ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট Logo সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী Logo মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার Logo বিএনপি সব সময় ইসলামের পথে থাকে-আমান উল্লাহ আমান Logo জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo তারাকান্দায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা Logo চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলো সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি Logo উত্তরের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ইলিশ Logo কালীগঞ্জে দারিদ্র্যতা হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভবন দখলের পাঁয়তারা

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভাবীর মোড় সংলগ্নে ‘সাহাব উদ্দিন মার্কেট’ নামক ভবন জোর করে দখল করে ও ভাড়াটিয়াদের থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন ইছাখালী ইউনিয়নের বাড়িয়াখালী গ্রামের মৃত মফিজ এর সন্তান শওকত আকবর সোহাগ ও তার ভাই শামীম আকবর। এবিষয়ে চলতি বছরের ৮ জুলাই জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী সাহাব উদ্দিন এর স্ত্রী নাছিমা আক্তার। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ইছাখালী মৌজার বিএস দাগ নং ১৩৯০৫ ও খতিয়ান নং ৫১২৬ এর প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গার উপর ২০২২ সালে একটি দোতলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে সকল ভাড়াটিয়াদের সাথে চুক্তি করে ভাড়া আদায় করে সাহাব উদ্দিন। কিন্তু গত বছর খানেক আগে সাহাব উদ্দীন ব্রেন স্ট্রোক করলে কয়েক মাস ভাড়াটিয়াদের থেকে ভাড়া উত্তোলন বিলম্বিত হয়। এই সুযোগে প্রভাবশালী যুবদল নেতা শওকত আকবর সোহাগ ও তার ভাই শামীম আকবর ভবনটি কিনে ফেলছে এই মর্মে ভাড়া আদায় শুরু করে। দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে ভাড়াটিয়ারা তাদের ভাড়া দিতে বাধ্য হয়। ভাড়া না দিলে দোকানদারদের বের করে দেয়ার হুমকি ধামকি প্রদান করে। এছাড়া গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া তুলতে গেলে ভুক্তভোগী সাহাব উদ্দিন এর স্ত্রী নাছিমা আক্তার কে গালিগালাজ ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগের বাদী নাছিমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বয়স্ক মানুষ। দীর্ঘ সময় প্রবাসী ছিলেন। তিনি তার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে তার বাপ দাদার সম্পত্তির উপর দোতলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে। ভবন নির্মাণের সকল প্রকার কাগজপত্র রয়েছে। সম্প্রতি আমরা স্বামী ব্রেন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভবনটি দখলের পাঁয়তারা করে দলিল লিখক শামীম আকবর ও তার ভাই যুবদল নেতা শওকত আকবর। তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার দাপটে আমার স্বামীর বাপ দাদার আমলের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। কিছুদিন পর পর আমাদেরকে হুমকি প্রদান করতো। ঘটনা কাউকে জানালে আমার স্বামী সন্তানকে মেরে পেলবে। তারা দোকানের ভাড়া জোরপূর্বক নিয়ে যেতো, এখন তারা আমাদের চুক্তি করা ভাড়াটিয়াদের বের করে নিজেদের লোকের কাছে দোকান ভাড়া দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে আমরা জোরারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছি এবং আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন কে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। আমরা এর উপযুক্ত বিচারের দাবি করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাড়াটিয়া ওবায়দুল বলেন, আমরা সাহাব উদ্দিন থেকে চুক্তির মাধ্যমে দোকান ভাড়া নিয়েছি। শুরু থেকে উনাকে ভাড়া দিয়ে আসছি। বছর খানেক আগে শামীম আকবর তাদের থেকে ভাড়া আদায় করতে আসে এবং তারা ভবনটি ক্রয় করেছে বলে জানান। উল্লেখ্য তারা জোরপূর্বক আরো দুই লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে যায়। উক্ত মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, আমি কিছু দিন আগে আড়াই লাখ টাকা সালামি দিয়ে শামীম আকবর এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দোকানটি ব্যবসায়ের জন্য নিই। এর আগে জসিম উদ্দীন নামে যার কাছে দোকান ছিলো সে শামিম আকবরকে ভাড়া দিতে বলেছে। জসিম উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শামীম আকবর হচ্ছে শওকত আকবর সোহাগের ভাই, ওখানে তাদের কথায় সব চলে। শওকত আকবর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। তাদের কথা মতো কাজ না করলে প্রাণ নাশের ভয় আছে, নিরুপায় হয়ে আমি দোকান ছেড়ে এসেছি। আরেক ব্যবসায়ী মিয়া সওদাগর প্রকাশ মিয়ন জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই মার্কেটে ব্যবসা করে আসছি। আমরা দোকান নিয়েছি সাহাব উদ্দিন থেকে। কিন্তু বছর খানেক আগে শামীম আকবর মার্কেটটি ক্রয় করেছে বলে ভাড়া আদায় করতে আসে। সাহাব উদ্দিন না আসাতে আমরা তাকে ভাড়া প্রদান করি। এবিষয়ে অভিযুক্ত শামীম আকবর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা ক্রয় সূত্রে জায়গার মালিক।
