ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেও বিক্ষোভ ছাড়ছে না সিজেপি, আরও তিন শর্তে আল্টিমেটাম

ভারতের ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র তার পদত্যাগের কথা ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আরও তিনটি দাবি রয়েছে। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এনিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করলেও এখনই তেলাপোকারা (বিক্ষোভকারী) বিক্ষোভস্থল থেকে চলে যাবে না। এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের খবরের পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে এমনটাই বলেছেন অভিজিৎ।পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপি লিখেছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ সম্পন্ন, এখন নিটের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি রুপি দিতে হবে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। তৃতীয় দাবি হলো, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং দিল্লি পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এদিকে ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের খবরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিজয়-উল্লাস করছেন। সেই সঙ্গে দেশটির অনেক মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, এটি ভারতের গণতন্ত্রের বড় জয়। এ ছাড়া চলমান এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনাম ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, এটি গনতন্ত্রের বিজয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে ২০২৬ (শুক্রবার) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছিল। এ সময় আদালতে আইনজীবীদের আচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঞযবৎব ধৎব ুড়ঁহমংঃবৎং ষরশব পড়পশৎড়ধপযবং, যিড় ফড়হ’ঃ মবঃ ধহু বসঢ়ষড়ুসবহঃ ড়ৎ যধাব ধহু ঢ়ষধপব রহ ঃযব ঢ়ৎড়ভবংংরড়হ. ঝড়সব ড়ভ ঃযবস নবপড়সব সবফরধ, ংড়সব ড়ভ ঃযবস নবপড়সব ংড়পরধষ সবফরধ, জঞও ধপঃরারংঃং ধহফ ড়ঃযবৎ ধপঃরারংঃং, ধহফ ঃযবু ংঃধৎঃ ধঃঃধপশরহম বাবৎুড়হব. (কিছু তরুণ আছে যারা তেলাপোকার মতো, যারা কোনো চাকরি পায় না বা কোনো পেশায় জায়গা পায় না। তাদের কেউ কেউ গণমাধ্যম, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া, আরটিআই (তথ্য অধিকার) কর্মী বা অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে ওঠে এবং সব ব্যবস্থার (সবার) ওপর আক্রমণ করা শুরু করে।) এ মন্তব্যকে বিচারবিভাগে মোদির ফ্যাসিবাদের ছায়া পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতের প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষুব্ধ তরুণ ও ‘তেলাপোকারা’ সংগঠিত হয়েছে অভিজিৎ দিপকে নামক ৩০ বছর বয়সী এক তরুণ রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টের ডাকে। জেন-জি (এবহ ত) তরুণদের ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারতের তরুণরা টাকার বিনিময়ে মোদির কাছে বিক্রি হওয়া রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংসদ সদস্যদের ওপর ভরসা করতে পারছেন না। তাদের যেকে নো সমস্যার সমাধানে এখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে প্ল্যাটফরম হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছে।
কেন এবারের ক্ষোভের আগুন : মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (ঘঊঊঞ-টএ) এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার ফ্যাসিবাদী শাসনের অংশ হিসেবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে তার পছন্দের শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যবস্থা ষড়যন্ত্র করেছিলেন, এ তথ্য ফাঁস হওয়ার পরই ক্ষোভের আগুন সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক) পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (পিবিএস) সূত্রে প্রকাশ, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মেধাবী হাজার হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে বাদ পড়েন। এই হতাশা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি : প্রশ্ন ফাঁসের নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে বর্বরতা : পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন দমন-পীড়নের চিত্র দেখে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মোদি সরকারের এমন আচরণকে স্বৈরাচারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মিছিলে জলকামান, টিয়ার শেল এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করা হয়েছে, যাতে শতাধিক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন। যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী তাঁবু পুলিশ গুঁড়িয়ে দেয় এবং ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়।
