ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

আর্জেন্টিনার মেসিকে অনুসরণ করে ধনবাড়ীর মেয়ে অনন্যার ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন

শীর্ণকায় দেহে শীর্ষে ওঠার অদম্য আবেদন। ক্লান্ত চোখে অপার বিষ্ময়ে ভাসে সুদূরের স্বপ্ন। পায়ে পায়ে তার যাদুকরী ছন্দ। অথচ নিত্য লড়াই অভাবের সাথে। সে অভাব অর্থের, সে অভাব সামাজিক নিরাপত্তার, সে অভাব প্রগতিশীল চিন্তার এবং সামাজিক স্বীকৃতির। উঁই পোকায় খাওয়া পাঠকাঠির বেড়ার ফাঁকে ফাঁকে সে হারায় রাতের আকাশে জ্বলে ওঠা তারাদের সাথে। উত্তাল ঝিনাই নদীর বুকে সাঁতার কেটে, কাশবনে লুকোচুরি খেলে তার বেড়ে ওঠা। সে আমাদের সকলের প্রিয়ভাজন ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় অনন্যা রানি সূত্রধর। যার ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল নিজেরা করি সংগঠন এর মাধ্যমে পাইস্কা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেটর ফুটবল কোচ জহিরুল ইসলাম মিলন এর মাধ্যমিক। অসুস্থ বাবা শ্রোতারের কাজ করেন। ঘর বলতে ছোট্ট একটি ছাপড়া যার চারপাশে ভাঙ্গা টিনের বেড়া। চারিদিকে ভাঙ্গাচোরার ছাপ। এরই মাঝে ছড়িয়ে আছে অনন্যা অর্জনের নানান চিহ্ন। সেদিকে তাকিয়ে দারিদ্র্যের সাথে নিত্য লড়াই করা বাবা মেয়ের ফুটবলের নেশাকে হ্যাঁ বলেছেন সহজেই। বল কিনে দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও তার দাদা পলাশ সূত্রধর কাগজ অথবা কাপড়ের পুটলি বেঁধে বল বানিয়ে দিয়েছেন অনন্যা কে শৈশবের দিনগুলোয়। পায়ের এই জাদুময় খেলায় জাম্বুরাসহ যা কিছু সামনে পেয়েছে অনন্যা সেটাকেই টার্গেট করে বল খেলেছে। অনন্যার ফুটবল আইকন আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়” লিওনেল মেসি” তার খেলা দেখতে দেখতে অনন্যা আয়ত্ত করে নানান কৌশল। একটু একটু করে বড় হতে থাকে অনন্যা। ইস্কুলের মেয়ে দের সাথে অনুশীলন শুরু করে। তার ফুটবল কোচ মিলন যতœ নিতে শুরু করে তার খেলোয়াড় সুলভ মনটার।ওর পাশে থেকে দক্ষ খেলোয়াড় হয়ে ওঠার যোগান দিতে। এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সারাদেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু হয় ইন্টার স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট।পাইস্কা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের টিমে অনন্যা অংশ নিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় দর্শকদের। এরপর থেকে বিভিন্ন টিম তাকে খেলার জন্য আহ্বান জানায়। অনেকেই আবার নেতিবাচক মন্তব্যে নিরুৎসাহিত করতেও ছাড়েন না। অনন্যা কে স্বপ্ন ভাঙ্গতে নানান রকম কুসংস্কারের দোহাই দিয়ে আঘাত করতে থাকেন ক্রমাগত। কিন্তু অনন্যা হাল ছাড়েনি। খেলাটাকে নেশা হিসেবে নিয়ে আরও ভালোবেসে আয়ত্তে নিতে চায়। বলকে করে নিতে চায় নিজের মন্ত্রবশ। পাইস্কা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজেরা করি সংগঠন এর আয়োজনে নারী ফুটবল টিমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত খেলাধুলা করতে থাকে। প্রতিকূলতার প্রবল স্রোতের বিপরীতে অনন্যা অটল বিশ্বাস আর পায়ের জাদু তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় সম্মুখে বিকেএসপি সহ ঢাকার বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে কয়েক দফা প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছে আমাদের অনন্যা। সে বাংলাদেশ নারী ফুটবলের পোস্টাল গান ঋতুপর্ণা চাকমার উত্তরসূরী হতে চায়। অনন্যার ভাই পলাশ বলেন,অনন্যা কে নিয়ে ভয় হলেও ভয় পাই না কারণ অনন্যার সাথে সব সময় আছে অনন্যা কে যিনি প্রতিদিন আবিষ্কার করছেন নতুন নতুন রূপে, তারপর পরিচর্যা করছেন পরম যতেœ, তিনি জনন্দিত দক্ষ ফুটবল প্রশিক্ষক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ফুটবল কোচ জহিরুল ইসলাম মিলন ভাই আর তাঁর সাথে আছে নিজেরা করি সংগঠন,পাইস্কা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ধানবাড়ী উপজেলার সকল স্তরের মানুষ এবং সারাদেশে সাড়া জাগানো ফুটবল কন্যারা। অনন্যার ভাই পলাশ আরো বলেন জানিনা এই সমাজ ব্যবস্থা, এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাকে কোথায় দাঁড় করাবে! অনন্যার ইচ্ছে পাখিটা কি পাবে ডানা মেলে ওড়ার অবারিত আকাশে! না কি অজানা অশনিসংকেতে বন্দী হবে কোন নতুন শিকলে? অনন্যার স্বপ্ন তিনি একদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

