ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo গিয়াস কামাল চৌধুরীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আজ Logo বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন Logo ‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী Logo বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন Logo আমরা যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. শফিকুর রহমান এমপি Logo অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মদিন আজ Logo সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত প্রবারণা পূর্ণিমা Logo জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির

কপোতাক্ষের তীরে পলিথিনের খাঁচা প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের বেঁচে থাকার আকুতি

বেড়িবাঁধের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বস্তা আর পলিথিনের জটলাটিকে দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এটি কোনো মানুষের বাসস্থান। ভেতরে ঢুকে চোখ থমকে যায়। চারদিকে ছেঁড়া কাপড় ও প্লাস্টিকের বস্তার দেয়াল, ওপরে নামমাত্র পলিথিনের চাল। দরজার জায়গায় ঝুলছে একটি কালো কাপড়ের পর্দা। খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণের জনপদ কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চোরামুখা খেয়াঘাট এলাকায় কপোতাক্ষ নদের পাড়েই এভাবে চরম ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটছে এক অসহায় মা ও মেয়ের। মানসিক প্রতিবন্ধী মোছিনা বেগম(৫৬) এবং তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে মিনারা খাতুন(৩১) দুই প্রতিবন্ধী মানুষের এই সংসারে বছরের পর বছর ধরে নেই কোনো উপার্জনের পথ। মিনারা যখন মায়ের গর্ভে, তখনই তাঁদের ফেলে চলে যান মোছিনার স্বামী। সেই থেকে দুই দশকে কপোতাক্ষের জল বহু দূর গড়ালেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি তাঁদের। বর্ষায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে মাথার ওপরের পলিথিন গলে ঝরে পানি, ভিজে একাকার হয় ঝুপড়ির ভেতরটা। জল-কাদায় সিক্ত সেই সংকীর্ণ জায়গায় বসা বা ঘুমানোর মতো শুকনো এক চিলতে জায়গাও অবশিষ্ট থাকে না। সারারাত জিনিসপত্র এক জায়গায় দলা পাকিয়ে ভিজেই পার করতে হয় তাঁদের। অন্যদিকে চৈত্র-বোশেখের তীব্র রোদে পলিথিনের নিচে তৈরি হয় অসহনীয় এক হাঁসফাঁস পরিবেশ। সহায়তার নামে মোছিনা বেগমের ঝুলিতে রয়েছে কেবল একটি সরকারি বিধবা ভাতার কার্ড। কিন্তু নিত্যপণ্যের চড়া বাজারের যুগে সেই সামান্য ভাতার টাকায় তিন বেলার আহার সংস্থান দূরে থাক, দিনকয়েকের চাল-ডাল কেনাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবেশীদের সহানুভূতি আর টুকটাক সাহায্যেই থমকে থমকে চলে তাঁদের জীবনের গাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “তাঁদের নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি নেই। বাধ্য হয়েই বেড়িবাঁধের ওপর এভাবে পড়ে আছেন। বিষয়টি অনেকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও আজও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাঁদের অন্তত মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ দরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই অসহায় মা-মেয়ের জন্য সরকারি উপহারের ঘর বা টেকসই আবাসনের ব্যবস্থা করতে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেব।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। পরিবারটির দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করা এই মা-মেয়ের চাওয়া এখন একটাই—একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল আশ্বাস নয়, দ্রুত সরকারি ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ কিংবা কোনো সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় একটি নিরাপদ বাসস্থানই পারে এই অসহায় পরিবারটির মুখে শান্তির হাসি ফোটাতে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস কামাল চৌধুরীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আজ

কপোতাক্ষের তীরে পলিথিনের খাঁচা প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের বেঁচে থাকার আকুতি

আপডেট সময় ০২:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বেড়িবাঁধের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বস্তা আর পলিথিনের জটলাটিকে দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এটি কোনো মানুষের বাসস্থান। ভেতরে ঢুকে চোখ থমকে যায়। চারদিকে ছেঁড়া কাপড় ও প্লাস্টিকের বস্তার দেয়াল, ওপরে নামমাত্র পলিথিনের চাল। দরজার জায়গায় ঝুলছে একটি কালো কাপড়ের পর্দা। খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণের জনপদ কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চোরামুখা খেয়াঘাট এলাকায় কপোতাক্ষ নদের পাড়েই এভাবে চরম ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটছে এক অসহায় মা ও মেয়ের। মানসিক প্রতিবন্ধী মোছিনা বেগম(৫৬) এবং তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে মিনারা খাতুন(৩১) দুই প্রতিবন্ধী মানুষের এই সংসারে বছরের পর বছর ধরে নেই কোনো উপার্জনের পথ। মিনারা যখন মায়ের গর্ভে, তখনই তাঁদের ফেলে চলে যান মোছিনার স্বামী। সেই থেকে দুই দশকে কপোতাক্ষের জল বহু দূর গড়ালেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি তাঁদের। বর্ষায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে মাথার ওপরের পলিথিন গলে ঝরে পানি, ভিজে একাকার হয় ঝুপড়ির ভেতরটা। জল-কাদায় সিক্ত সেই সংকীর্ণ জায়গায় বসা বা ঘুমানোর মতো শুকনো এক চিলতে জায়গাও অবশিষ্ট থাকে না। সারারাত জিনিসপত্র এক জায়গায় দলা পাকিয়ে ভিজেই পার করতে হয় তাঁদের। অন্যদিকে চৈত্র-বোশেখের তীব্র রোদে পলিথিনের নিচে তৈরি হয় অসহনীয় এক হাঁসফাঁস পরিবেশ। সহায়তার নামে মোছিনা বেগমের ঝুলিতে রয়েছে কেবল একটি সরকারি বিধবা ভাতার কার্ড। কিন্তু নিত্যপণ্যের চড়া বাজারের যুগে সেই সামান্য ভাতার টাকায় তিন বেলার আহার সংস্থান দূরে থাক, দিনকয়েকের চাল-ডাল কেনাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবেশীদের সহানুভূতি আর টুকটাক সাহায্যেই থমকে থমকে চলে তাঁদের জীবনের গাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “তাঁদের নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি নেই। বাধ্য হয়েই বেড়িবাঁধের ওপর এভাবে পড়ে আছেন। বিষয়টি অনেকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও আজও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাঁদের অন্তত মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ দরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই অসহায় মা-মেয়ের জন্য সরকারি উপহারের ঘর বা টেকসই আবাসনের ব্যবস্থা করতে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেব।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। পরিবারটির দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করা এই মা-মেয়ের চাওয়া এখন একটাই—একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল আশ্বাস নয়, দ্রুত সরকারি ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ কিংবা কোনো সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় একটি নিরাপদ বাসস্থানই পারে এই অসহায় পরিবারটির মুখে শান্তির হাসি ফোটাতে।