ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দৌলতপুরে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিশাল জনসভা Logo কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনে তা-ব Logo খুলনায় জাতীয় যুব দিবস পালিত Logo টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত মূলহোতা গ্রেপ্তার Logo সালথায় চীনা যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কলেজছাত্রীকে বিয়ে করায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি Logo মীরসরাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন Logo পৌলী বুলবুল ক্লাবের আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ Logo লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক Logo পাহাড় কেটে সাতটি স্থাপনা, চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বাড়িঘর ও মুরগির খামার নির্মাণের অভিযোগ Logo কুড়িগ্রামের কচাকাটা কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্যই ‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতি চান এরশাদ

শেষ বয়সে সম্মানের জন্যই মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি চান এরশাদুর রহমান(৭৬)। আকুতি জানান মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে দাফন করার। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের মরহুম মাস্টার হোসেনের ছোট পুত্র। কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসুস্থ্য এরশাদুর রহমান এ প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ করেন, তিন লাখ টাকা দিতে না পারায় তাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। রোববার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এরশাদুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে ভারতের ত্রিপুরা মুহুরী ট্রানজিট ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় তাঁর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা পেয়ার আহম্মেদ, আবদুর রাজ্জাক, গুলজার মিয়া, গোরফান মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, গুণবতী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন চেয়ারম্যান ও জগন্নাথের মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান তাঁকে সেখানে দেখেছেন। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা গুলজার মিয়া, গোরফান মিয়া, সিরাজুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৫৫ বছর অতিক্রম হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। দীর্ঘদিনেও স্বীকৃতি না পেয়ে এরশাদুর রহমান ২০১৫ সালে মহামান্য আদালতে রিট পিটিশন(নং-৯৬৮৭/২০১৫) দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি নিস্পত্তির লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে যাচাই করে মতামত প্রদানের জন্য ইউএনওকে পত্র দেন। এছাড়াও ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার কার্যালয়ে ৩-৫ জন সহযোদ্ধাসহ উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। ওই দিন ভাতাভোগী আলকরা ইউনিয়নের ভাজনকরা গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা পেয়ার আহম্মেদ ও আলকরা গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এরশাদুর রহমানকে ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুহুরী ট্রানজিট ক্যাম্প ও চোত্তাখোলা ক্যাম্পে খাদ্য ভান্ডারের স্টোর কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন। সহযোদ্ধা অন্য ইউনিয়নের স্বাক্ষী দিতে পারবে না মর্মে নিয়ম থাকায় এরশাদুর রহমান পাশ^বর্তী গুণবতী ও জগন্নাথ ইউনিয়নের সহযোদ্ধাদের হাজির করেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউএনও এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের সিনিয়র মুক্তিযোদ্ধা বাবু প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী, শৈলপতি নন্দন বাবু চৌধুরী, আবুল হাশেম, সামছুল হকের নিকট মতামত চাইলে উনারা বলে, আমি মুক্তিযোদ্ধা নই। ওনারা আমার এলাকা বা পাশ^বর্তী গুনবতী এলাকার কোন মুক্তিযোদ্ধার কথাও শুনেননি। সমাজসেবা কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুইজন স্বাক্ষী উপস্থিত হলেও তারা আমাকে মুক্তিযুদ্ধকালিন মুহুরী ট্রানজিট ক্যাম্পে দেখার লিখিত তথ্য উপস্থাপন করেছে। এরপরও স্বীকৃতি না পেয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের তৎকালিন উপ-পরিচালক শাহ আলমের সাথে সাক্ষাত করেন। তখন উপ-পরিচালকের প্রধান সহকারী(নাম জানা নেই) এরশাদুর রহমানের নিকট তিন লক্ষ টাকা দাবি করে। ওই সময় তিন লক্ষ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এরশাদুর রহমান আরও বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শারিরীক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছি। প্রায় সময় ডাক্তারের তত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হয়। আমি চাই, মৃত্যুর পর যেন আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে দাফন করা হয়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘লিখিত আবেদন পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আবেদনটি পাঠানো হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পূনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে’।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিশাল জনসভা

মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্যই ‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতি চান এরশাদ

আপডেট সময় ০২:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শেষ বয়সে সম্মানের জন্যই মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি চান এরশাদুর রহমান(৭৬)। আকুতি জানান মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে দাফন করার। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের মরহুম মাস্টার হোসেনের ছোট পুত্র। কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসুস্থ্য এরশাদুর রহমান এ প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ করেন, তিন লাখ টাকা দিতে না পারায় তাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। রোববার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এরশাদুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে ভারতের ত্রিপুরা মুহুরী ট্রানজিট ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় তাঁর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা পেয়ার আহম্মেদ, আবদুর রাজ্জাক, গুলজার মিয়া, গোরফান মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, গুণবতী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন চেয়ারম্যান ও জগন্নাথের মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান তাঁকে সেখানে দেখেছেন। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা গুলজার মিয়া, গোরফান মিয়া, সিরাজুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৫৫ বছর অতিক্রম হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। দীর্ঘদিনেও স্বীকৃতি না পেয়ে এরশাদুর রহমান ২০১৫ সালে মহামান্য আদালতে রিট পিটিশন(নং-৯৬৮৭/২০১৫) দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি নিস্পত্তির লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে যাচাই করে মতামত প্রদানের জন্য ইউএনওকে পত্র দেন। এছাড়াও ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার কার্যালয়ে ৩-৫ জন সহযোদ্ধাসহ উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। ওই দিন ভাতাভোগী আলকরা ইউনিয়নের ভাজনকরা গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা পেয়ার আহম্মেদ ও আলকরা গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এরশাদুর রহমানকে ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুহুরী ট্রানজিট ক্যাম্প ও চোত্তাখোলা ক্যাম্পে খাদ্য ভান্ডারের স্টোর কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন। সহযোদ্ধা অন্য ইউনিয়নের স্বাক্ষী দিতে পারবে না মর্মে নিয়ম থাকায় এরশাদুর রহমান পাশ^বর্তী গুণবতী ও জগন্নাথ ইউনিয়নের সহযোদ্ধাদের হাজির করেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউএনও এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের সিনিয়র মুক্তিযোদ্ধা বাবু প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী, শৈলপতি নন্দন বাবু চৌধুরী, আবুল হাশেম, সামছুল হকের নিকট মতামত চাইলে উনারা বলে, আমি মুক্তিযোদ্ধা নই। ওনারা আমার এলাকা বা পাশ^বর্তী গুনবতী এলাকার কোন মুক্তিযোদ্ধার কথাও শুনেননি। সমাজসেবা কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুইজন স্বাক্ষী উপস্থিত হলেও তারা আমাকে মুক্তিযুদ্ধকালিন মুহুরী ট্রানজিট ক্যাম্পে দেখার লিখিত তথ্য উপস্থাপন করেছে। এরপরও স্বীকৃতি না পেয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের তৎকালিন উপ-পরিচালক শাহ আলমের সাথে সাক্ষাত করেন। তখন উপ-পরিচালকের প্রধান সহকারী(নাম জানা নেই) এরশাদুর রহমানের নিকট তিন লক্ষ টাকা দাবি করে। ওই সময় তিন লক্ষ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এরশাদুর রহমান আরও বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শারিরীক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছি। প্রায় সময় ডাক্তারের তত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হয়। আমি চাই, মৃত্যুর পর যেন আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে দাফন করা হয়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘লিখিত আবেদন পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আবেদনটি পাঠানো হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পূনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে’।