ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান Logo জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী Logo ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ভারত Logo ৪৬ বছর পর আবার আলোচনায় শহীদ জিয়ার ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ Logo বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি : সিইসি Logo কিশোর তাহসিনের ড্রোন শুধু স্বপ্ন নয় Logo ‘স্যরি’ বললেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়  Logo চলচ্চিত্রের দুর্দশা কাটাতে করণীয় নির্ধারণে সেমিনার

যে স্বপ্নের ঠিকানা ছিল সাদা অ্যাপ্রন কালীগঞ্জের তাজরার গ্লাসগো জয়

একটি গ্রাম কখন গর্বে ভরে ওঠে? যখন সেই গ্রামের কোনো সন্তান দেশের সীমানা পেরিয়ে নিজের যোগ্যতায় বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেয়। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের মানুষ আজ ঠিক তেমনই একটি গল্প বলছেন। গল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তাজরা সাবের-যিনি স্বপ্নকে কেবল দেখেননি, ধাপে ধাপে বাস্তবেও রূপ দিয়েছেন।
সাফল্যের গল্পগুলো বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে দেখায়, ভেতরে ততটাই থাকে নির্ঘুম রাত, অজস্র পরীক্ষা, অগণিত চ্যালেঞ্জ আর নিজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই। তাজরা সাবেরও সেই পথ ধরেই এগিয়েছেন। দীর্ঘ অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাজরা সাবের চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের আইয়ুব সাবের টিপু ও বাকিয়া চৌধুরী লতার একমাত্র কন্যা। পরিবারের স্নেহ, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পাথেয় করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। নতুন পরিবেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি আর কঠিন একাডেমিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও তিনি লক্ষ্যচ্যুত হননি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে নতুন করে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের সেই মুহূর্তটি ছিল কেবল একটি সনদ হাতে পাওয়ার আনন্দ নয়; সেটি ছিল একটি পরিবারের বহু বছরের ত্যাগের স্বীকৃতি, একটি গ্রামের গর্বের দিন এবং অসংখ্য স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য এক নীরব বার্তা—ইচ্ছাশক্তি থাকলে গ্রামের ঠিকানাও বিশ্বজয়ের পথে বাধা হতে পারে না। শিক্ষাজীবনের সফল সমাপ্তির আগেই তাজরার পেশাজীবনের দরজাও খুলে গেছে। যুক্তরাজ্যের ফোর্থ ভ্যালি রয়্যাল হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই তিনি সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থী থেকে চিকিৎসক—জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে তিনি বহন করবেন মানুষের সুস্থতার দায়িত্ব। তবে তাঁর স্বপ্নের শেষ গন্তব্য বিদেশের কোনো হাসপাতাল নয়। তাজরা সাবের বিশ্বাস করেন, চিকিৎসাবিদ্যার সবচেয়ে বড় পরিচয় মানবসেবা। তাই সময় ও সুযোগ পেলে তিনি নিজের দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে চান। বিশেষ করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাই তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর এই অর্জনের খবরে আনন্দিত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের মানুষ। অনেকেই বলছেন, তাজরা শুধু নিজের পরিবারের মুখই উজ্জ্বল করেননি; তিনি কালীগঞ্জের নামও আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার একটি উপলক্ষ তৈরি করেছেন। সব অর্জনের পেছনে কিছু অদৃশ্য গল্প থাকে। তাজরা সাবেরের গল্পটিও তেমন-যেখানে করতালির শব্দের আগে ছিল অধ্যবসায়ের নীরবতা, আর সাফল্যের হাসির আগে ছিল দীর্ঘ পথচলার সংগ্রাম। আজ সেই সংগ্রামেরই সাদা অ্যাপ্রন পরা এক সুন্দর পরিণতি দাঁড়িয়ে আছে গ্লাসগো থেকে ফোর্থ ভ্যালি রয়্যাল হাসপাতালের পথে। আর সেই পথচলা হয়তো আগামী দিনে কালীগঞ্জের আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে নিজের স্বপ্নের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

যে স্বপ্নের ঠিকানা ছিল সাদা অ্যাপ্রন কালীগঞ্জের তাজরার গ্লাসগো জয়

আপডেট সময় ১০:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

একটি গ্রাম কখন গর্বে ভরে ওঠে? যখন সেই গ্রামের কোনো সন্তান দেশের সীমানা পেরিয়ে নিজের যোগ্যতায় বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেয়। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের মানুষ আজ ঠিক তেমনই একটি গল্প বলছেন। গল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তাজরা সাবের-যিনি স্বপ্নকে কেবল দেখেননি, ধাপে ধাপে বাস্তবেও রূপ দিয়েছেন।
সাফল্যের গল্পগুলো বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে দেখায়, ভেতরে ততটাই থাকে নির্ঘুম রাত, অজস্র পরীক্ষা, অগণিত চ্যালেঞ্জ আর নিজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই। তাজরা সাবেরও সেই পথ ধরেই এগিয়েছেন। দীর্ঘ অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাজরা সাবের চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের আইয়ুব সাবের টিপু ও বাকিয়া চৌধুরী লতার একমাত্র কন্যা। পরিবারের স্নেহ, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পাথেয় করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। নতুন পরিবেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি আর কঠিন একাডেমিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও তিনি লক্ষ্যচ্যুত হননি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে নতুন করে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের সেই মুহূর্তটি ছিল কেবল একটি সনদ হাতে পাওয়ার আনন্দ নয়; সেটি ছিল একটি পরিবারের বহু বছরের ত্যাগের স্বীকৃতি, একটি গ্রামের গর্বের দিন এবং অসংখ্য স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য এক নীরব বার্তা—ইচ্ছাশক্তি থাকলে গ্রামের ঠিকানাও বিশ্বজয়ের পথে বাধা হতে পারে না। শিক্ষাজীবনের সফল সমাপ্তির আগেই তাজরার পেশাজীবনের দরজাও খুলে গেছে। যুক্তরাজ্যের ফোর্থ ভ্যালি রয়্যাল হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই তিনি সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থী থেকে চিকিৎসক—জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে তিনি বহন করবেন মানুষের সুস্থতার দায়িত্ব। তবে তাঁর স্বপ্নের শেষ গন্তব্য বিদেশের কোনো হাসপাতাল নয়। তাজরা সাবের বিশ্বাস করেন, চিকিৎসাবিদ্যার সবচেয়ে বড় পরিচয় মানবসেবা। তাই সময় ও সুযোগ পেলে তিনি নিজের দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে চান। বিশেষ করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাই তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর এই অর্জনের খবরে আনন্দিত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের মানুষ। অনেকেই বলছেন, তাজরা শুধু নিজের পরিবারের মুখই উজ্জ্বল করেননি; তিনি কালীগঞ্জের নামও আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার একটি উপলক্ষ তৈরি করেছেন। সব অর্জনের পেছনে কিছু অদৃশ্য গল্প থাকে। তাজরা সাবেরের গল্পটিও তেমন-যেখানে করতালির শব্দের আগে ছিল অধ্যবসায়ের নীরবতা, আর সাফল্যের হাসির আগে ছিল দীর্ঘ পথচলার সংগ্রাম। আজ সেই সংগ্রামেরই সাদা অ্যাপ্রন পরা এক সুন্দর পরিণতি দাঁড়িয়ে আছে গ্লাসগো থেকে ফোর্থ ভ্যালি রয়্যাল হাসপাতালের পথে। আর সেই পথচলা হয়তো আগামী দিনে কালীগঞ্জের আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে নিজের স্বপ্নের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে।