ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

ঈদ ঘিরে টুংটাং শব্দ ধামরাইয়ে কামারপট্টিতে

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ঢাকার ধামরাইয়ের কামারপট্টির কর্মকাররা। হাতুরির টুংটাং শব্দ সবসময় লেগেই আছে তদের দোকানে। প্রতিদিন তৈরি করছেন নতুন নতুন ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ গরুর মাংস কাটা ও চামড়া ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম। ঈদের কারণে এসব দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক দোকানে এই কাজ করছেন কামাড়রা। ঈদের সময়ে এক থেকে দেড়-দুই ও আড়াই কেজি ওজনের চাপাতির বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায় বলে জানান তারা। কামাড়রা জানান, ওজনভেদে এসব চাপাতি তৈরিতে প্রায় ২’শ টাকা থেকে ৬’শ টাকা খরচ হয় তবে এগুলো বিক্রি হয় সর্বনি¤œ ৭’শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার জন্যে বানানো ছোটবড় ছুরিগুলো ১শ টাকা থেকে ৫-৬’শ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে গরু জবাইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ রকমের লম্বা ছুরি। এসব ছুরি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হবে ১-২ হাজার টাকা। এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর নতুন ছুরি-চাপাতি কেনার জন্যে দোকানগুলোতে যেমন ভিড় বাড়ে তেমনি পুরান ছুরি-চাপাতি ধার দেবার জন্যেও কামারপট্টিতে ভিড় করেন লোকজন। বছরের এই সময়টাতে তাই দোকানগুলোতে পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ব্যাবহৃত নানা ধরনের ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি ও চায়নিজ কুড়াল সাজিয়ে রাখেন দোকানিরা। কথা হল ধামরাইয়ের বালিয়া বাজারের ছুরি-চাপাতি বিক্রেতা শৈবাল কর্মকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারাবছর টুকটাক ব্যবসা হলেও বছরের এই সময়টাতে বিক্রি বেড়ে যায়, বিক্রি বাড়ায় দোকানে এই সময়টাতে দুইজন বেশি বিক্রেতা নিয়োগ করতে হয়েছে, সকাল থেকে রাত অব্দি দুইজন কামার নতুন ছুরি চাপাতি বানানোর কাজ করে, আর দুইজন বিক্রি করে। শৈবাল কর্মকার বলেন, বালিয়া বাজার ছাড়াও ধামরাই ও কালামপুরেও আমাদের দোকান আছে, এসব দোকানে ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে ছুরি-চাপাতি তৈরি ও বিক্রির ধুম। ক্রেতারা বলেন, এবছর গরু কোরবানি দেয়া হচ্ছে। গত বছরের যেসব ছুরি চাপাতি আছে সেসব মরিচা ধরায় নতুন করে ধার করাতে হবে,সেই সাথে নতুন ছুরি চাপাতিও কিনতে হবে। ক্রেতা রাসেল বলেন , বছরে শুধু এই সময়টাতেই ছুরি চাপাতি ব্যবহার করি, বাকিসময় ঘরে ফেলে রাখায় মরিচা ধরে যায়, কোরবানির ঈদ এলেই তাই ছুরিগুলো ধার করার প্রয়োজন পড়ে, আর এজন্যে ধামরাইয়ের কামারপট্টির দোকানগুলোতেই প্রতিবছর আসি। ধামরাইয়ের কালামপুর বাজারের কামার চিত্ত কর্মকার বলেন, ছোটবেলা থেকে কামারের কাজ করেই সংসার চালাচ্ছি, সারাবছর কাস্তে, দা বানানোর কাজই বেশি করি, তবে কোরবানির ঈদের আগে পুরোটা সময় আগে থেকেই অর্ডারে পাওয়া চাপাতি, ছুরি বানানোর কাজ শুরু করে দেই, সাথে বাজারে বিক্রির জন্যেও সরঞ্জামাদি বানাই। তিনি বলেন, বর্তমানে কোরবানিতে বেশি পশু জবাই করা হচ্ছে। এই কারণে বেশি বেশি ছুরি চাপাতিও বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। এবছর সবমিলিয়ে হাজার খানেক ছুরি-চাপাতি বিক্রি হবে বলে আশা করছি। ফলে আমাদের কর্মকাররা সেভাবেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