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন : লাদাখের প্রখ্যাত পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অনশন শুরু করলে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের নির্দেশ : প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত এক শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (ঘঞঅ)-এর পরীক্ষা পরিচালনায় যদি ন্যূনতম গাফিলতিও থাকে, তবে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। ইতোমধ্যে মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল করে জুনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলেও সুপ্রিম কোর্টে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আবেদন করা হয়েছে যেন পুরো এনটিএ (ঘঞঅ) ব্যবস্থার আমূল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার (ওহংঃরঃঁঃরড়হধষ জবভড়ৎস) করা হয়। আদালত জানিয়েছে, পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হলেও এই জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি ও সংস্কারের বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালত খতিয়ে দেখবে।
আদালত আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশি হেফাজত বা সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী : আন্দোলন দমাতে এবং দিল্লির আইনশৃঙ্খলার রাশ টেনে ধরতে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন সর্বাত্মক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (ইঘঝঝ) জারি : দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (উঈচ) নয়াদিল্লি জেলাজুড়ে বিএনএসএস (ইঘঝঝ)-এর ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করেছেন, যার ফলে যেকোনো ধরনের সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও জ্যামার : আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ভিডিও বা ফুটেজ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য পার্লামেন্ট জোনে সিগন্যাল জ্যামার মোতায়েন করা হয়েছে।
কড়া নিরাপত্তা ও এফআইআর : পুরো উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়জুড়ে কয়েক হাজার অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ (টঅচঅ) বা অন্যান্য জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মোদির সাফাই ও বিরোধীদের তীব্র ঝাঁকুনি-চলমান এই উত্তাল পরিস্থিতির মুখে অবশেষে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (ঘউঅ) পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকে তিনি দাবি করেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করেছে। তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেননি।
এদিকে আম আদমি পার্টির (অঅচ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে মোদিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘মোদিজি, এই দেশ আপনার বাপের নয়; হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন, অন্যথায় এ দেশের মানুষ স্বৈরশাসকদের ঐতিহাসিক শিক্ষা দেবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেও বিক্ষোভ ছাড়ছে না সিজেপি, আরও তিন শর্তে আল্টিমেটাম

আপডেট সময় ১০:১২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভারতের ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র তার পদত্যাগের কথা ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আরও তিনটি দাবি রয়েছে। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এনিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করলেও এখনই তেলাপোকারা (বিক্ষোভকারী) বিক্ষোভস্থল থেকে চলে যাবে না। এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের খবরের পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে এমনটাই বলেছেন অভিজিৎ।পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপি লিখেছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ সম্পন্ন, এখন নিটের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি রুপি দিতে হবে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। তৃতীয় দাবি হলো, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং দিল্লি পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এদিকে ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের খবরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিজয়-উল্লাস করছেন। সেই সঙ্গে দেশটির অনেক মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, এটি ভারতের গণতন্ত্রের বড় জয়। এ ছাড়া চলমান এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনাম ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, এটি গনতন্ত্রের বিজয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে ২০২৬ (শুক্রবার) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছিল। এ সময় আদালতে আইনজীবীদের আচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঞযবৎব ধৎব ুড়ঁহমংঃবৎং ষরশব পড়পশৎড়ধপযবং, যিড় ফড়হ’ঃ মবঃ ধহু বসঢ়ষড়ুসবহঃ ড়ৎ যধাব ধহু ঢ়ষধপব রহ ঃযব ঢ়ৎড়ভবংংরড়হ. ঝড়সব ড়ভ ঃযবস নবপড়সব সবফরধ, ংড়সব ড়ভ ঃযবস নবপড়সব ংড়পরধষ সবফরধ, জঞও ধপঃরারংঃং ধহফ ড়ঃযবৎ ধপঃরারংঃং, ধহফ ঃযবু ংঃধৎঃ ধঃঃধপশরহম বাবৎুড়হব. (কিছু তরুণ আছে যারা তেলাপোকার মতো, যারা কোনো চাকরি পায় না বা কোনো পেশায় জায়গা পায় না। তাদের কেউ কেউ গণমাধ্যম, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া, আরটিআই (তথ্য অধিকার) কর্মী বা অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে ওঠে এবং সব ব্যবস্থার (সবার) ওপর আক্রমণ করা শুরু করে।) এ মন্তব্যকে বিচারবিভাগে মোদির ফ্যাসিবাদের ছায়া পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতের প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষুব্ধ তরুণ ও ‘তেলাপোকারা’ সংগঠিত হয়েছে অভিজিৎ দিপকে নামক ৩০ বছর বয়সী এক তরুণ রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টের ডাকে। জেন-জি (এবহ ত) তরুণদের ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারতের তরুণরা টাকার বিনিময়ে মোদির কাছে বিক্রি হওয়া রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংসদ সদস্যদের ওপর ভরসা করতে পারছেন না। তাদের যেকে নো সমস্যার সমাধানে এখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে প্ল্যাটফরম হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছে।
