাণপ্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক নকশাও এর স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে। ভালো মানের কেবল খাঁজযুক্ত অংশ ছাড়াও অন্য ধরনের স্ট্রেইন রিলিফ ব্যবহার করতে পারে।
কেবল কেনার সময় কী দেখবেন?
নতুন চার্জিং কেবল কেনার সময় কানেক্টরের গোড়ার অংশটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। অংশটি যেন যথেষ্ট নমনীয় হয় এবং তারের সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত থাকে। খুব পাতলা বা সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো প্লাস্টিকের অংশ থাকলে সেটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। পাশাপাশি কেবলের সামগ্রিক নির্মাণমান, ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতা এবং ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা জরুরি।
কেবলের আয়ু বাড়াতে ব্যবহার করবেন যেভাবে
কেবল ভালো মানের হলেও ভুল ব্যবহারে দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই কয়েকটি অভ্যাস বদলালেই এর স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব।
চার্জার খুলতে কখনো তার ধরে টান দেবেন না; কানেক্টরের শক্ত অংশ ধরে খুলুন।
ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় কেবল অতিরিক্ত বাঁকিয়ে রাখবেন না।
কেবল পেঁচিয়ে রাখার সময় খুব শক্ত করে বাঁধবেন না।
দরজা, চেয়ার বা ভারী জিনিসের নিচে কেবল চাপা পড়তে দেবেন না।
কেবলের বাইরের আবরণ ফেটে গেলে বা ভেতরের তার দেখা গেলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।
কেবলে খাঁজ না থাকলে কী করবেন?
যেসব কেবলে আলাদা স্ট্রেইন রিলিফ নেই, সেগুলোর জন্য বাজারে সিলিকন বা প্লাস্টিকের তৈরি কেবল প্রোটেক্টর পাওয়া যায়। এগুলো কানেক্টরের পেছনের অংশে লাগিয়ে অতিরিক্ত বাঁকানোর চাপ কিছুটা কমানো যায়। তবে প্রোটেক্টর লাগালেই কেবল নতুনের মতো মজবুত হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কেবলের বদলে নতুন ও মানসম্মত কেবল ব্যবহার করাই নিরাপদ।
অর্থাৎ, চার্জিং কেবলের মাথার ছোট্ট খাঁজগুলো শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। সঠিকভাবে তৈরি হলে এগুলো কেবলের দুর্বল সংযোগস্থলকে সুরক্ষা দিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে সাহায্য করে। তাই কেবল কেনার সময় এই ছোট অংশটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।