ঈদ ঘিরে টুংটাং শব্দ ধামরাইয়ে কামারপট্টিতে

আপডেট সময় ০২:১৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ঢাকার ধামরাইয়ের কামারপট্টির কর্মকাররা। হাতুরির টুংটাং শব্দ সবসময় লেগেই আছে তদের দোকানে। প্রতিদিন তৈরি করছেন নতুন নতুন ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ গরুর মাংস কাটা ও চামড়া ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম। ঈদের কারণে এসব দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক দোকানে এই কাজ করছেন কামাড়রা। ঈদের সময়ে এক থেকে দেড়-দুই ও আড়াই কেজি ওজনের চাপাতির বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায় বলে জানান তারা। কামাড়রা জানান, ওজনভেদে এসব চাপাতি তৈরিতে প্রায় ২’শ টাকা থেকে ৬’শ টাকা খরচ হয় তবে এগুলো বিক্রি হয় সর্বনি¤œ ৭’শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার জন্যে বানানো ছোটবড় ছুরিগুলো ১শ টাকা থেকে ৫-৬’শ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে গরু জবাইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ রকমের লম্বা ছুরি। এসব ছুরি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হবে ১-২ হাজার টাকা। এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর নতুন ছুরি-চাপাতি কেনার জন্যে দোকানগুলোতে যেমন ভিড় বাড়ে তেমনি পুরান ছুরি-চাপাতি ধার দেবার জন্যেও কামারপট্টিতে ভিড় করেন লোকজন। বছরের এই সময়টাতে তাই দোকানগুলোতে পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ব্যাবহৃত নানা ধরনের ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি ও চায়নিজ কুড়াল সাজিয়ে রাখেন দোকানিরা। কথা হল ধামরাইয়ের বালিয়া বাজারের ছুরি-চাপাতি বিক্রেতা শৈবাল কর্মকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারাবছর টুকটাক ব্যবসা হলেও বছরের এই সময়টাতে বিক্রি বেড়ে যায়, বিক্রি বাড়ায় দোকানে এই সময়টাতে দুইজন বেশি বিক্রেতা নিয়োগ করতে হয়েছে, সকাল থেকে রাত অব্দি দুইজন কামার নতুন ছুরি চাপাতি বানানোর কাজ করে, আর দুইজন বিক্রি করে। শৈবাল কর্মকার বলেন, বালিয়া বাজার ছাড়াও ধামরাই ও কালামপুরেও আমাদের দোকান আছে, এসব দোকানে ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে ছুরি-চাপাতি তৈরি ও বিক্রির ধুম। ক্রেতারা বলেন, এবছর গরু কোরবানি দেয়া হচ্ছে। গত বছরের যেসব ছুরি চাপাতি আছে সেসব মরিচা ধরায় নতুন করে ধার করাতে হবে,সেই সাথে নতুন ছুরি চাপাতিও কিনতে হবে। ক্রেতা রাসেল বলেন , বছরে শুধু এই সময়টাতেই ছুরি চাপাতি ব্যবহার করি, বাকিসময় ঘরে ফেলে রাখায় মরিচা ধরে যায়, কোরবানির ঈদ এলেই তাই ছুরিগুলো ধার করার প্রয়োজন পড়ে, আর এজন্যে ধামরাইয়ের কামারপট্টির দোকানগুলোতেই প্রতিবছর আসি। ধামরাইয়ের কালামপুর বাজারের কামার চিত্ত কর্মকার বলেন, ছোটবেলা থেকে কামারের কাজ করেই সংসার চালাচ্ছি, সারাবছর কাস্তে, দা বানানোর কাজই বেশি করি, তবে কোরবানির ঈদের আগে পুরোটা সময় আগে থেকেই অর্ডারে পাওয়া চাপাতি, ছুরি বানানোর কাজ শুরু করে দেই, সাথে বাজারে বিক্রির জন্যেও সরঞ্জামাদি বানাই। তিনি বলেন, বর্তমানে কোরবানিতে বেশি পশু জবাই করা হচ্ছে। এই কারণে বেশি বেশি ছুরি চাপাতিও বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। এবছর সবমিলিয়ে হাজার খানেক ছুরি-চাপাতি বিক্রি হবে বলে আশা করছি। ফলে আমাদের কর্মকাররা সেভাবেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।