আগামী ৭২ ঘণ্টায় নদীসমূহ বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
রবিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে।
একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নি¤œাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা তথ্য কেন্দ্র।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও কংস নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে এবং যাদুকাটা ও ভুগাই নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। এসব নদীর পানি সমতল আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, অপরদিকে ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। যা আগামী দুই দিন হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা তথ্য কেন্দ্র।
বন্যা হঠাৎ করে আঘাত হানতে পারে, পরিচিত রাস্তাগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিণত হতে পারে নদীতে। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি এবং সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কিছু সহজ পরামর্শ থাকছে, যা আপনাকে বন্যার সময় নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।
সবসময় আপডেটেড থাকুন। আবহাওয়া মনিটর করুন এবং স্থানীয় সতর্কতা শুনুন। এমনকি সামান্য নোটিশও আপনাকে প্রস্তুতির সুযোগ দেবে। একটি জরুরি কিট প্রস্তুত রাখুন, যাতে থাকবে পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ, ফ্ল্যাশলাইট এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। কিটটি এমন একটি স্থানে রাখুন যা আপনি সহজেই পেতে পারেন।
যদি আপনাকে এলাকা ছাড়তে হয়, আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন। জানুন কোথায় নিরাপদ পথে বের হতে হবে। এই পরিকল্পনাটি পরিবার সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নিন, যাতে সবাই জানে কী করতে হবে। যদি বন্যার আগে সময় থাকে, বাড়ির কিছু সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন। যেমন ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো উঁচুতে রাখুন, বেসমেন্টের জানালা বন্ধ আছে কি না নিশ্চিত করুন।
বন্যা শুরু হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যখন পানি বাড়তে শুরু করে, তখন তাড়াতাড়ি কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি কর্তৃপক্ষ আপনাকে চলে যেতে বলে, তাড়াতাড়ি নিরাপদ স্থানে চলে যান। বন্যার পানির মধ্য দিয়ে হাঁটা বা গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। বিপজ্জনক হতে পারে।
যদি বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন, তাহলে বাড়ির সবচেয়ে উঁচু স্থানে চলে যান। একাধিক তলা বিশিষ্ট ভবনের উপরে উঠুন, তবে সতর্ক থাকুন যেন আটকে না পড়েন। ফোন চার্জ করে রাখুন এবং জরুরি আপডেট শুনুন।
বন্যার পরে সাবধান থাকুন। পানি নেমে গেলেও বিপদ পুরোপুরি দূর হয় না। কর্তৃপক্ষ না বলা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে যাবেন না। বন্যার পানি দুর্বল ভবন, বৈদ্যুতিক সমস্যা এবং দূষণ ছাড়াও আরো অনেক বিপদ বহন করতে পারে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং রাসায়নিকে দূষিত পানি থেকে দূরে থাকুন। যদি বন্যার পানির সংস্পর্শে আসতে হয়, তাহলে গ্লাভস এবং বুট পরুন।
ইউটিলিটি নিয়ে খুব সতর্ক থাকুন। যদি গ্যাস লিক বা বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো ক্ষতি দেখতে পান, তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে যান এবং সাহায্য চান।
বন্যা বিপজ্জনক হতে পারে, তবে সঠিক প্রস্তুতি এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে। সবসময় নিরাপত্তার দিকে মনোযোগ দিন, আপডেটেড থাকুন, দ্রুত পদক্ষেপ নিন এবং পানি বাড়লে সঠিক কাজটি করুন।
সংবাদ শিরোনাম
চলতি সপ্তাহে ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৪:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- 128
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
















