ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা
৩ দিন পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

৩ দিন পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পর কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল থেকে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান শুরু করেন। এদিন দুপুরে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান। তিনি জানান, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রেফারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে আরও প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ৫০০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ১৮টি বিভাগ চালু রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার না থাকায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। ফলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনেক সময় স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরোধ তৈরি হচ্ছে, এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি দিনাজপুরবাসীসহ সকলের কাছে সহযোগিতা, শৃঙ্খলা ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতিদিন বিকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ার, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত শুধুমাত্র গেট পাসধারীদের প্রবেশের অনুমতি, প্রতি রোগীর বিপরীতে সর্বোচ্চ দুইজন দর্শনার্থীর জন্য দুটি গেট পাস প্রদান, প্রতিটি গেট পাসের বিপরীতে নির্ধারিত জামানত রাখা, যা রোগী ছাড়পত্রের সময় ফেরত দেওয়া হবে, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে রাতে কোনো পুরুষের অবস্থান নিষিদ্ধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র?্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন, হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের আরও সক্রিয় করা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে নিয়মিত সান্ধ্যকালীন রাউন্ড চালু। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

৩ দিন পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

৩ দিন পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

আপডেট সময় ০৪:২১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পর কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল থেকে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান শুরু করেন। এদিন দুপুরে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান। তিনি জানান, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রেফারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে আরও প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ৫০০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ১৮টি বিভাগ চালু রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার না থাকায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। ফলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনেক সময় স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরোধ তৈরি হচ্ছে, এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি দিনাজপুরবাসীসহ সকলের কাছে সহযোগিতা, শৃঙ্খলা ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতিদিন বিকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ার, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত শুধুমাত্র গেট পাসধারীদের প্রবেশের অনুমতি, প্রতি রোগীর বিপরীতে সর্বোচ্চ দুইজন দর্শনার্থীর জন্য দুটি গেট পাস প্রদান, প্রতিটি গেট পাসের বিপরীতে নির্ধারিত জামানত রাখা, যা রোগী ছাড়পত্রের সময় ফেরত দেওয়া হবে, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে রাতে কোনো পুরুষের অবস্থান নিষিদ্ধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র?্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন, হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের আরও সক্রিয় করা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে নিয়মিত সান্ধ্যকালীন রাউন্ড চালু। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ হবে।