ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

মমতা ব্যানার্জী অনড়, বিধানসভা ভেঙে দিলেন গভর্নর

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গভর্নর আর.এন. রবি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজভবন একটি চিঠি প্রকাশ করে। এক লাইনের ওই আদেশে বলা হয়, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ)-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি ৭ মে ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলাম।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এখনও সরব রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াই এবার আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসির সাংবিধানিক আইন কেন্দ্র ‘চর্খা’-র প্রধান স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বলেন, সংবিধানের অবস্থান এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্ট।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ) অনুযায়ী বিধানসভা ভেঙে গেলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক ভিত্তিও আর থাকে না।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ তত্ত্বাবধায়ক বা কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতে পারেন, সাধারণত গভর্নরের অনুরোধে, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নিচ্ছে। তবে এটি সাংবিধানিক রীতি, বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। এই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে গভর্নরের কিছু বিবেচনাধিকার থাকে।
ত্রিপাঠী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ না করলেও তাতে সাংবিধানিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না।
তার ভাষায়, পরবর্তী ধাপ হলো নতুন বিধানসভা গঠন এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাবেন, তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো।
মমতার সামনে কী কী পথ খোলা?
মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার দাবি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর সামনে বাস্তবে খুব বেশি সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ত্রিপাঠী বলেন, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার ফলে নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি আর থাকে না।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক বৈধতা আসে নির্বাচিত বিধায়কদের আস্থা থেকে। বিধানসভা না থাকলে সেই ভিত্তিও আর থাকে না। ফলে কেয়ারটেকার ব্যবস্থার বাইরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সরাসরি কোনো সাংবিধানিক পথ নেই।
নির্বাচনী মামলা ও আদালতের পথ
নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান ত্রিপাঠী।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১’-এর আওতায় নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
এই ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে করতে হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট আসনের নির্বাচনে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।
সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

মমতা ব্যানার্জী অনড়, বিধানসভা ভেঙে দিলেন গভর্নর

আপডেট সময় ০৬:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গভর্নর আর.এন. রবি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজভবন একটি চিঠি প্রকাশ করে। এক লাইনের ওই আদেশে বলা হয়, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ)-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি ৭ মে ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলাম।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এখনও সরব রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াই এবার আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসির সাংবিধানিক আইন কেন্দ্র ‘চর্খা’-র প্রধান স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বলেন, সংবিধানের অবস্থান এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্ট।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ) অনুযায়ী বিধানসভা ভেঙে গেলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক ভিত্তিও আর থাকে না।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ তত্ত্বাবধায়ক বা কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতে পারেন, সাধারণত গভর্নরের অনুরোধে, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নিচ্ছে। তবে এটি সাংবিধানিক রীতি, বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। এই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে গভর্নরের কিছু বিবেচনাধিকার থাকে।
ত্রিপাঠী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ না করলেও তাতে সাংবিধানিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না।
তার ভাষায়, পরবর্তী ধাপ হলো নতুন বিধানসভা গঠন এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাবেন, তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো।
মমতার সামনে কী কী পথ খোলা?
মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার দাবি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর সামনে বাস্তবে খুব বেশি সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ত্রিপাঠী বলেন, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার ফলে নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি আর থাকে না।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক বৈধতা আসে নির্বাচিত বিধায়কদের আস্থা থেকে। বিধানসভা না থাকলে সেই ভিত্তিও আর থাকে না। ফলে কেয়ারটেকার ব্যবস্থার বাইরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সরাসরি কোনো সাংবিধানিক পথ নেই।
নির্বাচনী মামলা ও আদালতের পথ
নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান ত্রিপাঠী।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১’-এর আওতায় নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
এই ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে করতে হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট আসনের নির্বাচনে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।
সূত্র: এনডিটিভি