ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

মমতা ব্যানার্জী অনড়, বিধানসভা ভেঙে দিলেন গভর্নর

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গভর্নর আর.এন. রবি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজভবন একটি চিঠি প্রকাশ করে। এক লাইনের ওই আদেশে বলা হয়, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ)-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি ৭ মে ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলাম।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এখনও সরব রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াই এবার আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসির সাংবিধানিক আইন কেন্দ্র ‘চর্খা’-র প্রধান স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বলেন, সংবিধানের অবস্থান এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্ট।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ) অনুযায়ী বিধানসভা ভেঙে গেলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক ভিত্তিও আর থাকে না।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ তত্ত্বাবধায়ক বা কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতে পারেন, সাধারণত গভর্নরের অনুরোধে, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নিচ্ছে। তবে এটি সাংবিধানিক রীতি, বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। এই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে গভর্নরের কিছু বিবেচনাধিকার থাকে।
ত্রিপাঠী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ না করলেও তাতে সাংবিধানিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না।
তার ভাষায়, পরবর্তী ধাপ হলো নতুন বিধানসভা গঠন এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাবেন, তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো।
মমতার সামনে কী কী পথ খোলা?
মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার দাবি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর সামনে বাস্তবে খুব বেশি সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ত্রিপাঠী বলেন, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার ফলে নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি আর থাকে না।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক বৈধতা আসে নির্বাচিত বিধায়কদের আস্থা থেকে। বিধানসভা না থাকলে সেই ভিত্তিও আর থাকে না। ফলে কেয়ারটেকার ব্যবস্থার বাইরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সরাসরি কোনো সাংবিধানিক পথ নেই।
নির্বাচনী মামলা ও আদালতের পথ
নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান ত্রিপাঠী।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১’-এর আওতায় নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
এই ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে করতে হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট আসনের নির্বাচনে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।
সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

মমতা ব্যানার্জী অনড়, বিধানসভা ভেঙে দিলেন গভর্নর

আপডেট সময় ০৬:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গভর্নর আর.এন. রবি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজভবন একটি চিঠি প্রকাশ করে। এক লাইনের ওই আদেশে বলা হয়, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ)-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি ৭ মে ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলাম।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এখনও সরব রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াই এবার আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসির সাংবিধানিক আইন কেন্দ্র ‘চর্খা’-র প্রধান স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বলেন, সংবিধানের অবস্থান এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্ট।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ) অনুযায়ী বিধানসভা ভেঙে গেলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক ভিত্তিও আর থাকে না।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ তত্ত্বাবধায়ক বা কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতে পারেন, সাধারণত গভর্নরের অনুরোধে, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নিচ্ছে। তবে এটি সাংবিধানিক রীতি, বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। এই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে গভর্নরের কিছু বিবেচনাধিকার থাকে।
ত্রিপাঠী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ না করলেও তাতে সাংবিধানিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না।
তার ভাষায়, পরবর্তী ধাপ হলো নতুন বিধানসভা গঠন এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাবেন, তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো।
মমতার সামনে কী কী পথ খোলা?
মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার দাবি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর সামনে বাস্তবে খুব বেশি সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ত্রিপাঠী বলেন, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার ফলে নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি আর থাকে না।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক বৈধতা আসে নির্বাচিত বিধায়কদের আস্থা থেকে। বিধানসভা না থাকলে সেই ভিত্তিও আর থাকে না। ফলে কেয়ারটেকার ব্যবস্থার বাইরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সরাসরি কোনো সাংবিধানিক পথ নেই।
নির্বাচনী মামলা ও আদালতের পথ
নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান ত্রিপাঠী।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১’-এর আওতায় নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
এই ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে করতে হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট আসনের নির্বাচনে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।
সূত্র: এনডিটিভি