ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

কুড়িগ্রামের ভুঙ্গামারীর দুধকুমার নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে তীর রক্ষা বাঁধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী চক্র। উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নদের তীর রক্ষা বাঁধ। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব?্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় নদের তীর রক্ষা বাঁধ ধসে এলাকার ঘরবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম নামের তিনব?্যক্তি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুধকুমার নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, দুধকুমার নদের তীরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব?্যয়ে ৫০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। সেই তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে বাঁধের কাছেই ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলে বিক্রি করছে জাহাঙ্গীর আলম,মাইদুল ইসলাম এবং আসাদুল ইসলাম। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ভটভটি এই বালু পরিবহন করে বিক্রি হয়। অথচ নদের তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলন বন্ধে পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল, মিজানুর রহমান, মাইদুল ও সামাদ জানান, দুধকুমার নদের পশ্চিম তীরে পাউবো নদের ভাঙন রোধে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করতেছে। অথচ তীর সংলগ্ন এসব ব্লকের পাশেই অবৈধ তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাইদুল, জাহাঙ্গীর ও আসাদুল। এতে পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নদীর তীর রক্ষা বাধ। শুধু নদীর তীর রক্ষা বাধ নয় ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই তিনজন ড্রেজার মালিক একটি প্রভাশালী মহলের মদদে বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। স্থানীয়রা ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই। আমরা বালু তুলে মানুষের বাড়ির ভিটে উঁচু করার কাজে ব?্যবহার করছি। চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, বালু উত্তলোনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। যে কোন অবৈধ কাজ বন্ধে আমি অবশ্যই প্রশাসনের সহায়তা নিবো। এবিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম পাওবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বদলীজনিত কারণে উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে থানা পুলিশের কিছু করার নেই। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে ইউএনও বা এসিল্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের ভুঙ্গামারীর দুধকুমার নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে তীর রক্ষা বাঁধ

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী চক্র। উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নদের তীর রক্ষা বাঁধ। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব?্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় নদের তীর রক্ষা বাঁধ ধসে এলাকার ঘরবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম নামের তিনব?্যক্তি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুধকুমার নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, দুধকুমার নদের তীরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব?্যয়ে ৫০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। সেই তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে বাঁধের কাছেই ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলে বিক্রি করছে জাহাঙ্গীর আলম,মাইদুল ইসলাম এবং আসাদুল ইসলাম। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ভটভটি এই বালু পরিবহন করে বিক্রি হয়। অথচ নদের তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলন বন্ধে পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল, মিজানুর রহমান, মাইদুল ও সামাদ জানান, দুধকুমার নদের পশ্চিম তীরে পাউবো নদের ভাঙন রোধে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করতেছে। অথচ তীর সংলগ্ন এসব ব্লকের পাশেই অবৈধ তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাইদুল, জাহাঙ্গীর ও আসাদুল। এতে পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নদীর তীর রক্ষা বাধ। শুধু নদীর তীর রক্ষা বাধ নয় ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই তিনজন ড্রেজার মালিক একটি প্রভাশালী মহলের মদদে বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। স্থানীয়রা ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই। আমরা বালু তুলে মানুষের বাড়ির ভিটে উঁচু করার কাজে ব?্যবহার করছি। চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, বালু উত্তলোনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। যে কোন অবৈধ কাজ বন্ধে আমি অবশ্যই প্রশাসনের সহায়তা নিবো। এবিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম পাওবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বদলীজনিত কারণে উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে থানা পুলিশের কিছু করার নেই। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে ইউএনও বা এসিল্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়।