ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

বড়লেখার শাহবাজপুর চা- বাগানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ

মৌলভীবাজারের বড়লেখার শাহবাজপুর চা-বাগানে টি বোর্ড ও বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই সরকারি টিলা ভূমি থেকে লাখ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রি চলছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ারও আশংকা রয়েছে। অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগে শনিবার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও বনবিভাগের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই ব্যাপক গাছ কাটার সত্যতা পান। তারা তাৎক্ষণিক ৫ শতাধিক ঘনফুট কাটা গাছ যে অবস্থায় আছে সেভাবে সংরক্ষণ করতে (জব্দ) চা বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। জানা গেছে, গত দুই মাসে চা বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকন্ঠনগর, বিপিন টিলা, আনডর ও আশপাশের বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় কয়েকশ গাছ কেটে ফেলেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ি ঢালে থাকা বড়বড় গাছ হাতি দিয়ে টেনে নিচে নামিয়ে ট্রাকযোগে বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ি নাসির উদ্দিন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেছে। কাঠগুলো কেটে বাগান কার্যালয় ও ফ্যাক্টরির আশপাশে রেখে ভোরবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে বিভিন্ন স-মিলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বিচারে সরকারি লিজের ভূমির এসব গাছ কেটে বিক্রির পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বড়লেখা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগানে যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা বিপুল পরিমাণ গাছ দেখতে পান। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার স্বপক্ষে বনবিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের গাছ কাটার অনুমতির বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শণ করতে পারেনি। পরে সহকারী কমিশনার নাঈমা নাদিয়া ও বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল মৃধা (সহকারি বন সংরক্ষক), ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বাগানের অফিস সংলগ্ন স্থানে কেটে রাখা ৫০০ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। এসময় সহকারি কমিশনার ভূমি রোববার পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে টিলার বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা অন্যান্য গাছগুলোসহ বাগান কার্যালয়, চা ফ্যাক্টরী ও রাস্তার পাশে পাওয়া গাছসহ অনুমোদন ছাড়া কাটা সকল গাছের পরিমাণ নির্ধারণ করতে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পান। যা চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই চা-বাগান কতৃপক্ষ কেটেছে। আপাতত গাছগুলো যে অবস্থায় আছে, সেভাবেই সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার গিয়ে বাগানের ভেতরে থাকা সব কাটা গাছের পরিমাপ করে (মেজারমেন্ট) প্রতিবেদন দিতে বনবিভাগকে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, পাথমিকভাবে জানা গেছে, বাগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কেটেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথম দিন বিধিবর্হিভুতভাবে কাটা প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ পাওয়া যায়। রোববার বাগানের ভেতরে গিয়ে ১৩০টি গাছের মোতা ও কেটে রাখা আরো ২ শতাধিক ঘনফুটসহ ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছেন। মাপযোগ এখনও চূড়ান্ত করেননি। মেজারমেন্টের শেষে প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

বড়লেখার শাহবাজপুর চা- বাগানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ

আপডেট সময় ০৩:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখার শাহবাজপুর চা-বাগানে টি বোর্ড ও বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই সরকারি টিলা ভূমি থেকে লাখ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রি চলছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ারও আশংকা রয়েছে। অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগে শনিবার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও বনবিভাগের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই ব্যাপক গাছ কাটার সত্যতা পান। তারা তাৎক্ষণিক ৫ শতাধিক ঘনফুট কাটা গাছ যে অবস্থায় আছে সেভাবে সংরক্ষণ করতে (জব্দ) চা বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। জানা গেছে, গত দুই মাসে চা বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকন্ঠনগর, বিপিন টিলা, আনডর ও আশপাশের বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় কয়েকশ গাছ কেটে ফেলেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ি ঢালে থাকা বড়বড় গাছ হাতি দিয়ে টেনে নিচে নামিয়ে ট্রাকযোগে বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ি নাসির উদ্দিন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেছে। কাঠগুলো কেটে বাগান কার্যালয় ও ফ্যাক্টরির আশপাশে রেখে ভোরবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে বিভিন্ন স-মিলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বিচারে সরকারি লিজের ভূমির এসব গাছ কেটে বিক্রির পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বড়লেখা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগানে যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা বিপুল পরিমাণ গাছ দেখতে পান। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার স্বপক্ষে বনবিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের গাছ কাটার অনুমতির বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শণ করতে পারেনি। পরে সহকারী কমিশনার নাঈমা নাদিয়া ও বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল মৃধা (সহকারি বন সংরক্ষক), ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বাগানের অফিস সংলগ্ন স্থানে কেটে রাখা ৫০০ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। এসময় সহকারি কমিশনার ভূমি রোববার পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে টিলার বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা অন্যান্য গাছগুলোসহ বাগান কার্যালয়, চা ফ্যাক্টরী ও রাস্তার পাশে পাওয়া গাছসহ অনুমোদন ছাড়া কাটা সকল গাছের পরিমাণ নির্ধারণ করতে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পান। যা চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই চা-বাগান কতৃপক্ষ কেটেছে। আপাতত গাছগুলো যে অবস্থায় আছে, সেভাবেই সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার গিয়ে বাগানের ভেতরে থাকা সব কাটা গাছের পরিমাপ করে (মেজারমেন্ট) প্রতিবেদন দিতে বনবিভাগকে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, পাথমিকভাবে জানা গেছে, বাগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কেটেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথম দিন বিধিবর্হিভুতভাবে কাটা প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ পাওয়া যায়। রোববার বাগানের ভেতরে গিয়ে ১৩০টি গাছের মোতা ও কেটে রাখা আরো ২ শতাধিক ঘনফুটসহ ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছেন। মাপযোগ এখনও চূড়ান্ত করেননি। মেজারমেন্টের শেষে প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন।