মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় কোরবানিকে সামনে রেখে ব্যাপকভাবে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। প্রতিদিন সকাল থেকেই বিক্রেতারা গরু-ছাগল নিয়ে বিভিন্ন হাটে আসতে শুরু করেন। ক্রেতা সাধারণও তাদের পছন্দের পশু ক্রয়ের জন্য উপস্থিত হন হাটগুলোতে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী হাটের পাশাপাশি অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে। হাটগুলোতে ইতোমধ্যে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। গরু-ছাগল নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিক্রির উদ্দেশে আসছেন হাটগুলোতে। তবে তীব্র গরমে গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। রবিবার ( ২৪ শে মে ) দুপুরে উপজেলার বহেরাতলা উত্তর রফিউদ্দিন আহম্মেদ মাদবরের গরুর হাট, শেখপুর হাট, মাদবরচর হাট, চান্দেরচর হাটসহ বিভিন্ন হাটে গিয়ে দেখা যায় বিক্রেতারা তাদের গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন হাটে। রফিউদ্দিন হাটের ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতি বছরের মত এ বছরেও ২৩,২৪ ও ২৫শে মে এ হাট বসবে। তারা আরো জানান, এই হাটে পশুর হাসিল নিয়ে কোন ঝামেলা নাই, নির্দিষ্ট কোন হারে হাসিল দিতে হবে না। গরু ছাগলের ক্রেতাগন তাদের ইচ্ছেমত হাসিল দিতে পারবে। এ দিকে চান্দেরচর হাটে গরু-ছাগল নিয়ে আসা স্থানীয় মো: রোকন বলেন, আর কয়েকদিন পরেই কোরবানির ঈদ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশু ওঠা শুরু করছে, বিক্রিও হচ্ছে। এখন যারা ঢাকার বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে যাবে, তারা কিছু গরু কিনছে। আর আমরাও হাটে নিয়ে আসা গরু বিক্রি করার চেষ্টা করছি। খামারের মধ্যে গরু এক রকম পরিবেশে অভ্যস্ত ছিল। হাটে আনা-নেয়ার ফলে গরমে সমস্যা হচ্ছে। সব মিলিয়ে হাটে নিয়ে আসা গরু বিক্রি করার চেষ্টা করছি আমরা। গরু কিনতে আসা ফারুক বলেন, বৃষ্টি-তীব্র গরম হওয়ায় আগেভাগে চলে এসেছি হাটে। অনেকে এসেছেন গরু-ছাগল দেখতে। আবার কেউ কেউ দর-দামও করছেন। তবে কেনার মতো দাম কেউ বলছেন না। ৫টি গরু নিয়ে এসেছি। দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে আমাদের কাছে। শিবচর উপজেলার একটি জনপ্রিয় পশুর হাট শিবচর পৌরশহরের হাট। প্রতি বছরের মতো এবারো শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে পাইকাররা এবং বেপারীরা অত্যন্ত সুন্দরভাবে কোরবানির পশু ক্রয় এবং বিক্রয় করছে। কোন সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। টাক-পয়সা লেনদেনের ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। মধ্যস্বত্ত্বভোগী কিংবা দালালের খপ্পরে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো হাটটি নিয়ন্ত্রিত। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসন এবং র?্যাবের সদস্যরা হাটটি পর্যবেক্ষণ করছে। শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর হাট একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। প্রতিবছর বাইরে থেকে অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে গরু কিনে নিয়ে যান। এই হাট ঘুরে একই চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। হাটে আসা ইমারত হোসেন বলেন, দাম মোটামুটি ভালোই। বাজার গতবারের তুলনায় এখন পর্যন্ত ভালো মনে হচ্ছে। হাটে গরু এনেছি। তীব্র গরমে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে,বাতাস দিতে হচ্ছে খামারে আটকে থাকা গরু হটাৎ করে হাটে আনার কারনে সমস্যা হচ্ছে। নাঈম হাওলাদার নামের এক কৃষক বলেন, ছোট্ট পরিসরে বাড়িতেই আমার খামার। চারটি বড় গরু নিয়ে হাটে এনেছি। তবে প্রচন্ড গরমে গরু অসুস্থবোধ করছে। সারাক্ষণ বাতাস করতে হচ্ছে। গরু কিনতে আসা একাধিক পাইকার ও বেপারীরা বলেন, আমরা হাট ঘুরে গরু কিনছি। ঢাকায় নিয়ে যাবো। গ্রামে বাজার একটু চড়াই মনে হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি একইসাথে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। তাই পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছি। হাটে গরু-ছাগল ক্রয় করতে আসা একাধিক ক্রেতারা বলেন, তীব্র গরমে তাপমাত্রা অনেক বেশি। তাই পশু অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকে,তবে পছন্দের পশু পেলে অবশ্যই ক্রয় করব। শিবচর প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র থেকে জানা গেছে, শিবচরের চলতি বছর ৭৬৫টি ছোট বড় খামারে প্রায় ২১ হাজার ২০০ টি গরু ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এর বিপরীতে গরু ছাগলের চাহিদা রয়েছে ১৯ হাজারের মত। বছর উপজেলায় উদ্বৃত্ত থাকছে মোট দুই হাজারের মত পশু। এছাড়া সাধারণ কৃষকরা কোরবানির জন্য আলাদাভাবে গরু-ছাগল লালন পালন করেছেন। যেগুলো স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করা হবে। শিবচর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র বোস বলেন, শিবচর উপজেলা অনুমোদিত মোট ছয়টি হাট রয়েছে। এছাড়া ছোট বড় অস্থায়ী হাটের সংখ্যা রয়েছে বেশ কিছু। সেখানে আমাদের মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক থাকছে। এছাড়া ও হাটের ইজারাদারদের পাশাপাশি আমরাও খামারিদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। গরমে পশুর জন্য সতর্ক থাকতে হবে খামারি এবং ব্যবসায়ীদের। আমাদের টিম হাটগুলোতে পশুর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
সংবাদ শিরোনাম
ঈদকে কেন্দ্র করে শিবচরে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট
-
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০২:০৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- 100
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























