ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

মধ্যনগরে সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। কামাউড়া, করুয়াজান, ইনতনগর, কলমা, মাছুয়াকান্দা, শাহাপুর ও বনগাঁও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মধ্যনগর সদরের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল অথবা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারে না। ফলে ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার প্রসারের জন্য একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং ঝরে পড়ার হারও কমবে। মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকাযোগে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে তারা কষ্ট করছে। তাই অতি দ্রুত এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকাবাসী আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে। মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু বলেন, সাত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট আমি নিজেও দেখেছি। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে এবং অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক। শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে সরকার সবসময় আন্তরিক। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাত গ্রামের মানুষের দাবির বিষয়টি আমি অবগত আছি। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ হলে এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

মধ্যনগরে সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি

আপডেট সময় ০২:০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। কামাউড়া, করুয়াজান, ইনতনগর, কলমা, মাছুয়াকান্দা, শাহাপুর ও বনগাঁও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মধ্যনগর সদরের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল অথবা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারে না। ফলে ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার প্রসারের জন্য একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং ঝরে পড়ার হারও কমবে। মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকাযোগে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে তারা কষ্ট করছে। তাই অতি দ্রুত এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকাবাসী আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে। মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু বলেন, সাত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট আমি নিজেও দেখেছি। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে এবং অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক। শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে সরকার সবসময় আন্তরিক। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাত গ্রামের মানুষের দাবির বিষয়টি আমি অবগত আছি। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ হলে এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।