মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, শিক্ষা কার্যক্রমে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বিদ্যালয়ের আশপাশে ভাড়া করা বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট ও কোচিং পরিচালনা করছেন এবং শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়তে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে শিক্ষকরা। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইজুদ্দিনসহ সহকারী শিক্ষক নিপু, হামজাল, দিশা, জাকির, কমল, শারমিন, লিটন, মুসলিম, সুজিত ও সাইফুল নিজ নিজ কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে উৎসাহিত করেন। অনেক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে নির্দিষ্ট শিক্ষকের কাছে পড়ানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবকদের। অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, কম্পিউটার শিক্ষক শীতলের আইসিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি ক্লাসে পড়া না পারলে বা ভুল করলে কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার মানের অবনতির কারণে সাম্প্রতিক একটি পরীক্ষায় ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম আপ্যায়নের ব্যবস্থাও থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হয়। এ অর্থের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ভবনের দেয়ালে বিভিন্ন লেখা আঁকার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শনে এসে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেয়াল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিদ্যালয়ের খ-কালীন এক শিক্ষক মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভাগ করে দেওয়া হয়নি। যে এলাকায় শিক্ষক থাকেন, সেখানকার শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কাছে পড়ে। আগে বিদ্যালয়ের ভেতরে কোচিং হলেও বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বাহিরে নিজ নিজ দায়িত্বে কোচিং পরিচালনা করাতে সাহস দিয়েছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইজুদ্দিন কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে হেডমাস্টারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে মুঠো ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। রূশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ধংসের মুলেই রয়েছেন প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন! এদিকে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও বর্তমান অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ, তুচ্ছ কারণে চাকরিচ্যুতির হুমকি, ম্যানেজিং কমিটিকে উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে তহবিল তছরুপ এবং উন্নয়ন কাজের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরির অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। সিরাজদিখান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর নির্দেশনায় চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শিক্ষা বিভাগ নিজেই প্রশ্নপত্র মডারেশন করে সরবরাহ করছে, যাতে কোনো শিক্ষক কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দিতে না পারেন। আগামী বার্ষিক পরীক্ষায় সব বিষয়ের প্রশ্ন শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতের পরিকল্পনাও রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ শিরোনাম
কোচিং বাণিজ্যের জাঁতাকলে রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
-
হুমায়ুন কবির মুন্সীগঞ্জ - আপডেট সময় ০২:৪৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- 136
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