আর্জেন্টিনার মেসিকে অনুসরণ করে ধনবাড়ীর মেয়ে অনন্যার ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন

আপডেট সময় ০৩:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

শীর্ণকায় দেহে শীর্ষে ওঠার অদম্য আবেদন। ক্লান্ত চোখে অপার বিষ্ময়ে ভাসে সুদূরের স্বপ্ন। পায়ে পায়ে তার যাদুকরী ছন্দ। অথচ নিত্য লড়াই অভাবের সাথে। সে অভাব অর্থের, সে অভাব সামাজিক নিরাপত্তার, সে অভাব প্রগতিশীল চিন্তার এবং সামাজিক স্বীকৃতির। উঁই পোকায় খাওয়া পাঠকাঠির বেড়ার ফাঁকে ফাঁকে সে হারায় রাতের আকাশে জ্বলে ওঠা তারাদের সাথে। উত্তাল ঝিনাই নদীর বুকে সাঁতার কেটে, কাশবনে লুকোচুরি খেলে তার বেড়ে ওঠা। সে আমাদের সকলের প্রিয়ভাজন ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় অনন্যা রানি সূত্রধর। যার ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল নিজেরা করি সংগঠন এর মাধ্যমে পাইস্কা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেটর ফুটবল কোচ জহিরুল ইসলাম মিলন এর মাধ্যমিক। অসুস্থ বাবা শ্রোতারের কাজ করেন। ঘর বলতে ছোট্ট একটি ছাপড়া যার চারপাশে ভাঙ্গা টিনের বেড়া। চারিদিকে ভাঙ্গাচোরার ছাপ। এরই মাঝে ছড়িয়ে আছে অনন্যা অর্জনের নানান চিহ্ন। সেদিকে তাকিয়ে দারিদ্র্যের সাথে নিত্য লড়াই করা বাবা মেয়ের ফুটবলের নেশাকে হ্যাঁ বলেছেন সহজেই। বল কিনে দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও তার দাদা পলাশ সূত্রধর কাগজ অথবা কাপড়ের পুটলি বেঁধে বল বানিয়ে দিয়েছেন অনন্যা কে শৈশবের দিনগুলোয়। পায়ের এই জাদুময় খেলায় জাম্বুরাসহ যা কিছু সামনে পেয়েছে অনন্যা সেটাকেই টার্গেট করে বল খেলেছে। অনন্যার ফুটবল আইকন আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়” লিওনেল মেসি” তার খেলা দেখতে দেখতে অনন্যা আয়ত্ত করে নানান কৌশল। একটু একটু করে বড় হতে থাকে অনন্যা। ইস্কুলের মেয়ে দের সাথে অনুশীলন শুরু করে। তার ফুটবল কোচ মিলন যতœ নিতে শুরু করে তার খেলোয়াড় সুলভ মনটার।ওর পাশে থেকে দক্ষ খেলোয়াড় হয়ে ওঠার যোগান দিতে। এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সারাদেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু হয় ইন্টার স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট।পাইস্কা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের টিমে অনন্যা অংশ নিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় দর্শকদের। এরপর থেকে বিভিন্ন টিম তাকে খেলার জন্য আহ্বান জানায়। অনেকেই আবার নেতিবাচক মন্তব্যে নিরুৎসাহিত করতেও ছাড়েন না। অনন্যা কে স্বপ্ন ভাঙ্গতে নানান রকম কুসংস্কারের দোহাই দিয়ে আঘাত করতে থাকেন ক্রমাগত। কিন্তু অনন্যা হাল ছাড়েনি। খেলাটাকে নেশা হিসেবে নিয়ে আরও ভালোবেসে আয়ত্তে নিতে চায়। বলকে করে নিতে চায় নিজের মন্ত্রবশ। পাইস্কা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজেরা করি সংগঠন এর আয়োজনে নারী ফুটবল টিমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত খেলাধুলা করতে থাকে। প্রতিকূলতার প্রবল স্রোতের বিপরীতে অনন্যা অটল বিশ্বাস আর পায়ের জাদু তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় সম্মুখে বিকেএসপি সহ ঢাকার বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে কয়েক দফা প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছে আমাদের অনন্যা। সে বাংলাদেশ নারী ফুটবলের পোস্টাল গান ঋতুপর্ণা চাকমার উত্তরসূরী হতে চায়। অনন্যার ভাই পলাশ বলেন,অনন্যা কে নিয়ে ভয় হলেও ভয় পাই না কারণ অনন্যার সাথে সব সময় আছে অনন্যা কে যিনি প্রতিদিন আবিষ্কার করছেন নতুন নতুন রূপে, তারপর পরিচর্যা করছেন পরম যতেœ, তিনি জনন্দিত দক্ষ ফুটবল প্রশিক্ষক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ফুটবল কোচ জহিরুল ইসলাম মিলন ভাই আর তাঁর সাথে আছে নিজেরা করি সংগঠন,পাইস্কা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ধানবাড়ী উপজেলার সকল স্তরের মানুষ এবং সারাদেশে সাড়া জাগানো ফুটবল কন্যারা। অনন্যার ভাই পলাশ আরো বলেন জানিনা এই সমাজ ব্যবস্থা, এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাকে কোথায় দাঁড় করাবে! অনন্যার ইচ্ছে পাখিটা কি পাবে ডানা মেলে ওড়ার অবারিত আকাশে! না কি অজানা অশনিসংকেতে বন্দী হবে কোন নতুন শিকলে? অনন্যার স্বপ্ন তিনি একদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।