ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে অতিষ্ঠ কালীগঞ্জ পৌরবাসী

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক পৌর এলাকাসমূহে সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ, ময়লা ও কালচে রঙের উপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ পৌরবাসী মধ্যে। দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে রীতিমতো অতিষ্ঠ। এ পানি ব্যবহারে পৌর বাসিন্দারা নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বাসাবাড়ি, ছাত্রাবাস ও মেসে নিজস্ব টিউবওয়েল নেই, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ নিকট বারংবার অভিযোগ দিলেও সমাধান না মিললেও মেলে আশ্বাস। ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মিত পৌরকর ও পানির বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত পানি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। পৌর এলাকার শিবনগর বোষ্টম পাড়ার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সকালে গোসল করতে গিয়ে দেখি লাইনে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে। মাঝেমধ্যেই এমন হয়। এই পানি ব্যবহার করা তো দূরের কথা, কাছে যেতেও কষ্ট লাগে। অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একই এলাকার গৃহবধূ সেলিনা খাতুন বলেন, পানির এই অবস্থার কারণে রান্না-বান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমরা ন্যূনতম সেবা পাচ্ছি না। শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী আশিক জানায়, আমাদের মেসে কোনো টিউবওয়েল নেই। পুরোপুরি পৌরসভার পানির উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অনেক দিন এমন যায়, যেদিন পানির অভাবে গোসল না করেই কলেজে যেতে হয়। মধুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা লিপু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরেই পানির মান খারাপ। এক গ্লাস পানিতে যেন অর্ধেকই আয়রন ও ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার করা যায় না। আমি কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় মোট ছয়টি পানির পাম্প রয়েছে, চাপালি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা, নিশ্চিন্তপুর, আড়পাড়া, বাস টার্মিনাল ও বৈশাখী ফিলিং স্টেশন এলাকায়। এর মধ্যে আড়পাড়ার পানির পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। পুরনো পাইপলাইনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপে মরিচা ও ছিদ্র সৃষ্টি হয়ে জং, কাদা ও ময়লা পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন তিন দফায় পানি সরবরাহ করা হয়, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা এবং বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। তবে সরবরাহের এই সময়সূচি থাকলেও পানির মান নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবং প্রকৌশলী মো. কবির হাসান বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় ছয়টি পাম্প রয়েছে, যার একটি বর্তমানে অচল। সেটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় পুরনো পাইপলাইন ও লাইনে জমে থাকা ময়লার কারণে সাময়িকভাবে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা গত রোজার আগে কিছু এলাকায় পাইপগুলো পরিস্কার করেছিলাম। আবারও পাইপ কিছু এলাকায় পরিষ্কার করা দরকার। আমরা খুব দ্রুত পরিস্কার করে দেবো। আর আমরা সব জায়গায় খোজ নিচ্ছি, কোথাও লিকেজ পয়েন্ট পাচ্ছি না। সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহে আবার পরিস্কার করবো। তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই সমস্যা সমাধান করে নাগরিকদের জন্য স্বাভাবিক ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, পৌরসভা থেকে সরবরাহকৃত পানিতে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে ইতিমধ্যে আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান সম্ভব হবে। এদিকে পৌরবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, খুব দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে অতিষ্ঠ কালীগঞ্জ পৌরবাসী

আপডেট সময় ০৪:০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক পৌর এলাকাসমূহে সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ, ময়লা ও কালচে রঙের উপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ পৌরবাসী মধ্যে। দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে রীতিমতো অতিষ্ঠ। এ পানি ব্যবহারে পৌর বাসিন্দারা নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বাসাবাড়ি, ছাত্রাবাস ও মেসে নিজস্ব টিউবওয়েল নেই, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ নিকট বারংবার অভিযোগ দিলেও সমাধান না মিললেও মেলে আশ্বাস। ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মিত পৌরকর ও পানির বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত পানি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। পৌর এলাকার শিবনগর বোষ্টম পাড়ার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সকালে গোসল করতে গিয়ে দেখি লাইনে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে। মাঝেমধ্যেই এমন হয়। এই পানি ব্যবহার করা তো দূরের কথা, কাছে যেতেও কষ্ট লাগে। অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একই এলাকার গৃহবধূ সেলিনা খাতুন বলেন, পানির এই অবস্থার কারণে রান্না-বান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমরা ন্যূনতম সেবা পাচ্ছি না। শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী আশিক জানায়, আমাদের মেসে কোনো টিউবওয়েল নেই। পুরোপুরি পৌরসভার পানির উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অনেক দিন এমন যায়, যেদিন পানির অভাবে গোসল না করেই কলেজে যেতে হয়। মধুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা লিপু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরেই পানির মান খারাপ। এক গ্লাস পানিতে যেন অর্ধেকই আয়রন ও ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার করা যায় না। আমি কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় মোট ছয়টি পানির পাম্প রয়েছে, চাপালি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা, নিশ্চিন্তপুর, আড়পাড়া, বাস টার্মিনাল ও বৈশাখী ফিলিং স্টেশন এলাকায়। এর মধ্যে আড়পাড়ার পানির পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। পুরনো পাইপলাইনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপে মরিচা ও ছিদ্র সৃষ্টি হয়ে জং, কাদা ও ময়লা পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন তিন দফায় পানি সরবরাহ করা হয়, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা এবং বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। তবে সরবরাহের এই সময়সূচি থাকলেও পানির মান নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবং প্রকৌশলী মো. কবির হাসান বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় ছয়টি পাম্প রয়েছে, যার একটি বর্তমানে অচল। সেটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় পুরনো পাইপলাইন ও লাইনে জমে থাকা ময়লার কারণে সাময়িকভাবে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা গত রোজার আগে কিছু এলাকায় পাইপগুলো পরিস্কার করেছিলাম। আবারও পাইপ কিছু এলাকায় পরিষ্কার করা দরকার। আমরা খুব দ্রুত পরিস্কার করে দেবো। আর আমরা সব জায়গায় খোজ নিচ্ছি, কোথাও লিকেজ পয়েন্ট পাচ্ছি না। সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহে আবার পরিস্কার করবো। তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই সমস্যা সমাধান করে নাগরিকদের জন্য স্বাভাবিক ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, পৌরসভা থেকে সরবরাহকৃত পানিতে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে ইতিমধ্যে আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান সম্ভব হবে। এদিকে পৌরবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, খুব দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।