ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

সিরাজদিখানে সরকারি চাকরিজীবী দম্পতির ‘অবৈধ সম্পদের পাহাড়

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক সরকারি চাকরিজীবী দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস শুকুর আহমদ এবং তার স্ত্রী ইছাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার। সরেজমিনে তদন্ত করে জানা গেছে গত কয়েক বছরে দম্পতি উপজেলার নিমতলা এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কসংলগ্ন কাদিশাল ও হাজিগাঁও মৌজায় অবস্থিত সুখের ঠিকানা হাউজিং লিমিটেডের একাধিক প্লট ক্রয় করেন। দলিল ও নামজারির নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে দুটি, ২০২২ সালে আরও দুটি এবং ২০২৬ সালে মিনারা আক্তারের নামে আরও একটি প্লট কেনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ শহরের জরিনা কমপ্লেক্সে একটি দোকান, কাচারি এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী, এসব সম্পদের সম্মিলিত মূল্য কয়েক কোটি টাকা। পাশাপাশি তাদের দুই সন্তান ঢাকার ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে এবং এ খাতে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে এলাকাবাসীর। তদন্তে আরো উঠে এসেছে, আব্দুস শুকুর আহমদ চাকরি জীবন শুরু করেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিয়ন পদে। পরে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী এবং বর্তমানে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সিরাজদিখান উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ভূমির নামজারি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাবশালী একটি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুযোগ নেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একই সঙ্গে সরকারি লিজের ২১ শতক জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের বিষয় তিনি স্বীকার করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুস শুকুর আহমেদ সদর উপজেলার ভিটিহোগলা গ্রামের বাসিন্দা। বিয়ের পর তিনি ইছাপুরা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রতিবেদকের হাতে নামজারীর আবেদনের কপি, ডিসিআর ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস শুকুর আহমদ মুঠোফোনে বলেন, যদি কোনো বিষয়ে জানার থাকে, অফিসে এসে কথা বলেন। সামনাসামনি আলাপ করব। স্বামী ও স্ত্রীর দু’জনের নামে ২১শত সরকারি জমি লীজ বরাদ্ধ নিয়ে বসত ভিটা গড়ে তুলেছেন, তার বিষয়ে কথা বললে শুক্কু আহমদ বলেন লিজ নিয়েছি দুজনের নামে আলাদা কথা থাকলে অফিসে আসেন এই বলেই ফোন কেটে দেন। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা ঘোষ জানান, আব্দুস শুকুরের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ করলো। তার এত সম্পদের বিষয় তিনি কিছুই জানেন না। তবে অফিসে বর্তমানে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

সিরাজদিখানে সরকারি চাকরিজীবী দম্পতির ‘অবৈধ সম্পদের পাহাড়

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক সরকারি চাকরিজীবী দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস শুকুর আহমদ এবং তার স্ত্রী ইছাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার। সরেজমিনে তদন্ত করে জানা গেছে গত কয়েক বছরে দম্পতি উপজেলার নিমতলা এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কসংলগ্ন কাদিশাল ও হাজিগাঁও মৌজায় অবস্থিত সুখের ঠিকানা হাউজিং লিমিটেডের একাধিক প্লট ক্রয় করেন। দলিল ও নামজারির নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে দুটি, ২০২২ সালে আরও দুটি এবং ২০২৬ সালে মিনারা আক্তারের নামে আরও একটি প্লট কেনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ শহরের জরিনা কমপ্লেক্সে একটি দোকান, কাচারি এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী, এসব সম্পদের সম্মিলিত মূল্য কয়েক কোটি টাকা। পাশাপাশি তাদের দুই সন্তান ঢাকার ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে এবং এ খাতে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে এলাকাবাসীর। তদন্তে আরো উঠে এসেছে, আব্দুস শুকুর আহমদ চাকরি জীবন শুরু করেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিয়ন পদে। পরে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী এবং বর্তমানে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সিরাজদিখান উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ভূমির নামজারি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাবশালী একটি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুযোগ নেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একই সঙ্গে সরকারি লিজের ২১ শতক জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের বিষয় তিনি স্বীকার করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুস শুকুর আহমেদ সদর উপজেলার ভিটিহোগলা গ্রামের বাসিন্দা। বিয়ের পর তিনি ইছাপুরা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রতিবেদকের হাতে নামজারীর আবেদনের কপি, ডিসিআর ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস শুকুর আহমদ মুঠোফোনে বলেন, যদি কোনো বিষয়ে জানার থাকে, অফিসে এসে কথা বলেন। সামনাসামনি আলাপ করব। স্বামী ও স্ত্রীর দু’জনের নামে ২১শত সরকারি জমি লীজ বরাদ্ধ নিয়ে বসত ভিটা গড়ে তুলেছেন, তার বিষয়ে কথা বললে শুক্কু আহমদ বলেন লিজ নিয়েছি দুজনের নামে আলাদা কথা থাকলে অফিসে আসেন এই বলেই ফোন কেটে দেন। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা ঘোষ জানান, আব্দুস শুকুরের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ করলো। তার এত সম্পদের বিষয় তিনি কিছুই জানেন না। তবে অফিসে বর্তমানে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করেন।