ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

রাজধানীতে কমেছে মুরগি-ডিমের, বেড়েছে চালের দাম

এলসি বন্ধ থাকায় আমদানি কমে যাওয়া ও বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকটে বেড়েছে চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মিনিকেট, নাজিরশাইলসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তার দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। চালের বাজারের এই উত্তাপের মধ্যেই সরবরাহ থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও রায়েরবাজার ঘুরে ক্রেতারা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, এখন বাজারে প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, আগে ছিল ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা আর নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ টাকায়, আগে ছিল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা।
এ সপ্তাহে স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম। এখন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থাকে ৮০টাকা। দেশি শশা ৬০ থেকে ৭০টাকা, করলা ৬০টাকা, গাজর (দেশি) ৬০টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন বাজারে চাহিদা তুলনায় মাছের সরবরাহ কম। এখন বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, আকারভেদে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মলা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, আকারভেদে রূপচাঁদা ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০ টাকা। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।
সরবরাহ ভালো থাকা কমেছে ডিমের দাম। গত মাসে ডিম বিক্রি হয়েছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ডজন। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা ডজন।
এছাড়া মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে থেকে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী ফরিদুজ্জামান বেপারি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এলসি বন্ধ থাকায় ভারতীয় চালের আমদানি কমে যাওয়ার কারণে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সরকার যদি এলসি খুলে দেয় তাহলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বড় বড় কোম্পানিরা বাজেটর অপেক্ষা করছে।”
রাজধানীর নিউমার্কেট সপ্তাহিক বাজার করতে আসছে গৃহিণী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “সয়াবিন তেলসহ মুদি বাজারে হাত দেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। এখন আবার চালের দাম বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ এখন ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দুমুঠো ভাত ডাল খেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছি। সরকারের উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

রাজধানীতে কমেছে মুরগি-ডিমের, বেড়েছে চালের দাম

আপডেট সময় ১০:০১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

এলসি বন্ধ থাকায় আমদানি কমে যাওয়া ও বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকটে বেড়েছে চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মিনিকেট, নাজিরশাইলসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তার দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। চালের বাজারের এই উত্তাপের মধ্যেই সরবরাহ থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও রায়েরবাজার ঘুরে ক্রেতারা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, এখন বাজারে প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, আগে ছিল ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা আর নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ টাকায়, আগে ছিল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা।
এ সপ্তাহে স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম। এখন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থাকে ৮০টাকা। দেশি শশা ৬০ থেকে ৭০টাকা, করলা ৬০টাকা, গাজর (দেশি) ৬০টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন বাজারে চাহিদা তুলনায় মাছের সরবরাহ কম। এখন বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, আকারভেদে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মলা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, আকারভেদে রূপচাঁদা ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০ টাকা। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।
সরবরাহ ভালো থাকা কমেছে ডিমের দাম। গত মাসে ডিম বিক্রি হয়েছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ডজন। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা ডজন।
এছাড়া মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে থেকে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী ফরিদুজ্জামান বেপারি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এলসি বন্ধ থাকায় ভারতীয় চালের আমদানি কমে যাওয়ার কারণে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সরকার যদি এলসি খুলে দেয় তাহলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বড় বড় কোম্পানিরা বাজেটর অপেক্ষা করছে।”
রাজধানীর নিউমার্কেট সপ্তাহিক বাজার করতে আসছে গৃহিণী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “সয়াবিন তেলসহ মুদি বাজারে হাত দেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। এখন আবার চালের দাম বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ এখন ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দুমুঠো ভাত ডাল খেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছি। সরকারের উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।”