ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

জেরায় আমান আযমী ‘শেখ হাসিনা আমার অধীনে বন্দী ছিল’

সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী। পুরোনো ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেরার সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ১৯৮৩ সালে এরশাদের সামরিক শাসন আমলে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে রাজধানীর হেয়ার রোডের বাসায় তার অধীনে রাখা হয়েছিল। সে সময় তিনি ‘মার্শাল ল’–এর দায়িত্ব পালন করতেন।
গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান। সে সময় আবদুল্লাহিল আমান আযমী এ তথ্য দেন।
জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯৮৩ সালে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এরশাদের সামরিক শাসন আমলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম এবং মার্শাল ল–এর দায়িত্ব পালন করতাম। তখন শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে ওই বাড়িতে কয়েক দিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মেজর জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বলেও জেরায় জানান আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি বলেন, তবে সেনাবাহিনী থেকে এই পদোন্নতি–সংক্রান্ত কোনো আদেশ না হওয়ায় তিনি জবানবন্দিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) পদবি ব্যবহার করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাক্ষী আযমী আরও বলেন, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িভাড়া বাবদ চার কোটি টাকা দিয়েছে সেনাবাহিনী। কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশে বন্দীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে এই চার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এ কথা সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে সাবজেলে আছেন তিনজন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

জেরায় আমান আযমী ‘শেখ হাসিনা আমার অধীনে বন্দী ছিল’

আপডেট সময় ০৬:২৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেরার সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ১৯৮৩ সালে এরশাদের সামরিক শাসন আমলে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে রাজধানীর হেয়ার রোডের বাসায় তার অধীনে রাখা হয়েছিল। সে সময় তিনি ‘মার্শাল ল’–এর দায়িত্ব পালন করতেন।
গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান। সে সময় আবদুল্লাহিল আমান আযমী এ তথ্য দেন।
জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯৮৩ সালে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এরশাদের সামরিক শাসন আমলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম এবং মার্শাল ল–এর দায়িত্ব পালন করতাম। তখন শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে ওই বাড়িতে কয়েক দিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মেজর জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বলেও জেরায় জানান আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি বলেন, তবে সেনাবাহিনী থেকে এই পদোন্নতি–সংক্রান্ত কোনো আদেশ না হওয়ায় তিনি জবানবন্দিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) পদবি ব্যবহার করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাক্ষী আযমী আরও বলেন, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িভাড়া বাবদ চার কোটি টাকা দিয়েছে সেনাবাহিনী। কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশে বন্দীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে এই চার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এ কথা সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে সাবজেলে আছেন তিনজন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।