ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo হানিফের মৃত্যুদণ্ড , ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড Logo ​নানা আয়োজনে বোরহানউদ্দিন যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo ডিসকর্ডে থাকা আপনার ব্যক্তিগত বার্তাও চলে যেতে পারে গুগল সার্চে Logo ডায়াবেটিস থাকলে আঙুর নাকি আপেল খাবেন? Logo শরৎচন্দ্রের সাহিত্যকর্ম নিয়ে নতুন সিনেমা Logo মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ১০ উপায় Logo আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছে : তাহসিফের বাবা

কমলগঞ্জে মানবতার ফেরিওয়ালা আব্দুল মুমিন আলাল আর নেই

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকাপন এলাকার বাসিন্দা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নিবেদিত কর্মী ও কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক রুকন মোঃ আব্দুল মুমিন আলাল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (৮ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ আজ রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। আব্দুল মুমিন আলাল শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এলাকার একজন সুপরিচিত সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব। মানুষের সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদে ছুটে যাওয়াই ছিল তাঁর স্বভাব। কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার খবর পেলেই তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হতেন। বিভিন্ন ডাক্তার ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীদের ঢাকা, সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেন এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় পাশে থাকতেন। স্থানীয়দের মতে, আলাল ভাই ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, সৎ ও অমায়িক স্বভাবের একজন মানুষ। তিনি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। ফলে তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় একজন ব্যক্তি।
তাঁর মৃত্যুতে কুমড়াকাপনসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “মানুষ একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু তার সৎকর্ম ও মানবসেবার স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে। আব্দুল মুমিন আলাল ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।”
মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুমের জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত ও নূরময় করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন—এমন দোয়া করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কমলগঞ্জে মানবতার ফেরিওয়ালা আব্দুল মুমিন আলাল আর নেই

আপডেট সময় ০৬:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকাপন এলাকার বাসিন্দা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নিবেদিত কর্মী ও কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক রুকন মোঃ আব্দুল মুমিন আলাল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (৮ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ আজ রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। আব্দুল মুমিন আলাল শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এলাকার একজন সুপরিচিত সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব। মানুষের সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদে ছুটে যাওয়াই ছিল তাঁর স্বভাব। কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার খবর পেলেই তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হতেন। বিভিন্ন ডাক্তার ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীদের ঢাকা, সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেন এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় পাশে থাকতেন। স্থানীয়দের মতে, আলাল ভাই ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, সৎ ও অমায়িক স্বভাবের একজন মানুষ। তিনি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। ফলে তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় একজন ব্যক্তি।
তাঁর মৃত্যুতে কুমড়াকাপনসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “মানুষ একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু তার সৎকর্ম ও মানবসেবার স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে। আব্দুল মুমিন আলাল ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।”
মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুমের জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত ও নূরময় করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন—এমন দোয়া করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।