ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

কমছে মুরগির দাম, বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে

বাজারে আলু, পেঁপে ও গাজর ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে। এমনকি গ্রীষ্মের সবজি বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়সের দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক অন্য বছরের ভরা মৌসুমের দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সবজি কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা। অনেকেই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় খরচ মেলাতে পারছেন না এক সপ্তাহের সবজির চাহিদা।
শাহজাহানপুর কলনী বাজারের পাশের এক ভ্যান থেকে সবজি কিনছিলেন একজন ক্রেতা। জানতে চাইলে তিনি ব্যাগ উঁচিয়ে বলেন, দেখুন, এককেজি করে পটোল, ঢ্যাঁড়স ও বরবটি কিনেছি। সবগুলোর দামই ১০০ টাকা কেজি। এই সবজি দিয়ে আমার পরিবারের তিন-চারদিন যাবে না। তাহলে সবজির পেছনে যদি সপ্তাহে এত খরচ করি, তাহলে মাছ, মাংস খাবো কীভাবে?
তিনি বলেন, এখন কিন্তু গ্রীষ্মের এসব সবজির দাম এত হওয়া কোনোভাবে মানা যায় না। এগুলো অন্যান্য বছর ৪০-৫০ টাকার মধ্যে থাকতো। এবার একদম ব্যতিক্রম।
এদিকে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম।
শাহজাহানপুর কলনী বাজারের বিক্রেতা মনু মিয়া বলেন, ভোরবেলা কারওয়ান বাজারের যে পরিমাণ সবজির সরবরাহ হয়, তার চেয়ে চাহিদা বেশি।
তিনি বলেন, বেশি দামে সবজি কিনে তো আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারি না। আমাদেরও দামের কারণে সব সবজি অল্প অল্প করে কিনতে হচ্ছে। এতে বিক্রি ও লাভ কমেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। শুধু আলুর দাম ২৫ টাকা এবং পেঁপে ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে।
বাজারে নতুন আসা বেগুন মান ও জাতভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। এছাড়া পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙা, শিম, সজনে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাকরোল, করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে কম রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৮০ ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক। পাশাপাশি কিছুটা কমতে শুরু করেছে সোনালি মুরগির দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ৪৫০ টাকায় উঠেছিল।
এছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
বাজারে গেলো ঈদে বেড়ে যাওয়া গরুর মাংসের দাম এখনো কমেনি। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা দরে। তবে দরদাম করে অনেক দোকানে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেও কেনা যাচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

কমছে মুরগির দাম, বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে

আপডেট সময় ১১:৩০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বাজারে আলু, পেঁপে ও গাজর ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে। এমনকি গ্রীষ্মের সবজি বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়সের দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক অন্য বছরের ভরা মৌসুমের দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সবজি কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা। অনেকেই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় খরচ মেলাতে পারছেন না এক সপ্তাহের সবজির চাহিদা।
শাহজাহানপুর কলনী বাজারের পাশের এক ভ্যান থেকে সবজি কিনছিলেন একজন ক্রেতা। জানতে চাইলে তিনি ব্যাগ উঁচিয়ে বলেন, দেখুন, এককেজি করে পটোল, ঢ্যাঁড়স ও বরবটি কিনেছি। সবগুলোর দামই ১০০ টাকা কেজি। এই সবজি দিয়ে আমার পরিবারের তিন-চারদিন যাবে না। তাহলে সবজির পেছনে যদি সপ্তাহে এত খরচ করি, তাহলে মাছ, মাংস খাবো কীভাবে?
তিনি বলেন, এখন কিন্তু গ্রীষ্মের এসব সবজির দাম এত হওয়া কোনোভাবে মানা যায় না। এগুলো অন্যান্য বছর ৪০-৫০ টাকার মধ্যে থাকতো। এবার একদম ব্যতিক্রম।
এদিকে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম।
শাহজাহানপুর কলনী বাজারের বিক্রেতা মনু মিয়া বলেন, ভোরবেলা কারওয়ান বাজারের যে পরিমাণ সবজির সরবরাহ হয়, তার চেয়ে চাহিদা বেশি।
তিনি বলেন, বেশি দামে সবজি কিনে তো আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারি না। আমাদেরও দামের কারণে সব সবজি অল্প অল্প করে কিনতে হচ্ছে। এতে বিক্রি ও লাভ কমেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। শুধু আলুর দাম ২৫ টাকা এবং পেঁপে ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে।
বাজারে নতুন আসা বেগুন মান ও জাতভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। এছাড়া পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙা, শিম, সজনে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাকরোল, করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে কম রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৮০ ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক। পাশাপাশি কিছুটা কমতে শুরু করেছে সোনালি মুরগির দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ৪৫০ টাকায় উঠেছিল।
এছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
বাজারে গেলো ঈদে বেড়ে যাওয়া গরুর মাংসের দাম এখনো কমেনি। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা দরে। তবে দরদাম করে অনেক দোকানে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেও কেনা যাচ্ছে।