১৯৮৫ সালে আমার বাবা জায়গা ক্রয় করেছে। নামজারি আমাদের নামে এবং দলিল আছে আমাদের কাছে। কিন্তু তারা জায়গাটি জোর করে দখল করে রাতারাতি ভবন নির্মাণ করে ফেলেছে। আমি গত দেড় বছর যাবত ভাড়া আদায় করতেছি। এবিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, ভবন দখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে? ভুক্তভোগী পরিবার। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। কোন ব্যক্তি আইনের উর্ধ্বে নয়। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভবন দখলের পাঁয়তারা

আপডেট সময় ১১:৫৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভাবীর মোড় সংলগ্নে ‘সাহাব উদ্দিন মার্কেট’ নামক ভবন জোর করে দখল করে ও ভাড়াটিয়াদের থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন ইছাখালী ইউনিয়নের বাড়িয়াখালী গ্রামের মৃত মফিজ এর সন্তান শওকত আকবর সোহাগ ও তার ভাই শামীম আকবর। এবিষয়ে চলতি বছরের ৮ জুলাই জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী সাহাব উদ্দিন এর স্ত্রী নাছিমা আক্তার। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ইছাখালী মৌজার বিএস দাগ নং ১৩৯০৫ ও খতিয়ান নং ৫১২৬ এর প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গার উপর ২০২২ সালে একটি দোতলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে সকল ভাড়াটিয়াদের সাথে চুক্তি করে ভাড়া আদায় করে সাহাব উদ্দিন। কিন্তু গত বছর খানেক আগে সাহাব উদ্দীন ব্রেন স্ট্রোক করলে কয়েক মাস ভাড়াটিয়াদের থেকে ভাড়া উত্তোলন বিলম্বিত হয়। এই সুযোগে প্রভাবশালী যুবদল নেতা শওকত আকবর সোহাগ ও তার ভাই শামীম আকবর ভবনটি কিনে ফেলছে এই মর্মে ভাড়া আদায় শুরু করে। দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে ভাড়াটিয়ারা তাদের ভাড়া দিতে বাধ্য হয়। ভাড়া না দিলে দোকানদারদের বের করে দেয়ার হুমকি ধামকি প্রদান করে। এছাড়া গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া তুলতে গেলে ভুক্তভোগী সাহাব উদ্দিন এর স্ত্রী নাছিমা আক্তার কে গালিগালাজ ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগের বাদী নাছিমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বয়স্ক মানুষ। দীর্ঘ সময় প্রবাসী ছিলেন। তিনি তার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে তার বাপ দাদার সম্পত্তির উপর দোতলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে। ভবন নির্মাণের সকল প্রকার কাগজপত্র রয়েছে। সম্প্রতি আমরা স্বামী ব্রেন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভবনটি দখলের পাঁয়তারা করে দলিল লিখক শামীম আকবর ও তার ভাই যুবদল নেতা শওকত আকবর। তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার দাপটে আমার স্বামীর বাপ দাদার আমলের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। কিছুদিন পর পর আমাদেরকে হুমকি প্রদান করতো। ঘটনা কাউকে জানালে আমার স্বামী সন্তানকে মেরে পেলবে। তারা দোকানের ভাড়া জোরপূর্বক নিয়ে যেতো, এখন তারা আমাদের চুক্তি করা ভাড়াটিয়াদের বের করে নিজেদের লোকের কাছে দোকান ভাড়া দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে আমরা জোরারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছি এবং আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন কে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। আমরা এর উপযুক্ত বিচারের দাবি করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাড়াটিয়া ওবায়দুল বলেন, আমরা সাহাব উদ্দিন থেকে চুক্তির মাধ্যমে দোকান ভাড়া নিয়েছি। শুরু থেকে উনাকে ভাড়া দিয়ে আসছি। বছর খানেক আগে শামীম আকবর তাদের থেকে ভাড়া আদায় করতে আসে এবং তারা ভবনটি ক্রয় করেছে বলে জানান। উল্লেখ্য তারা জোরপূর্বক আরো দুই লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে যায়। উক্ত মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, আমি কিছু দিন আগে আড়াই লাখ টাকা সালামি দিয়ে শামীম আকবর এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দোকানটি ব্যবসায়ের জন্য নিই। এর আগে জসিম উদ্দীন নামে যার কাছে দোকান ছিলো সে শামিম আকবরকে ভাড়া দিতে বলেছে। জসিম উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শামীম আকবর হচ্ছে শওকত আকবর সোহাগের ভাই, ওখানে তাদের কথায় সব চলে। শওকত আকবর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। তাদের কথা মতো কাজ না করলে প্রাণ নাশের ভয় আছে, নিরুপায় হয়ে আমি দোকান ছেড়ে এসেছি। আরেক ব্যবসায়ী মিয়া সওদাগর প্রকাশ মিয়ন জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই মার্কেটে ব্যবসা করে আসছি। আমরা দোকান নিয়েছি সাহাব উদ্দিন থেকে। কিন্তু বছর খানেক আগে শামীম আকবর মার্কেটটি ক্রয় করেছে বলে ভাড়া আদায় করতে আসে। সাহাব উদ্দিন না আসাতে আমরা তাকে ভাড়া প্রদান করি। এবিষয়ে অভিযুক্ত শামীম আকবর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা ক্রয় সূত্রে জায়গার মালিক।
১৯৮৫ সালে আমার বাবা জায়গা ক্রয় করেছে। নামজারি আমাদের নামে এবং দলিল আছে আমাদের কাছে। কিন্তু তারা জায়গাটি জোর করে দখল করে রাতারাতি ভবন নির্মাণ করে ফেলেছে। আমি গত দেড় বছর যাবত ভাড়া আদায় করতেছি। এবিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, ভবন দখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে? ভুক্তভোগী পরিবার। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। কোন ব্যক্তি আইনের উর্ধ্বে নয়। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।