ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

ফেনীর দাগনভূঞায় প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা ইয়াসমিনের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। বুধবার (৬ মে) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপসারণের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা ইয়াসমিন কয়েকজন শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এরপর অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক কোচিং ফি বাবদ ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা আদায়, অনুপস্থিতির জন্য অতিরিক্ত জরিমানা, মডেল টেস্ট, রেজিস্ট্রেশন, এসএসসি ফরম পূরণ, শিক্ষা সফর ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা। বক্তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় বাইরের প্রশ্নপত্র ব্যবহার, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
এছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনী পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এর ফলে বিদ্যালয়ের ফলাফল ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন খাতে অপচয় ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান বক্তারা। বক্তারা জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা ইয়াসমিন বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় টেস্টে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শোকজ করা হয়েছে। অন্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে এটি একটি ষড়যন্ত্র। দাগনভূঞা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

ফেনীর দাগনভূঞায় প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৩:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা ইয়াসমিনের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। বুধবার (৬ মে) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপসারণের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা ইয়াসমিন কয়েকজন শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এরপর অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক কোচিং ফি বাবদ ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা আদায়, অনুপস্থিতির জন্য অতিরিক্ত জরিমানা, মডেল টেস্ট, রেজিস্ট্রেশন, এসএসসি ফরম পূরণ, শিক্ষা সফর ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা। বক্তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় বাইরের প্রশ্নপত্র ব্যবহার, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
এছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনী পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এর ফলে বিদ্যালয়ের ফলাফল ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন খাতে অপচয় ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান বক্তারা। বক্তারা জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা ইয়াসমিন বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় টেস্টে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শোকজ করা হয়েছে। অন্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে এটি একটি ষড়যন্ত্র। দাগনভূঞা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।