কেন এবারের ক্ষোভের আগুন : মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (ঘঊঊঞ-টএ) এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার ফ্যাসিবাদী শাসনের অংশ হিসেবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে তার পছন্দের শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যবস্থা ষড়যন্ত্র করেছিলেন, এ তথ্য ফাঁস হওয়ার পরই ক্ষোভের আগুন সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক) পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (পিবিএস) সূত্রে প্রকাশ, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মেধাবী হাজার হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে বাদ পড়েন। এই হতাশা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি : প্রশ্ন ফাঁসের নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে বর্বরতা : পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন দমন-পীড়নের চিত্র দেখে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মোদি সরকারের এমন আচরণকে স্বৈরাচারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মিছিলে জলকামান, টিয়ার শেল এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করা হয়েছে, যাতে শতাধিক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন। যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী তাঁবু পুলিশ গুঁড়িয়ে দেয় এবং ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়।
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন : লাদাখের প্রখ্যাত পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অনশন শুরু করলে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের নির্দেশ : প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত এক শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (ঘঞঅ)-এর পরীক্ষা পরিচালনায় যদি ন্যূনতম গাফিলতিও থাকে, তবে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। ইতোমধ্যে মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল করে জুনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলেও সুপ্রিম কোর্টে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আবেদন করা হয়েছে যেন পুরো এনটিএ (ঘঞঅ) ব্যবস্থার আমূল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার (ওহংঃরঃঁঃরড়হধষ জবভড়ৎস) করা হয়। আদালত জানিয়েছে, পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হলেও এই জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি ও সংস্কারের বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালত খতিয়ে দেখবে।
আদালত আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশি হেফাজত বা সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী : আন্দোলন দমাতে এবং দিল্লির আইনশৃঙ্খলার রাশ টেনে ধরতে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন সর্বাত্মক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (ইঘঝঝ) জারি : দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (উঈচ) নয়াদিল্লি জেলাজুড়ে বিএনএসএস (ইঘঝঝ)-এর ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করেছেন, যার ফলে যেকোনো ধরনের সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও জ্যামার : আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ভিডিও বা ফুটেজ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য পার্লামেন্ট জোনে সিগন্যাল জ্যামার মোতায়েন করা হয়েছে।
কড়া নিরাপত্তা ও এফআইআর : পুরো উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়জুড়ে কয়েক হাজার অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ (টঅচঅ) বা অন্যান্য জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মোদির সাফাই ও বিরোধীদের তীব্র ঝাঁকুনি-চলমান এই উত্তাল পরিস্থিতির মুখে অবশেষে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (ঘউঅ) পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকে তিনি দাবি করেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করেছে। তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেননি।
এদিকে আম আদমি পার্টির (অঅচ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে মোদিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘মোদিজি, এই দেশ আপনার বাপের নয়; হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন, অন্যথায় এ দেশের মানুষ স্বৈরশাসকদের ঐতিহাসিক শিক্ষা দেবে।