ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভেঙে পড়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা : অনিয়মকারী ডাক্তার ও স্টাফরা বহাল তবিয়াতে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্যোসাল মিডিয়া ও স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও। গত ২২ জুলাই কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে মাঠে কৃষি কাজ করার সত্যতা মেলে চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ পাওয়ার পর তা আলোচনায় আসে। এরই প্রেক্ষিতে গত রবিবার সকালে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন বলে মত প্রকাশ করেন। তবে বহুল আলোচিত এই ঘটনার পরও ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় সিভিল সার্জন কামরুজ্জামানের নিরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ত্যাগ করার পর হাসপাতালের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে ডাঃ অরুন কুমার দাস নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। এই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া গত ২৫ জুলাই হাসপাতালের ৩ নং প্রশাসনিক কক্ষে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন এবং হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (মালি) মাহবুব রহমানের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহকর্মীদের এই মারামারির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গড়ায় কালীগঞ্জ থানা পর্যন্ত। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হলেও কয়েকদিনে কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো সুরাহা করতে পারেনি। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানউল্লা আল মামুন প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং স্বেচ্ছাচারিতাই এই বেহাল দশার মূল কারণ। হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ দলাদলি ও বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। চিকিৎসকদের খাম খেয়ালিপনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বন্টন এবং দলাদলির কারণে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভেঙে পড়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা : অনিয়মকারী ডাক্তার ও স্টাফরা বহাল তবিয়াতে

আপডেট সময় ০৮:৫১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্যোসাল মিডিয়া ও স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও। গত ২২ জুলাই কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে মাঠে কৃষি কাজ করার সত্যতা মেলে চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ পাওয়ার পর তা আলোচনায় আসে। এরই প্রেক্ষিতে গত রবিবার সকালে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন বলে মত প্রকাশ করেন। তবে বহুল আলোচিত এই ঘটনার পরও ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় সিভিল সার্জন কামরুজ্জামানের নিরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ত্যাগ করার পর হাসপাতালের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে ডাঃ অরুন কুমার দাস নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। এই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া গত ২৫ জুলাই হাসপাতালের ৩ নং প্রশাসনিক কক্ষে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন এবং হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (মালি) মাহবুব রহমানের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহকর্মীদের এই মারামারির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গড়ায় কালীগঞ্জ থানা পর্যন্ত। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হলেও কয়েকদিনে কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো সুরাহা করতে পারেনি। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানউল্লা আল মামুন প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং স্বেচ্ছাচারিতাই এই বেহাল দশার মূল কারণ। হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ দলাদলি ও বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। চিকিৎসকদের খাম খেয়ালিপনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বন্টন এবং দলাদলির কারণে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।