ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

মুন্সীগঞ্জের কৃতী সন্তান মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুন্সীগঞ্জসহ দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুম মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী অঈগঊ এৎড়ঁঢ়-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ। শৈশবের একটি অংশ কলকাতায় কাটানোর পর তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে পিতার প্রতিষ্ঠিত অঈগঊ এৎড়ঁঢ়-এ যোগ দেন। ১৯৮৩ সাল থেকে দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে দু’বার জাতীয় সংসদ সদস্য হন। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকা-ে তিনি দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয়রা তাঁকে একজন মানবিক, সাদামাটা ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করছেন। ২০২৫ সালে তিনি পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হলেও শেষ সময় পর্যন্ত দলীয় কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জাহানারা সিনহা, এক ছেলে তানভীর সিনহা, এক মেয়ে তাসনিম সিনহাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। অনেকে তাঁকে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, সফল শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবিক সমাজসেবক হিসেবে অভিহিত করেছেন। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়াও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব( সদ্য বিদায়ী) মোঃ মহিউদ্দিন ও মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতনসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

মুন্সীগঞ্জের কৃতী সন্তান মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

আপডেট সময় ০১:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুন্সীগঞ্জসহ দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুম মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী অঈগঊ এৎড়ঁঢ়-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ। শৈশবের একটি অংশ কলকাতায় কাটানোর পর তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে পিতার প্রতিষ্ঠিত অঈগঊ এৎড়ঁঢ়-এ যোগ দেন। ১৯৮৩ সাল থেকে দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে দু’বার জাতীয় সংসদ সদস্য হন। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকা-ে তিনি দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয়রা তাঁকে একজন মানবিক, সাদামাটা ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করছেন। ২০২৫ সালে তিনি পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হলেও শেষ সময় পর্যন্ত দলীয় কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জাহানারা সিনহা, এক ছেলে তানভীর সিনহা, এক মেয়ে তাসনিম সিনহাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। অনেকে তাঁকে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, সফল শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবিক সমাজসেবক হিসেবে অভিহিত করেছেন। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়াও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব( সদ্য বিদায়ী) মোঃ মহিউদ্দিন ও মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতনসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করে।