ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের কালঘড়া গ্রামের অব্দুল মজিদের ছেলে মো. সাহেদ আলী বিভিন্ন ফসল আবাদ করে ও ভাল ফলন না পেয়ে যখন লোকসানে ভারে জর্জরিত, ঠিক তখনি বেগুন চাষ করে লাভের মুখ দেখেন এ কৃষক। তিনি তার উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি উপ-জেলার বিভিন্ন বাজারে পাইকাররা কিনে নিয়ে যান। প্রথমে প্রতি কেজি বেগুন পাইকারি ৪০/৫০ টাকা দরে বিক্রি করলে ও এখন বেশী দামে বিক্রি করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সাহেদ বিক্রির জন্য জমি থেকে বেগুন সংগ্রহ করছেন। সাহেদ বলেন, ৩ বছর পূর্বে ৫ শতক জমিতে ফুল কপি, পাতা কপি, লাল শাক ও মূলা সহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করে লোকসানে পড়ি। পরে ঋণ নিয়ে বৈশাখ মাসের শুরুতে ঐ জমিতে বেগুন চাষ করলে বেগুনের বাম্পার ফলন হয়। এতে আমি লোকসানের ঘাটতি পূরণ করে লাভবান হয়েছি’। তিনি আর ও বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমার মোট খরচ হয়েছে ৭০০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত বেগুন বিক্রি করেছি ৫৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ক্ষেতে যা বেগুন আছে তা বিক্রি করলে আর ও কিছু টাকা পাওয়া যাবে’। এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বলেন, ‘নবীনগরে বিভিন্ন শাক সবজির চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। সাহেদ বেগুন চাষ করে লাভবান হয়েছে। এটা আমাদের গর্ব। তাকে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা প্রদান করব’। সাহেদ ব্যাগিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেন, এতে কোনো প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। এ কারণে স্থানীয় বাজারে এই বেগুনের চাহিদা ও বেশি। এই পদ্ধতির চাষে কোনো ধরনের কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ভালো মানের বেগুন উৎপাদন করা সম্ভব। কীটনাশকের পরিবর্তে পলিব্যাগ ব্যবহার করা হয়। দেশে যত সবজি উৎপাদন হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় বেগুন চাষে। পোকার আক্রমণে ফলে শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বেগুন নষ্ট হয়। আগে সাহেদ স্বাভাবিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করতেন, তাতে প্রতি মণে পোকামাকড়ে নষ্ট বেগুন হত প্রায় ৮-৯ কেজি। আর এই পদ্ধতিতে প্রতি মণে পোকামাকড়ের আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে মাত্র ২-৩ কেজি বেগুন। যে কেউ চাইলে অন্যান্য ফল/ফসলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। আমি এই পদ্ধতিতে বেগুন চাষে সফল হয়েছি।
সংবাদ শিরোনাম
নবীনগরে বেগুন চাষে স্বাবলম্বী চাষিরা
-
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৫:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- 86
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























