ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক(২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটযোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আলাল মুন্সির অনুসারীরা। এর জবাবে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় চলা সংঘর্ষ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু(২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা(৬০)। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আলাল মুন্সি ও নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুন মিয়া নামে এক প্রবাসী নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে বলে তিনি জানান। রায়পুরা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, পূর্ববিরোধের জেরে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত

আপডেট সময় ০৩:৪০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক(২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটযোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আলাল মুন্সির অনুসারীরা। এর জবাবে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় চলা সংঘর্ষ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু(২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা(৬০)। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আলাল মুন্সি ও নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুন মিয়া নামে এক প্রবাসী নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে বলে তিনি জানান। রায়পুরা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, পূর্ববিরোধের জেরে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।