ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

ব্যর্থ নিরাপত্তা মিশন শেষে হাইতি ছাড়ল কেনিয়ার পুলিশ

গ্যাং সহিংসতায় জর্জরিত হাইতিতে নিরাপত্তা সহায়তা মিশনের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা কেনিয়ার সব পুলিশ সদস্য দেশটি ছেড়ে গেছেন। গত মঙ্গলবার হাইতির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘের অনুমোদনে নতুন একটি অভিযান চালু হওয়ার মধ্যেই এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো। পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে গঠিত বহুজাতিক নিরাপত্তা সহায়তা মিশন (এমএসএস)-এর নেতৃত্ব দেয় কেনিয়া। উদ্দেশ্য ছিল হাইতির দুর্বল পুলিশকে সহায়তা করে, দেশটিকে শক্তিশালী গ্যাংদের কবল থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনও বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা দেশজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থ ও সরঞ্জামের ঘাটতিতে ভোগা এমএসএস মিশনে প্রত্যাশিত আড়াই হাজার সদস্যের অর্ধেকের মতোই মোতায়েন করা সম্ভব হয়েছিল। গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিশনটিকে আরও শক্তিশালী ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’ (জিএসএফ)-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্য থাকার কথা।
যদিও এটি জাতিসংঘের কার্যক্রমগত সহায়তা পাচ্ছে, তবুও এটি সরাসরি জাতিসংঘের বাহিনী নয়।
এ পর্যন্ত চাদের ৪০০ সেনা সদস্য পোর্ট-অ-প্রিন্সে পৌঁছেছেন।
হাইতির জাতীয় পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সপ্তাহের শেষে এমএসএস মিশনের সমাপ্তি উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তারা একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানায়, কেনিয়ার শেষ পুলিশ দলটি সোমবার দেশটি ত্যাগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জিএসএফ কেনিয়ার বাহিনীকে সাহস ও অটল নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানায়। তারা বলেন, তারা এমন পরিস্থিতিতে কাজ করেছে, যা ছিল ‘কল্পনারও অতীত কঠিন’।
আমেরিকার দরিদ্রতম দেশ হাইতি বহু বছর ধরেই অস্থিতিশীলতায় ভুগছে। দেশটিতে শক্তিশালী গ্যাংগুলো হত্যাকা-, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করে। গ্যাংদের হামলার মুখে দেশের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি পদত্যাগে বাধ্য হন। তার স্থলাভিষিক্ত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর ক্ষমতা পান প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-এইমে। দেশটিতে ২০১৬ সালের পর আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় পুরোটা এখন গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে। গত এক বছরে তাদের প্রভাব রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

ব্যর্থ নিরাপত্তা মিশন শেষে হাইতি ছাড়ল কেনিয়ার পুলিশ

আপডেট সময় ০৯:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

গ্যাং সহিংসতায় জর্জরিত হাইতিতে নিরাপত্তা সহায়তা মিশনের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা কেনিয়ার সব পুলিশ সদস্য দেশটি ছেড়ে গেছেন। গত মঙ্গলবার হাইতির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘের অনুমোদনে নতুন একটি অভিযান চালু হওয়ার মধ্যেই এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো। পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে গঠিত বহুজাতিক নিরাপত্তা সহায়তা মিশন (এমএসএস)-এর নেতৃত্ব দেয় কেনিয়া। উদ্দেশ্য ছিল হাইতির দুর্বল পুলিশকে সহায়তা করে, দেশটিকে শক্তিশালী গ্যাংদের কবল থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনও বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা দেশজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থ ও সরঞ্জামের ঘাটতিতে ভোগা এমএসএস মিশনে প্রত্যাশিত আড়াই হাজার সদস্যের অর্ধেকের মতোই মোতায়েন করা সম্ভব হয়েছিল। গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিশনটিকে আরও শক্তিশালী ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’ (জিএসএফ)-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্য থাকার কথা।
যদিও এটি জাতিসংঘের কার্যক্রমগত সহায়তা পাচ্ছে, তবুও এটি সরাসরি জাতিসংঘের বাহিনী নয়।
এ পর্যন্ত চাদের ৪০০ সেনা সদস্য পোর্ট-অ-প্রিন্সে পৌঁছেছেন।
হাইতির জাতীয় পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সপ্তাহের শেষে এমএসএস মিশনের সমাপ্তি উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তারা একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানায়, কেনিয়ার শেষ পুলিশ দলটি সোমবার দেশটি ত্যাগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জিএসএফ কেনিয়ার বাহিনীকে সাহস ও অটল নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানায়। তারা বলেন, তারা এমন পরিস্থিতিতে কাজ করেছে, যা ছিল ‘কল্পনারও অতীত কঠিন’।
আমেরিকার দরিদ্রতম দেশ হাইতি বহু বছর ধরেই অস্থিতিশীলতায় ভুগছে। দেশটিতে শক্তিশালী গ্যাংগুলো হত্যাকা-, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করে। গ্যাংদের হামলার মুখে দেশের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি পদত্যাগে বাধ্য হন। তার স্থলাভিষিক্ত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর ক্ষমতা পান প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-এইমে। দেশটিতে ২০১৬ সালের পর আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় পুরোটা এখন গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে। গত এক বছরে তাদের প্রভাব রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।