ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে হাজিরের নির্দেশ

সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। ছবি : কোলাজ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আগামী ১৪ মে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই তিন জনকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এ আদেশ দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্ত্বরের হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পনা মাফিক ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজ্জামেল বাবু ও ফারজানা রুপা। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এই মামলার বিষয়ে গত মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অনেকের হয়নি। এছাড়া পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জে ২০ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ২০ জনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। একই দিন চট্টগ্রামে পাচজন নিহত হয়। আর কুমিল্লায় নিহত হয় একজন।
তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে আর তাদের সবারই পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ মামলাটির তদন্ত কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে এই মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এই মামলার ধার্য তারিখ আগামী ৭ জুনের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে বলে আশা করছেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের যেসব সদস্য খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও আমরা নিয়েছি। সব মিলিয়ে আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পেয়েছি।
চব্বিশের জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এই মামলার আসামি হয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে হাজিরের নির্দেশ

আপডেট সময় ১২:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আগামী ১৪ মে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই তিন জনকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এ আদেশ দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্ত্বরের হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পনা মাফিক ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজ্জামেল বাবু ও ফারজানা রুপা। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এই মামলার বিষয়ে গত মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অনেকের হয়নি। এছাড়া পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জে ২০ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ২০ জনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। একই দিন চট্টগ্রামে পাচজন নিহত হয়। আর কুমিল্লায় নিহত হয় একজন।
তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে আর তাদের সবারই পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ মামলাটির তদন্ত কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে এই মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এই মামলার ধার্য তারিখ আগামী ৭ জুনের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে বলে আশা করছেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের যেসব সদস্য খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও আমরা নিয়েছি। সব মিলিয়ে আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পেয়েছি।
চব্বিশের জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এই মামলার আসামি হয়েছেন।