ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর
আইআরজিসির সতর্কবার্তা

ইরানি জাহাজে হামলা হলেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হবে

ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গত শনিবার (৯ মে) ওমান উপসাগরে দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরই আইআরজিসি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের জাহাজ বা বাণিজ্যিক বহরে যেকোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও শত্রুপক্ষের জাহাজে শক্ত প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের নতুন শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব শিগগিরই পাওয়া যেতে পারে।
তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। বরং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা কূটনৈতিক সমাধানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের অভিযোগ, ওই হামলায় তাদের নৌবহরকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছিল।
ইরানি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, এর জবাবে নৌবাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই কৌশলগত নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে তেহরান মনে করছে, এটি তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল।
চলমান পরিস্থিতিতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠকেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছে তেল ছড়িয়ে পড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বার্তায় কোরআনের আয়াত
ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান “আলে ইমরান” সূরার ৬৪ নম্বর আয়াত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করেছেন।
ইরনার শনিবার রাতের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেজেশকিয়ান তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে পবিত্র সূরা আলে ইমরানের ৬৪ নম্বর আয়াতটি প্রকাশ করেন:“বলো, হে আহলে কিতাব (আসমানি কিতাবধারীগণ)! আসো সেই একটি সমান কথার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন—যাতে আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত না করি, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করি, এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া প্রভু হিসেবে গ্রহণ না করি।
তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম (আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী)।” সূত্র: ইরনা

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

আইআরজিসির সতর্কবার্তা

ইরানি জাহাজে হামলা হলেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হবে

আপডেট সময় ০৯:২৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গত শনিবার (৯ মে) ওমান উপসাগরে দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরই আইআরজিসি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের জাহাজ বা বাণিজ্যিক বহরে যেকোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও শত্রুপক্ষের জাহাজে শক্ত প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের নতুন শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব শিগগিরই পাওয়া যেতে পারে।
তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। বরং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা কূটনৈতিক সমাধানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের অভিযোগ, ওই হামলায় তাদের নৌবহরকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছিল।
ইরানি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, এর জবাবে নৌবাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই কৌশলগত নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে তেহরান মনে করছে, এটি তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল।
চলমান পরিস্থিতিতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠকেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছে তেল ছড়িয়ে পড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বার্তায় কোরআনের আয়াত
ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান “আলে ইমরান” সূরার ৬৪ নম্বর আয়াত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করেছেন।
ইরনার শনিবার রাতের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেজেশকিয়ান তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে পবিত্র সূরা আলে ইমরানের ৬৪ নম্বর আয়াতটি প্রকাশ করেন:“বলো, হে আহলে কিতাব (আসমানি কিতাবধারীগণ)! আসো সেই একটি সমান কথার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন—যাতে আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত না করি, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করি, এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া প্রভু হিসেবে গ্রহণ না করি।
তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম (আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী)।” সূত্র: ইরনা